১৪ বছর অন্যের জমি ভোগ-দখল করেছেন ডিসি সুলতানার বাবা-ভাই

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

১৪ বছর অন্যের জমি ভোগ-দখল করেছেন ডিসি সুলতানার বাবা-ভাই

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৯ ১৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৪:২৭ ১৯ মার্চ ২০২০

উদ্ধার হওয়া জমিতে টাঙানো হয় লাল নিশান, পেটানো হয় ঢোল

উদ্ধার হওয়া জমিতে টাঙানো হয় লাল নিশান, পেটানো হয় ঢোল

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জিয়াবাড়িতে একটি দরিদ্র পরিবারের ১১ বিঘা জমি ১৪ বছর ধরে দখল ও চাষাবাদ করছিলেন কুড়িগ্রামের সেই ডিসি সুলতানা পারভীনের বাবা-ভাই ও স্বজনরা। তাদের দাবি, জমিটি তারা কিনেছেন।

ওই ঘটনায় মামলার দীর্ঘদিন পর আদালতের রায়ে জমি ফিরে পান প্রকৃত মালিক। বুধবার পুলিশ ও আদালতের কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জমিটির প্রকৃত মালিক জিয়াবাড়ির আমিরুল ইসলাম ও তার ভাইবোনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। ওই ঢোল পিটিয়ে লাল নিশান টাঙিয়ে জমিটি চিহ্নিত করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আমিরুল ইসলাম ও তার ভাইবোনেরা ওয়ারিশ সূত্রে পঞ্চগড় সদরের হাফিজাবাদ মৌজার ১১ বিঘা জমির মালিক। দাদি রমজানী ওরফে রমজাদী বিবির কাছ থেকে জমিটি পেয়েছেন তারা। কিন্তু ডিসি সুলতানার বাবা মোহাম্মদ আলী, তার ভাই আব্দুল জব্বার ও স্বজনরা জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখল করে চাষাবাদ করছিলেন।

বাদী আমিরুল ইসলাম জানান, জমি দখল হওয়ায় ২০০৬ সালে পঞ্চগড় আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেন তারা। চার বছর পর মামলার রায় পান তারা। এরপর দখলবাজরা বার বার আপিল করে মামলা দীর্ঘ করতে শুরু করে। উচ্চ আদালতে তাদের আপিল খারিজ হওয়ার পরও তারা জমি ভোগ-দখল করতে থাকে। ১২ মার্চ আদালত আমিরুলদের পক্ষে রায় দেয় এবং বুধবার পুলিশের উপস্থিতিতে জমিটি তারা বুঝে পান।

আমিরুল বলেন, মোহাম্মদ আলীর এক মেয়ে ডিসি, এক ছেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ কারণে তার বাকি সন্তানরা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মানুষকে হয়রানি করতো। প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারতাম না। ১৪ বছর পর হলেও জমি ফিরে পেয়ে আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।

সুলতানা পারভীনের ভাই বাবুল হোসেন বলেন, ওই জমি আমার বাবা আমিরুলের দাদির ভাই সলিম উদ্দিনের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে পারিনি বলে আদালত আমিরুলদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এ বিষয়ে আমার বোনের কোনো প্রভাব নেই।

জেলা জজ আদালতের নাজির তমিজ উদ্দিন জানান, ১২ মার্চ আদালত রেকর্ড মূলে বাদী আমিরুল ইসলামের অনুকূলে রায় দিয়েছে। রায় অনুযায়ী আমরা বাদীকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর