সুন্দরবনে ঠেকানো যাচ্ছে না কাঠ পাচার!
নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি শেষ হয়েছে সুন্দরবনের গোলপাতা আহরণ মৌসুম। শ্রমিকরা তাদের মহাজনদের নিজ নিজ এলাকায় নৌকা নোঙ্গর করে বর্তমানে পাতা খালাসে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
গোলপাতা ব্যতীত অন্য কোনো বনজ সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও এবারো পাতা আহরণের অন্তরালে বনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, আমুড়, বাইন ও ধুন্দলসহ নানা প্রজাতির কাঠ পাচার করছে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী।
এছাড়া ভারসাম্য রক্ষার নামে ঝুলবাঁধার জন্য নৌকার উভয় পাশে শত শত মণ গেওয়া গাছসহ অতিরিক্ত মাত্রায় গোলপাতা বোঝাই করে আনতে দেখা গেছে। তবে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের অধিকাংশ এলাকা অভয়ারণ্য থাকায় চলতি বছরে এ রেঞ্জ থেকে গোলপাতা আহরণের জন্য বাওয়ালীদের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।
.png)
বন বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্ব সুন্দরবন থেকে চলতি বছরে গোলপাতা আহরণের জন্য চাঁদপাই রেঞ্জের ২টি কূপ থেকে অনুমতি দেয়া হয়। এতে শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা, রামপাল, নলিয়ান ও দাকোপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ১১২ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন।
বাওয়ালীরা চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাইংমারী, চরাপুটিয়া, জোংড়া, হার্ডবারিয়া, নন্দবালা, হরিণ টানা, আন্দারমানিকসহ রেঞ্জের ৪টি স্টেশন ও ২১টি টহল ফাঁড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করেন।
এছাড়া চলতি মৌসুমে শেলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের ২টি কূপের আওতায় ৮৬ হাজার কুইন্টাল গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা পূরণ হয়নি এবং আহরণ কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি উপজেলার বড় ব্রিজ ও বান্দা ঘাটা এলাকায় ব্যবসায়ীদের নৌকার গোলপাতা তোলার সময় সুন্দরবনের নানা প্রজাতির কাঠ স্তুপ করতে দেখা যায় ।
ওই সময় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় স্তুপ করে রাখা সুন্দরবনের কাঠের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কাঠের মালিক গোলপাতা ব্যবসায়ী মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার।
গোলপাতা আহরণ করা নৌকার এক শ্রমিক বলেন, তাদের নৌকায় পাস নিয়েই ৮ জন শ্রমিক পাতা কাটার কাজে নেমে পড়েন। এ ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নীতি মানা হয়নি। নৌকার নিচের অংশে সুন্দরবনের নানা প্রজাতির কাঠ বোঝাই করে ওপরের অংশে গোলপাতা সাজিয়ে ২টি চালান দিয়েছেন।
এছাড়া নৌকার দুই পাশে অতিরিক্ত উঁচু করে পরিমাপের চেয়ে বেশি পাতা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ওই রেঞ্জের কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তা- কর্মচারীদের ম্যানেজের পাশাপাশি তাদের চোঁখ ফাঁকি দেয়া হয়েছে।
বন বিভাগের নিয়ম মাফিক গোলপাতা সংগ্রহ করতে গেলে মহাজনের পুঁজি উঠবে না বলে ওই শ্রমিকের অভিমত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জঙ্গল থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো কাঠ নেয় নি। টুকিটাকি যে আগাছাগুলোর স্তুপ দেখছেন সেগুলো শ্রমিকদের রান্না করার কাঠ।
তবে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, চলতি বছরে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ হয়নি। এ অবস্থায় আগামী মৌসুমের পাস পারমিট দেয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে এ মৌসুমে কোনো প্রকার অনিয়ম কিংবা গোলপাতা আহরণকারী কোনো নৌকায় বনজ সম্পদ পাচার হয়নি।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোলপাতা আহরণে অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। তার পরেও দায়িত্ব পালনে কারো কোনো অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।