Alexa ৩১ দিনে নভেম্বর মাস?

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

৩১ দিনে নভেম্বর মাস?

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৫০ ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

নভেম্বর মাস ৩০ দিনে হলেও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগমের এক দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে সবার চোখ কপালে উঠেছে। অনেকে তার সচেতনতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরকারি সনদের স্বাক্ষরে নভেম্বর মাসকে ৩০ দিনের জায়গায় ৩১ দিন হিসেবে দেখিয়েছেন। যা নিয়ে ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নভেম্বর মাসেই শেষ করা হয়। আর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পরের বছর মার্চ মাসের মধ্যে সনদ প্রদান করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ২০১৮ সালের উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদ মার্চ মাসের মধ্যে প্রদান করেননি। নিয়ম অনুযায়ী সনদ প্রদান না করে নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেখানে নভেম্বর মাসকে ৩১ দিন হিসেবে উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিয়েছেন শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন। এতে করে সনদ হাতে পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 

অনুসন্ধানে উপজেলার শুভপুর ইউপির যশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. সাব্বির হোসেন নামের এক ছাত্রকে দেয়া সনদে দেখা গেছে, সব লেখা ঠিক থাকলেও সনদে ইস্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে ৩১/১১/১৯। লিপিকার হিসেবে নাম রয়েছে ‘আমেনা’। যাচাইকারী হিসেবেও স্বাক্ষর করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন। নভেম্বর মাসকে ৩১ দিনের উল্লেখ করায় ভবিষ্যতে কোনো কিছুতেই সনদটি কাজে লাগবে না ওই ছাত্রের। শুধু মো. সাব্বির হোসেনের নয়, এভাবে ভুল তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে শত শত ছাত্র-ছাত্রীদের সনদে। তবে ভুলের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা বিতরণ করা সনদগুলো বাদ দিয়ে সঠিক তারিখ উল্লেখ করে নতুন সনদ বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। 

সনদ যাচাইকারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন মঙ্গলবার বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। তবে অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব। আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোনো নোটিশ পাইনি। 

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এরই মধ্যে যাচাইকারী সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমরা ভুল তারিখ দেয়া সনদগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ