মহামারি থেকে বাঁচতে পবিত্র কূপের পানিই ভরসা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৯ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মহামারি থেকে বাঁচতে পবিত্র কূপের পানিই ভরসা!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৮ ৩ জুন ২০২০   আপডেট: ০৩:৫৩ ৪ জুন ২০২০

ছবি: পবিত্র কূপ

ছবি: পবিত্র কূপ

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সবাই মরিয়া হয়ে আছে। মুক্তি পেতে অসংখ্য উপায়ের কথাও সামনে আসছে। যেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

আবার অনেকেই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি এবং বিশ্বাসের কথাও বলছেন। তেমনই একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে আয়ারল্যান্ডে। সেখানে রোগ নিরাময়ের জন্য অসংখ্য মানুষ পবিত্র হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন কূপের কাছে তীর্থযাত্রায় গিয়ে সেখানকার পানি পান করে। তাদের বিশ্বাস, এসব কূপের পানিতে রোগ নিরাময় হবে। 

আয়ারল্যান্ডে অনেক পবিত্র কূপ রয়েছেসেন্ট ফোনানকে উৎসর্গকৃত বেশ কয়েকটি কূপে সাম্প্রতিক সময়ে তীর্থযাত্রীদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকের বিশ্বাস, সেন্ট ফোনান প্লেগসহ অন্যান্য অসুস্থতা এবং দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা করেছে পূর্বে। পুরো আয়ারল্যান্ড জুড়ে অনেকগুলো কূপ এবং ঝর্ণা আছে যেগুলো পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। সাম্প্রতিক একটি জরিপে উঠে এসেছে, পুরো আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১৩০০টি এমন পবিত্র স্থান আছে। 

এই কূপগুলোর বেশিরভাগই খ্রিষ্টান সাধুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সহস্রাধিক বছর ধরে মানুষ রোগ নিরাময়ের জন্য এসব কূপের পানি পান করে কিংবা কূপের পানিতে গোসল করে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনেকেই স্থানগুলোতে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করে। রোগ মুক্তির জন্য কূপ এবং ঝর্ণার পানিতে অনেকেই গোসল করে। কেউবা সুস্থ হতে কূপের পানি পান করে। আবার অন্যদের জন্যও অনেকে এই পানি নিয়ে যায়। 

কূপের পানি পান করতে মগ নিয়ে হাজির হন সবাইপবিত্র কূপগুলোর কয়েকটি প্রাক খ্রিষ্টীয় সময়ের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পবিত্র কূপগুলোতে তীর্থযাত্রা করার প্রথা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস সংকটের এই সময় আবারো আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের নয়নাভিরাম ইভেরাগ উপদ্বীপের কাউন্টি কেরির বেশ কয়েকটি পবিত্র কূপে জড়ো হয়েছে মানুষ।

এখানকার পবিত্র কূপগুলো ষষ্ঠ শতাব্দীতে সেন্ট ফোনানের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তিনি রোগব্যাধি এবং মহামারি থেকে লোকদের রক্ষা করতেন। রোগব্যাধি ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা, অত্যাচারী শাসকদের থেকে মুক্তি পেতেও এই স্থানগুলোতে আসতেন।

সেন্ট ফোনান

স্থানীয় লোককাহিনী প্রচলিত আছে তার কল্যাণে ভয়াবহ প্লেগ মহামারি থেকে স্থানীয়রা রক্ষা পেয়েছিলেন। কাউন্টি কেরিতে সেন্ট ফোনানকে উৎসর্গকৃত বেশ কয়েকটি কূপ আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ইভারাগ উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের একটি কূপ। একই অঞ্চলে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্কেলিগ মাইকেল দ্বীপটি অবস্থিত।

ইভারাগ উপদ্বীপে একটি পরিত্যক্ত মঠ আছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এটাও সেন্ট ফোনান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শত শত বছর ধরে স্থানীয়রা কূপগুলোর কছে গিয়ে নিরাময় প্রত্যাশা করে। কূপগুলোর পানিতে রোগ নিরাময়ের শক্তি আছে বলেই তাদের বিশ্বাস।

পবিত্র হিসেবে বিবেচিত এই কূপগুলোহয়তো এই বিশ্বাস থেকেই করোনাভাইরাস মহামারি এবং লকডাউনের মধ্যেও অনেকেই পবিত্র কূপগুলোতে ভ্রমণ করছেন। রোগ মুক্তির ক্ষেত্রে এই স্থানগুলোতে ভ্রমণকারীরা বাস্তবে কোনো উপকৃত না হলেও মানসিকভাবে পরিতৃপ্তি পায়। পরিত্যক্ত মঠটিতেও অনেক তীর্থযাত্রী যায়। স্থানীয় বাসিন্দা কার্লেরও অনেকের মতো বিশ্বাস, সেখানকার কূপগুলোর অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে।

তার মতে, বেশিরভাগ মানুষ কঠিন সময়ে এখানে আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা খোঁজার জন্য আসে। পবিত্র কূপের পানি যে রোগব্যাধি কিংবা মহামারি থেকে রক্ষা করতে পারে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে অনেকেই বিশ্বাস থেকেই নিজেদের মুক্তির জন্য এই স্থানগুলোতে এখনো ভ্রমণ করেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/