জার তাদের সবাইকে গ্রেফতার করলেন। তারপর একদিন ভোরে তাদের সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললেন যে তাদেরকে মেরে ফেলা হবে। দস্তয়েভস্কি যখন একটা খোলা গাড়িতে করে বন্ধুদের সাথে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জায়গায় যাচ্ছিলেন, তখন একটা অদ্ভুত অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করল। সময় নিয়ে তার মধ্যে মহাসমুদ্রবৎ বিশাল এক অনুভূতি সৃষ্টি হলো। তার কাছে মনে হলো সময়ের সীমারেখা প্রশস্ত হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক মিনিট পর তার মৃত্যু হবে, কিন্তু তিনি অনুভব করলেন যে নিজের দরকারী সকল কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যে তার হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে। তিনি বুঝতে পারলেন যে তাকে বন্ধুদের কাছ হতে শেষবারের মতো বিদায় নিতে হবে। তিনি পূর্ণ সময় নিয়ে ব্যস্ততাহীনভাবে তাদের কাছ হতে বিদায় নিলেন। এই সময়ে বন্ধুদের জন্যে প্রবল ভালোবাসায় তার বুক ফেটে যাচ্ছিল। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পৃথিবীতে তার শেষ সময়গুলো চারপাশের পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে পার করবেন। এটা যখন করছিলেন, তখন তিনি নিজেকে খুঁজে পেলেন শেষবারের মতো কাছের একটা গোলাঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সকালের উজ্জ্বল সূর্যালোক টিনের ছাদের ওপরে পড়ে ঝিকমিক করছিল। হঠাৎ তার কাছে মনে হলো মৃত্যুর পর তিনি কী হবেন। কয়েক মিনিট পর তিনি মরে যাবেন, এবং এই জ্বলজ্বল করা উজ্জ্বল আলোতে পরিণত হবেন। এই জ্ঞান তার মধ্যে এতোটাই উচ্ছ্বাসের আতিশয্য সৃষ্টি করল যে তিনি ভাবলেন এমন অবস্থা যদি আর এক মিনিটও চলতে থাকে তাহলে তিনি আর সহ্য করতে পারবেন না।
ঠিক এরপর জারের ক্যাপ্টেন তাকে বলল যে মৃত্যুদন্ডাদেশের বিষয়টা আসলে একটা কৌতুক ছিল। জার শুধু চেয়েছিলেন তাদেরকে ভয় দেখাতে। তাদেরকে মেরে ফেলা হবে না। এই অভিজ্ঞতার পর দস্তয়েভস্কি চিরকালের জন্যে বদলে গিয়েছিলেন। এটা তাকে তার সত্যিকারের সত্তাকে দেখিয়েছিল, এবং মনেপ্রাণে একজন ভিন্ন মানুষ হিসেবে তিনি অবশিষ্ট জীবন যাপন করেছিলেন।”
.png)