Alexa শুকরের খামারের পাশে মর্গ!

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

শুকরের খামারের পাশে মর্গ!

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৪ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মর্গের চারপাশে ময়লা-আবর্জনার বাগাড়, রয়েছে শুকরের খামার। হাসপাতালের পাশে মর্গ থাকার কথা থাকলেও চাঁদপুরে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি অবস্থিত দুই কিলোমিটার দূরে স্বর্ণখোলা রোডে। আশপাশে শুকরের বিচরণ আর দূষিত ময়লা আবর্জনায় ভরা পরিবেশেই চিকিৎসকরা ময়নাতদন্তের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন।

শহরের স্বর্ণখোলা রোড়ে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ভুতুড়ে ভবনে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি। হাসপাতাল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মর্গটিতে ময়নাতদন্তের জন্য কোনো সুব্যবস্থা নেই। এতে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে চিকিৎসকসহ ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন। দূরত্ব আর নানা সংকটে ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মর্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, ময়লা-আবর্জনা সমস্যা ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রভাব পড়ছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সূত্রানুযায়ী, অপরিকল্পিতভাবে তৈরি মর্গে পর্যাপ্ত লোকবল নেই। আধুনিক যন্ত্রপাতি, মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ, ভেন্টিলেশনসহ মরদেহ ধোয়ার পরে রক্ত ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। এখানে ময়নাতদন্তের জন্য চারজন ডোমের চাহিদা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুই জন। এদের মধ্যে একজন মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই চারজনের কাজ একজন ডোমের মাধ্যমেই করা লাগছে চিকিৎসকদের। এমনকি ময়নাতদন্তকারী কোন চিকিৎসকও নেই চাঁদপুরে। তাই বাধ্য হয়েই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সার্জারি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের হাসপাতালের ডিউটি ফেলে ময়নাতদন্তের কাজ করতে হচ্ছে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদৌলা রুবেল বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে আমাদের কাজ করতে হয়। মর্গটির আশপাশের পরিবেশে যে কোনো সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলার পরও ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়নি। শুকরের খামার পেরিয়ে যাওয়া লাগে মর্গে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখানে লাশ কাটার জন্য কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই, লাশ সংরক্ষণের জন্য ইে কোন ফ্রিজিং ব্যবস্থা। তাই অনেক সময় গরমে লাশে পচন ধরে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে বেঘাত ঘটে। তাছাড়া এই কাজের জন্যে ডাক্তারদের প্রনোদনার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় চিকিৎসকরাও ময়নাতদন্ত কাজের জন্য  আগ্রহী হন না। এখানে কোন পরীক্ষাগার না থাকায় রিপোর্টের জন্যে লাশের দেহের বিভিন্ন স্যাম্পল কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। এতে তদন্তের রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন থেকে মাসখানেক সময় লেগে যা।

মর্গের একমাত্র ডোম বাপ্পী বলেন, লোক নাই। তাই মর্গে সব কাজ আমার একাই করতে হয়। অনেক সময় লাশ বেশি আসলে সমস্যায় পড়তে হয়। মর্গের ভিতরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ঠিকমত না থাকায় অনেক সমস্যা হয়। তাছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই ভাঙা জানালা দিয়ে পানি ঢুকে যায় মর্গে। এতে কাজে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, হাসপাতালের মর্গের এই সংকট দূর করতে কর্তৃপক্ষের নিকট বিভিন্ন সময়ে দাবি জানালেও আশ্বাস ছাড়া সমাধান পাওয়া যায়নি। এই রকম নোংরা পরিবেশ কাজ করার মত নয়। কিন্তু বাধ্য হয়েই আমাদের কাজ করা লাগছে। উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় ১০ মিনিটের কাজে এক ঘন্টা লেগে যায়। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সঠিক রিপোর্ট দেয়ার শতভাগ চেষ্টা করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস