ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

ডানা ঝাপটানো বুনোহাঁসের আত্মা জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে 

সালেহীন শিপ্রা
প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ৮ জুন ২০২৩
ডানা ঝাপটানো বুনোহাঁসের আত্মা জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে 
আহত মনভূমির বনে 

দৃশ্য 

পৃথিবীর সমস্ত পাতা ঝরায় 
তোমার চলে যাওয়ার 
দৃশ্য লেগে আছে...

Advertisement

রুহের কাঙখা থেকে 

তোমারে হারায়ে ফেলছি, লাগে! 
ও শীতলকুমার,
কী অর্থ বহন করে এইসব এড়িয়ে যাওয়া?
দীর্ঘ শীতরাত্রির হিমে
ডানা ঝাপটানো বুনোহাঁসের আত্মা জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে।
তার বাঁচার আকুতিশ্বাস
কুয়াশায় মিশে আরও কুয়াশাঘন...
মৃত্যুর আগে এই যে মৃত্যুসম স্বাদ 
তোমার শীতলতা না ছুঁলে পাওয়াই হতো না।
কী নিঠুর এড়ানো তোমার
দিগন্তজোড়া পাইনবন বধিরতার সমুদ্র এক
এমনকি বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দটাও  
রেখে যাও নাই !
ঘ্রাণহীন, স্বাদহীন প্রান্তরের শীতে
দ্বিতীয় মৃত্যুর ব্যথা হো হো হাসছে, ব্যঙ্গ করছে,
বলছে,
-খুব তো নিজেকে সামলে সরে ছিলি,
 ফের তবু যাতনার কাছে সেই ফিরতেই হলো!

এ ফেরা এমন ফেরা 
পালকের ভাঁজ থেকে 
কিছুতেই মুছছে না পালক ঘঁষার স্মৃতি। 
রুহের কাঙখা থেকে সরছে না নামও,
থামো বলেও ঝরিয়ে যাচ্ছে চোখ।

তান

সরে যাচ্ছে মেঘ,
আহত মনভূমির বনে 
অভিমান গাঢ় হয়ে আসে।

আজ-কাল-পরশুর ব্যস্ততা ঘিরে
কিভাবে জড়াতে থাকি এক বেগুনি সম্পর্কে, নামহীন।
অথচ ঘ্রাণে তার বাঁশির সুর _ঘরছাড়ানো।

তাইতো পর্দা টানি জানালায় আর মেঘ সরে যায়,
অভিমান গাঢ় হয়ে আসে।

অবিভাজিতা


মুখস্থ জীবন আমি ভাসিয়ে দিলাম 
কাশে কাশে, হাওয়ায় হাওয়ায়। 
দেখি নরম আলোর ঘোর -- সে অবিভাজিতা,
এই ব্যপক গুনাহকাল
                        মুছে দিয়ে যায়। 

কত দূরে সুপারীর বনে
       খাঁজকাটা আলো ও ছায়ায়
               কামার্ত কাঠবিড়ালিরা....
                           -- ভুলেই গেলাম।

বাতাসে হাসির রেণু ভাসে
চুলের-ফুলের মৃদু সরে যাওয়া-আসা। 
নিভু নিভু নরকের অণু আমি
কার যেন পুণ্যে আজ বেহেস্ত পেলাম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!