শরণখোলায় দুই মাসে অর্ধশতাধিক চুরি!

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

শরণখোলায় দুই মাসে অর্ধশতাধিক চুরি!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩৫ ৫ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাগেরহাটের শরণখোলায় গত দুই মাসে বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে অর্ধশতাধিক চুরি সংঘটিত হয়েছে।

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে ৪ জুন পর্যন্ত চোরের দল সিঁধ কেটে টাকা-পয়সা সহ স্বর্ণালংকার থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভ্যান-ইজিবাইক, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এমনকি  বিভিন্ন ঘেরের মাছ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। 

উপজেলা জুড়ে হঠাৎ করে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। থানা  পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় অপরাধগুলো ধামাচাপা পড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এসব চুরির খবর জানা গেছে।

শরণখোলা থানা পুলিশ চুরির বিষয় স্বীকার করতে নারাজ। তারা বলছেন, দু-একটি চুরির ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোন্তাকাটা ইউপির পশ্চিম রাজৈর গ্রামে  গত ৩ জুন রাতে ইউনুচ মোল্লা , আলামিন হাওলাদার, শামিম হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু, দুলাল শিকদারসহ পাঁচ বাড়িতে সিঁধ কেটে চোরেরা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ  কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।   
 
এছাড়া ধানসাগর ইউপির উত্তর ও দক্ষিণ বাধাল গ্রামে গত ২ জুন রাতে বিপুল হালদারের ৭০ হাজার টাকা দামের একটি অটোভ্যান নিয়ে যায়। এর কয়েক দিন  আগে ওই ইউপির হানিফ সরদার বাশার সরদার এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের রাতে মোস্তফা হাওলাদারের বাড়িতে হানা দিয়ে অটোভ্যান, ব্যাটারিসহ বহু টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
 
অপরদিকে গত ২৪ মে রাতে রাজাপুর বাজারে সালাম সরদারের কাপড়ের দোকানের শার্টার ভেঙে  কাপড়সহ তিন লাখ টাকা এবং রেজাউলের দোকানের তালা ভেঙে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। 

একই রাতে রায়েন্দা ইউপির খাদা গ্রামের নূরুল ইসলাম হাওলাদার ও মাসুম হাওলাদারের বাড়িতে সিঁধ কেটে স্বর্ণালংকারসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা।  

৩০ মে রাতে একটি চোরের দল মঠের পাড় গ্রামে আ. রশিদ আকন, সিদ্দিক হাওলাদার, মুক্তা তালুকদার এবং নলবুনিয়া গ্রামের আনিস খার বাড়িতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মালামাল লুটের চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘরের লোকজন টের পাওয়ায় চোরেরা পালিয়ে যায়। 

২১ মে রাতে নলবুনিয়া এলাকার শাহজাহান আকনের বাড়িতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকতে না পেরে তার গোয়ালে থাকা দুটি গরু নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে ধাওয়া করলে মাঠের মধ্যে গরু ছেড়ে দিয়ে পালায় চোরেরা। ওই রাতে সাউথখালী ইউপির সোনাতলা গ্রাম থেকে সোহরাব মল্লিকের ৬০ হাজার টাকার দামের একটি গরু নিয়ে যায় চোরেরা ।

এছাড়া সম্প্রতি ধানসাগরের হোগলপাতি গ্রামে ফারুক মোল্লার পুকুরের ৫০ হাজার টাকার মাছ এবং হুমায়ুন কবিরর ঘেরের দেড় লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। 

ভিক্ষুক বিধবা বেগমের ঘরের সোলার প্যানেল-ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায়। আমড়াগাছিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অজিৎ কির্তনিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে জমির দলিলসহ ২৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। 

এছাড়া মজিবর মাতুব্বর, ইব্রাহীম ও শামছুর রহমানের ইজিবাইকের ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। খোন্তাকাটার রাজৈর গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা আসাদ হাওলাদারের বাড়িতে সিঁধ কেটে দেড় লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫লা খ টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা।

একমাস আগে চোরেরা ধানসাগর ইউপির ছইলাবুনিয়া গ্রামের শশধর ওঝার বাড়িতে সিঁধ কেটে জমির কাগজপত্র, আনোয়ার খান ও হাশেম হাওলাদারের তিন লাখ টাকা দামের দুটি ইজিবাইক, হোগলপাতি গ্রামের সেলিম শেখের ৫০ হাজার টাকা দামের ইজিবাইকের ব্যাটারি, কিশোর হালদারের ৮০ হাজার টাকা দামের একটি ও কালিবাড়ি গ্রামের মাসুম হাওলাদারের দুই লাখ টাকা দামের ৪টি গরু নিয়ে যায়।

এছাড়া পূর্ব রাজাপুর গ্রামের রহিম হাওলাদারের ৪০ হাজার টাকা দামের একটি গরু, ধানসাগর গ্রামের আজিজ হাওলাদার, বিমল মন্ডল, বাওড় গ্রামের ডালিমের ইজিবাইক ও সোলার ব্যাটারি, রাজাপুর গ্রামের শিক্ষক সন্তোষ হালদারের বাড়ি সিঁধ কেটে ৫০ হাজার টাকাসহ দেড় লাখ টাকার মালামাল, পান্না লাল মৈত্রের দুই লাখ টাকার, শুকুমার শিকদারের এক লাখ টাকার, হোগলপাতি ফরাজী বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, বাচ্চাদের চারু-কারু সরঞ্জামসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল এবং রায়েন্দা ইউপির উত্তর কদমতলা গ্রামের কবির হাওলাদারের একটি অটোভ্যান নিয়ে যায় চোরেরা।

সাউথখালী ইউপির রায়েন্দা-তাফালবাড়ী গ্রামে রফিকুল হাওলাদারের বাড়িতে সিঁধ কেটে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল, উত্তর সাউথখালী গ্রামে দুলাল খান, হাকিম খান ও আমির হাওলাদারের বাড়ি থেকে মোবাইলসহ মালামাল নিয়ে যায়। ওই গ্রামের মানুষ চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাইফুল হালিম শাহ জানান।

এ ব্যাপারে চুরি হওয়া বাড়ি-ঘরের গৃহকর্তারা জানান, থানায় মামলা করে কোনো লাভ হবে না। নিজেদের হয়রানির শিকার হতে হবে। এ কারণে কেউ থানায় অভিযোগ করেন না।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ওসি এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। ছোটখাটো দু-একটি চুরির খবর শুনেছি। এসব অপরাধ ঠেকাতে শিগগির এলাকা ভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ