সত্যি কি সেদিন টাইটানিক ডুবেছিল? জানুন এর আসল রহস্য

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

সত্যি কি সেদিন টাইটানিক ডুবেছিল? জানুন এর আসল রহস্য

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৪ ২১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৯ ২৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রহস্য, রোমাঞ্চ, মৃত্যু আর ট্র্যাজেডি এই প্রতিটি শব্দকেই আলোড়িত করতে এক টাইটানিকই সার্থক ভূমিকা রেখেছিল। গত শতকের গোড়ায় আটলান্টিক সমুদ্রে ডুবে যাওয়া টাইটানিক পাকাপোক্ত করেছে বিশ্বের ইতিহাসের তালিকায় তার অবস্থান।

তবে এ স্থান তৈরি করতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের সলিল সমাধি দিতে হয়েছিল আটলান্টিকের হিম শীতল পানিতে। টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটির জন্যই এটি মানুষের মনে এতোটা সাড়া ফেলেছিল। চলচ্চিত্রটি দেখে কাঁদেননি এমন কেউ কি আছেন? হয়তো নেই!

সাগরতলে পরিত্যক্ত টাইটানিক ১৯১২ সালে তৎকালীন ৭৫ লাখ ডলার ব্যয়ে হল্যাণ্ডের বিখ্যাত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াইট স্টার লাইন’ তৈরি করেছিল এই জাহাজটি। ৬০ হাজার টন ওজনের জাহাজটির নির্মানকাল ছিল ১৯০৭ সাল থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত। ২৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল জাহাজটির আসন সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার। সে সময়ে এত বড় বিশালাকৃতির জাহাজ তৈরি করা মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। প্রকৃতপক্ষে টাইটানিক জাহাজটি আকারে এত বড় ছিল যে, দেখতে এটিকে একটি ছোটখাট শহরের মত মনে হত। এতে করে কৌতুহলী মানুষের দৃষ্টি সবসময় এটির প্রতি নিবন্ধ থাকত।

‘টাইটান’ ছিল গ্রিক পুরানের শক্তিশালী দেবতা। তার নামানুসারে এই জাহাজের নাম রাখা হয়েছিল ‘টাইটানিক’। এটি আসলে জাহাজটির সংক্ষিপ্ত নাম। এর পুরো নাম ছিল ‘আর এম এস টাইটানিক’। ‘আর এম এস’ এর অর্থ হচ্ছে ‘রয়্যাল মেল স্টিমার’। অর্থাৎ পুরো জাহাজটির নাম ছিল ‘রয়্যাল মেল স্টিমার টাইটানিক’। এই টাইটানিক যখন বানানো হয়েছিল তখন এর ডিজাইনার ‘থমাস এন্ড্রু’ দাবি করেছিলেন এই টাইটানিক কোনো দিন ডুবানো সম্ভব না। থমাস এন্ড্রুর দাবি সত্যিও হয়েছিল।

টাইটানিক ছবির দৃশ্য তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় মনুষ্যনির্মিত ভাসমান যান। যার প্রথম যাত্রায় উত্তর আটলান্টিক সাগরের এক বিশাল হিমশৈলির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। বিগত শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত বিষয় টাইটানিক ডুবে যাওয়া কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা! নাকি পরিকল্পিত কোনো অপরাধ তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে প্রথম থেকেই। টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হোয়াইট স্টার লাইন তাদের পুরনো জাহাজের জন্য বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা টাকা আদায় করতে বিগত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ধাপ্পাবাজির আশ্রয় নেয়।

টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হোয়াইট স্টার লাইনের ছিল একই রকম দেখতে দুটি জাহাজ। অলিম্পিক এবং টাইটানিক। তারা টাইটানিকের নাম করে পুরনো মেয়াদ উত্তীর্ন অলিম্পিকে আটলান্টিক সাগরে ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছিল। আর তাই টাইটানিক জাহাজ কখনোই ডুবেনি।

তাহলে  কেন, কীভাবে ডুবেছিল অলিম্পিক? এতবড় হাত ছাফাই তারা কীভাবে করেছিল জানেন কি?

টাইটানিকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হোয়াইট স্টার লাইন ১৯০৭ সালে তিনটি বিলাসবহুল সুপার লাইনার নির্মাণের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে নির্মাণ করা হয় অলিম্পিক। তারপর টাইটানিক এবং সব শেষে ব্রিটানিক। ১৯১১ সালের ১৪ জুন অলিম্পিক তার প্রথম যাত্রা করে। একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অলিম্পিক তার পঞ্চম যাত্রায় ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে অলিম্পিকের নিচের দিকে দুটি বিশাল ছিদ্র হয়ে যায়। তখন হোয়াইট স্টার লাইন মেরামতের জন্য বীমা কোম্পানির কাছে বীমার টাকা দাবি করে।

টাইটানিকের বরফের সঙ্গে ধাক্কাকিন্তু অলিম্পিকের এই দুর্ঘটনার কারণে অলিম্পিককে বীমার অযোগ্য ঘোষণা করে বীমা কোম্পানি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে আরো একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণাধীন থাকায় হোয়াইট স্টার লাইন ছিল দেউলিয়া হবার পথে। তাদের বিলাসবহুল টাইটানিক নির্মাণের জন্য বিনিয়োগ করেন তৎকালীন আমেরিকার কুখ্যাত বিনিয়োগকারী জেপি মরগান। এদিকে হোয়াইট স্টার লাইনের মালিক ব্রুজ ইজমিও ছিল অত্যন্ত কঠোর ও কুট ব্যবসায়ী। তারা দুজনেই বীমা জালিয়াতি করার পরিকল্পনা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের জন্য টাকা না দিলেও নতুন জাহাজ টাইটানিক ডুবে গেলে বীমা কোম্পানির সম্পূর্ণ টাকা দিতে বাধ্য।

তখনই তারা চিন্তা করে যদি অলিম্পিক জাহাজের নাম বদলে  টাইটানিক রাখা হয় আর টাইটানিক নামধারী পুরনো জাহাজটি ডুবিয়ে দেয়া হয়। তাহলেই তারা বীমার পুরো টাকাটা পেয়ে যাবেন। দুই ধুর্ত ব্যবসায়ী এই সুযোগটির পুরোপুরি কাজে লাগান। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অলিম্পিকে সাউথ্যাম্পটন বন্দরে কোনো রকমের চলার উপযোগী করে এর পূর্ণাঙ্গ মেরামতের জন্য বেলফাস্টে নিয়ে আসা হয়। তখন বেলফাস্টের টাইটানিকের নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ। টাইটানিক আর অলিম্পিক ভেতর বাহির সবদিক থেকে দেখতে একদম হুবহু। পাশাপাশি রাখা অবস্থায় সাধারণ লোকের পক্ষে কিছুতেই বলা সম্ভব না কোনটা অলিম্পিক আর কোনটা টাইটানিক।

টাইটানিক ডুবে যাওয়ার দৃশ্য ১৯১২ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে টাইটানিক ও অলিম্পিক শেষবারের মতো পাশাপাশি রাখা হয়। আর সেই সুযোগেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাত সাফাইয়ের কাজটি করা হয়। আয়তনে প্রায় তিনটি ফুটবল মাঠের চেয়ে বড় দু'টি জাহাজকে বদলে ফেলা হয় মাত্র এক রাতের ব্যবধানে। হোয়াইট স্টার লাইন দাবি করে ১৯১২ সালের মার্চের ৭ তারিখে অলিম্পিক মেরামতের কাজ শেষ করে বেলফাস্ট ত্যাগ করে। কিন্তু  এটি মূলত নতুন জাহাজ টাইটানিক। পুরনো জাহাজ অলিম্পিকের নাম ধারণ করে বন্দর থেকে বেরিয়ে আসে। তার ঠিক ৩ সপ্তাহ পরে পুরনো জাহাজ অলিম্পিক নতুন টাইটানিক নাম ধারণ করে এর প্রথম যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

এই মুহূর্ত থেকে বর্ণনার খাতিরে যতবারই টাইটানিকের কথা বলা হবে ততোবারই ধরে নিতে হবে সেটি মূলত পুরনো জাহাজ অলিম্পিক। টাইটানিকের প্রথম যাত্রার জন্য বেলফাস্ট থেকে সাউথ্যাম্পটন বন্দরে নিয়ে আসার পর টাইটানিকের বহু কর্মী কাজে ইস্তফা দিয়ে জাহাজ থেকে নেমে যায়। এসময় ব্রিটেনে চলছিল জাতীয় কয়লা ধর্মঘট। কয়লা ধর্মঘটের কারণে বহু জাহাজ বন্দরে আটকে ছিল। হাজার হাজার নাবিকেরা তখন কর্মহীন ছিল। সেই আকালের সময়ও টাইটানিকের কর্মীরা কেন চাকরি ছেড়ে চলে গেল?

টাইটানিক আরোহীদের ডুবে যাওয়ার দৃশ্যকারণ তারা জানতে পেরেছিল আর কয়েক দিনের মধ্যেই জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেয়া হবে। আরো সন্দেহের বিষয় হলো যাত্রা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে জাহাজের মালিক জেপি মরগান সহ টাইটানিকের ৫৫ জন প্রথম শ্রেণির যাত্রী তাদের যাত্রা বাতিল করে। অথচ টাইটানিক তৈরির সময় জেপি মরগান নিজেই জনসম্মুখে ঘোষণা করেছিল টাইটানিকের প্রথম যাত্রায় সে অবশ্যই সফর করবে। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল জাহাজের তিন ভাগের মাত্র দুই ভাগ যাত্রী নিয়ে টাইটানিক সাউথ্যাম্পটন বন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা করে। যে জাহাজে প্রথম যাত্রায় ভ্রমণ করতে পারাটা ছিল আভিজাত্যের বিষয়। সেখানে হঠাৎ কী এমন ঘটল যে যাত্রীরা তাদের যাত্রা বাতিল করল। তবে টাইটানিকের মালিকেরা চিন্তায় ছিল। যখন টাইটানিক তারা ডুবিয়ে দিবে তখন এতগুলো যাত্রীর কি হবে!

সেজন্য তারা একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তৈরি রাখার পরিকল্পনা করে। জেপি মরগানের আরো একটি পণ্যবাহী জাহাজ হল ক্যালিফোর্নিয়ান। যেটি কয়লা ধর্মঘটের কারণে ব্রিটেনের লন্ডন বন্দরে আটকে ছিল। এরপর হঠাৎ করে রহস্যজনকভাবে ক্যালিফোর্নিয়ান কয়লা ছাড়াই বন্দর ত্যাগ করে আমেরিকার উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করে। সেই মুহূর্তে ক্যালিফোর্নিয়ায় যে পরিমাণ কয়লা ছিল তা দিয়ে কিছুতেই আমেরিকায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। তাছাড়া বন্দর ছাড়ার মুহূর্তে জাহাজটিতে কোনো মালামাল বা যাত্রী কোনো কিছুই ছিল না। পুরোপুরি খালি জাহাজটিতে তখন ছিল শুধুমাত্র তিন হাজার কম্বল ও শীতবস্ত্র। টাইটানিক ডুবে গেলে একটি উদ্ধারকারী জাহাজে যা থাকা দরকার এবং যে পরিমাণ দরকার ঠিক তাই। ক্যালিফোর্নিয়ান তার পুর্ণ গতিতে আটলান্টিকের দিকে ছুটতে থাকে। হঠাৎ করেই ১৪ এপ্রিল মাঝ সাগরে গিয়ে ক্যাপ্টেনের নির্দেশে জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। টাইটানিক যাত্রা শুরু করার পর একই পথ দিয়ে যাওয়া পূর্ববর্তী একাধিক জাহাজ টাইটানিক এর সামনে থাকা হিমশৈলের বার্তা পাঠিয়েছে। তবে টাইটানিকের গতি তাতে একটুও পরিবর্তন হয়নি। এমনকি হিমশৈলের সামনে পড়লে রাতের বেলায় যেকোনো জাহাজের পর্যবেক্ষণ ডেকে তা সহজেই দেখা যায়।

টাইটানিক ছবির দৃশ্যঅনেকে মনে করে টাইটানিক ইচ্ছাকৃত ভাবেই হিমশৈলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তিতে দুর্ঘটনার অনুসন্ধানের সময় জাহাজের সেকেন্ড অফিসার বলেন, সে রাতে ডিউটি শেষ করে যাবার সময় তিনি প্রায় দেড় থেকে দুই মাইল দূরে হিমশৈলটি দেখতে পান। তিনি মনে করেন জাহাজটি ঘুরিয়ে সংঘর্ষ এড়ানোর মতো যথেষ্ট সময় ছিল। তাই তিনি বিষয়টি কন্ট্রোল রুমকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। ১৪ এপ্রিল রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে টাইটানিক ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  টাইটানিকের পাঁচটি কম্পার্টমেন্ট একেবারে ভেঙে যায়।

হোয়াইট স্টার লাইনের পরিকল্পনা মতো টাইটানিকের ক্যাপ্টেন দুর্ঘটনার নাটক সাজাতে গিয়ে সত্যি সত্যি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরিকল্পিত এ দুর্ঘটনায় ক্যাপ্টেন একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। সাধারণত এধরণের আপদকালীন পরিস্থিতিতে একটি জাহাজের যা যা করণীয় টাইটানিক তার কোনোটিই গ্রহণ করেনি। হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর ক্যাপ্টেন জাহাজের ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। যাতে করে হিমশৈলের সঙ্গে জাহাজের আরো বেশি করে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

টাইটানিক ভেঙ্গে দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যআলামত দেখেই মনে হয় তারা চাইছিল জাহাজ ডুবে যাক। জাহাজটাকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই তখন তারা কেউ করেনি। হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার দীর্ঘ ৩৫ মিনিট পর টাইটানিক থেকে উদ্ধারের জন্য রেডিও বার্তা পাঠায়। অথচ একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার জন্য আধাঘন্টা সময় যথেষ্ট। এছাড়া টাইটানিক ডুবতে শুরু করার এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পর লাইফবোর্ড জাহাজ থেকে নামানো হয়। এমনিতেই জাহাজে থাকা লাইফবোর্ডের ব্যবস্থা ছিল মাত্র অর্ধেক লোকের জন্য। তারপরও যে কয়েকটি লাইফবোর্ড ছাড়া হয়েছে তার অধিকাংশই পুরোপুরি ভর্তি না করেই ছেড়ে দেয়া হয়। এর কারন হল টাইটানিকের ক্যাপ্টেন উদ্ধারের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ানের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ান টাইটানিকের আশেপাশে থাকলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজন যাত্রীর জীবন রক্ষা করতে পারেনি।

রাত দুটার মধ্যে জাহাজটি দুই ভাগ হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী ও ডুবে যায় আটলান্টিকের বরফ-শীতল পানিতে। লাইফবোর্ডে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করা হয় পরদিন সকালে। দুর্ঘটনার একমাস পর ভয়ংকর স্মৃতি নিয়ে টাইটানিকের বেঁচে যাওয়া নাবিকরা ইংল্যান্ডে ফিরে আসে। এসময় তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রথমেই দেখা করতে দেয়া হয়নি। প্রায় ২৪ ঘন্টা এক প্রকার আটকে রাখা হয় তাদেরকে। সে সময় হোয়াইট স্টার লাইনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জীবিত ফিরে আসা কর্মীদেরকে হুমকি দেয়। বলা হয়, তারা টাইটানিক সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করলে তাদের পরিণতিও হবে জাহাজের মতোই।

টাইটানিকরাজনৈতিক জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারও বিষয়টি ঠিকঠাক তদন্ত না করে একপ্রকার ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এভাবেই টাইটানিক নাম ধারণ করে অলিম্পিক জাহাজটি আটলান্টিক সাগরের নিচে আজও ডুবে আছে। আর অন্যদিকে প্রকৃত টাইটানিক অলিম্পিক নাম ধারণ করে ১৯৩৫ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৫ বছর সম্পূর্ণ সচল থেকে অবসরে চলে যায়। ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ এইচএম এসের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরও অলিম্পিকের এতো বছর সচল থাকা কোনো ভাবেই সম্ভব না।

টাইটানিক ছাড়াও বহু জাহাজ মালিক তাদের পুরনো মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজ আটলান্টিকের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় এনে ডুবিয়ে দেয়। শুধুমাত্র বীমার টাকা আদায় করতে তারা এই প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এমনকি আটলান্টিকের ঐ এলাকায় অতি প্রাকৃতিক কিছু আছে বলেও গুজব ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, পুয়ের্তো রিকো এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বার্মুডা। এই তিনটি স্থানের মধ্যবর্তি কাল্পনিক ত্রিভুজ আকৃতির জায়গাটিই সেটি। যা পরবর্তিতে বার্মুডা ট্রায়েঙ্গেল নামেও পরিচিতি পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ