একটা কালির ব্রাশ দিয়ে সে প্রতিটি জিনিসকে চিহ্নিত করল সেটির নাম দিয়েঃ যেমন টেবিল, চেয়ার, ঘড়ি, দরজা, দেয়াল, বিছানা, পাত্র। তারপর সে খোঁয়াড়ে গেল এবং পশু গাছপালার নাম লিখলঃ গরু, ছাগল, শুকর, মুরগী, ক্যাসাভা, কচুর গাছ, কলা ইত্যাদি।
আস্তে আস্তে স্মৃতি হারানোর অসীম সম্ভাবনা নীরিক্ষা করে সে বুঝতে পারল যে, এমন একদিন আসতে পারে, যেদিন জিনিসপত্রকে শনাক্ত করা হবে তাদের গায়ে উৎকীর্ণ লেখা হতে, তবে তখন কেউই সেগুলোর ব্যবহার বা কাজ কী তা মনে রাখবে না। তখন সে আরও স্পষ্টভাবে সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করল এবং যে সংকেত সে গরুর গলায় ঝুলিয়ে দিলো তা ছিল মাকোন্ডোর অধিবাসীদের জন্যে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতির অনুকরণীয় প্রমাণঃ
.png)
‘এটি হলো গরু। প্রতিদিন সকালে এর দুধ দোহাতে হবে যাতে সে দুধ উৎপন্ন করতে পারে, এবং দুধকে সিদ্ধ ও কফির সাথে মিশ্রিত করতে হবে কফি ও দুধ তৈরি করার জন্যে।’
এভাবেই তারা বসবাস করতে লাগল এমন এক বাস্তবতার ভেতরে যা চুপচাপ পালিয়ে যাচ্ছিল, যাকে তারা শব্দ দিয়ে মুহূর্তের জন্যে ধরে রাখছিল, কিন্তু যা অপ্রত্যাবর্তনীয়ভাবে হারিয়ে যাবে যখন তারা লিখিত শব্দের মূল্য ভুলে যাবে।”