জামায়াত-আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা
জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ২টা ২৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।
.png)
পোস্টে তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আগে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেই পরে নেতৃত্বে এসেছেন। এ ক্ষেত্রে সালাউদ্দীন আম্মারকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির একটি কোরামের সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন উমামা। তার ভাষ্য, এর ফলে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উমামা বলেন, একটি নির্দিষ্ট কোরাম ও শিবিরের হাতে আন্দোলনকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের ভূমিকা নিয়েও তিনি পোস্টে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানান তিনি। উমামার অভিযোগ, পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুলাই আন্দোলনের নামে কৃত্রিম জনসম্মতি তৈরি করছে। তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘ম্যানুফ্যাকচারড ফিগার’ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মিয়ানমারের উদাহরণ টেনে উমামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রেও ফেসবুক কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও মন্তব্য করেন উমামা। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসকে আগে ৫০ বছরের পরিসরে দেখা হলেও জামায়াতের কারণে এখন ব্রিটিশ আমল থেকে ইতিহাসের আলোচনা করতে হচ্ছে।
পোস্টের শেষ দিকে দেশের রাজনীতি ‘একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন উমামা। জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দলটি নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের দায় মুছে ফেলতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
উমামা ফাতেমার এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া মন্তব্য ও অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টা বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।