বন্যেরা বনেই সুন্দর, স্মার্টফোনেই ফ্রেমবন্দী হলো দুর্লভ বন্য জীবন
বন্য জীবন বরাবরই সৌন্দর্যমণ্ডিত। এজন্যই তো বলে বন্যেরা বনেই সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। জীব বৈচিত্রের আঁধার এই পৃথিবীর বিভিন্ন সৃষ্টি কতই না সুন্দর ভাবতে নিশ্চয় অবাক লাগে!
আর এসবের ছবি যারা সংগ্রহ করেন তাদেরকে কতটা ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা অনেকেরই অজানা। প্রাণীকূলের যেসব সুন্দর ছবি দেখছেন, সেগুলো বন্য জীবন ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় সেরা ছবির প্রশংসা জিতেছে।
বাগ ড্রাগনফ্লাইয়ের চোখের আকর্ষণীয় ক্লোজআপ ছবিটি বন্যজীবন ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় সেরা সামগ্রিক ছবির পুরস্কার জিতেছে। ছবিটি তুলেছেন ফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু নিল। এ ছবিটি তুলতে তিনি গিয়েছিলেন হাইথ লাগনসে। গত বছরের গ্রীষ্মের সময় বাগের ছবিটি তুলেন তিনি। দেড় হাজারের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়ে ছবিটি পুরষ্কৃত হয়েছে।
.png)
অ্যান্ড্রু বলেন, হঠাৎই আমার চোখে পড়ে একটি বাগ ড্রাগনফ্লাই। এটি খাদের পাশের একটি ছোট গাছের উপরে দাঁড়িয়েছিল। এরপর দ্রুত আমার ম্যাক্রো লেন্সটি তাক করে এর ছবি তুললাম।
দাতব্য সংস্থা এসেক্স ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট (ইডাব্লুটিটি) দ্বারা পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় ছয়টি বিভাগে পুরস্কার দেয়া হয়। এসেক্স জুড়ে ২৫০ টিরও বেশি ফটোগ্রাফারের ৫০০ টিরও বেশি ছবি প্রদর্শিত হয়। সেখানে পাখি থেকে শুরু করে অন্যান্য অনেক পশুর ছবি ছিল।
এ ছবিগুলোর জন্য ফটোগ্রাফাররা বেছে নেন এ্যাসেক্সের আশেপাশের বন্যপ্রাণীর ক্রিয়াকলাপ। এ ছবিগুলো তুলতে তারা ব্যবহার করেন নিজেদের স্মার্টফোন। প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত কিছু চমকপ্রদ প্রাণীর ছবি দেয়া হলো-
লাফিয়ে চলা এই বেজির দুর্দান্ত এই ছবিটি তুলেছেন ফটোগ্রাফার পিটার হিউট মালদন। তিনি এই অবিশ্বাস্য চিত্রটি ধারণ করেন যুক্তরাজ্যের মালডোনের ওল্ড হল মার্শেস থেকে। বন্য জীবনের গতি চিত্র বিভাগে এ ছবিটি পুরষ্কৃত হয়।
ফুলের টবে হাত পা গুজে বসে আছে একটি শিয়াল। অসম্ভব সুন্দর এই ছবিটি তুলেছেন ব্যারি টুমব্রিজ। রোমফোর্ডের একটি বাগানে গাছের টবে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট শিয়ালের এই আশ্চর্যজনক চিত্রটি সবার নজর কাড়ে। ছবিটি প্রতিযোগিতার বিশ্ব বিভাগ ক্যাটাগরিতে প্রশংসিত হয়।
এসেক্সের ব্লু হাউস ফার্ম থেকে এই চমকপ্রদ পেঁচার ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন ফটোগ্রাফার জেসন ফক্স। বন্যজীবনের গতি চিত্র বিভাগে তিনি অত্যন্ত প্রশংসিত হন এই ছবিটির জন্য।
পাখির ঝাঁক। সৌভাগ্যক্রমে এই চিত্রটি ফ্রেমবন্দী করেন ফটোগ্রাফার ডেভিড ব্ল্যাকওয়েল। তিনি ক্যানভে দ্বীপের কাছে টু ট্রি আইল্যান্ড থেকে এ ছবিটি তোলেন। ছবিটি প্রতিযোগিতায় এসেক্স ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট বিভাগে প্রশংসা অর্জন করে।
বন্যপ্রাণীর গতি চিত্র বিভাগে রানার-আপ হন ফটোগ্রাফার অ্যাড্রিয়ান গ্যালি। তিনি মাছরাঙা পাখির চমৎকার এই ছবিটির জন্য প্রশংসা কুড়ান। তিনি যুক্তরাজ্যের বেসিলডনের ড্যানিয়েল ফারিংটনে এই চমকপ্রদ ছবিটি ফ্রেমবন্দী করেন।
প্রতিযোগিতার বিশ্ব বিভাগে বিজয়ী হন রোজমেরি ম্যাককেরেল। তার ছবিটি ছিল লেডি প্রজাপতি এবং একটি লিফকিটার মৌমাছির ক্লোজ-আপ শট।
ঘাসের মধ্যে ঘোরাঘুরি করা পাখিটি ফ্রেমবন্দী করেছেন মাত্র দশ বছর বয়সী টমাস রুমসবি। ছয় থেকে ১৬ বছর বয়সী ফটোগ্রাফারদের ক্যাটাগরিতে এই ছবিটি প্রশংসা কুড়ায়।
বন্যজীবন গতি চিত্র বিভাগে এ ছবিটির জন্য বিজয়ী হলেন ডেভিড ব্ল্যাকওয়েল। থান্ডলার্সির পাউন্ড থেকে এই অ্যাকশন শটটি তিনি বন্দী করেন ক্যামেরায়। দেখা যাচ্ছে একটি বন্য শিয়ালের শরীর থেকে পানি ছেড়ে ফেলার দৃশ্য।
নীল লেজযুক্ত ফড়িং মাটিতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। এই ছবিটির জন্য জেমস নর্থফিল্ডটি প্যাটার্ন টেক্সচার বিভাগে অত্যন্ত প্রশংসিত হন।
হর্নচর্চ কান্ট্রি পার্কে ধারণ করা হয় এই অত্যাশ্চর্য সূর্যাস্তের ছবিটি। ফটোগ্রাফার ম্যাথিউ চ্যাপম্যান ছবিটির জন্য এসেক্স ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট বিভাগে বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক এসিএল এসেক্সের বিপণন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হলি শিয়া বলেন, আমরা পর পর দুই বছর এসেক্স ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতাটি স্পন্সর করে আনন্দিত।
এসেক্সের তরুণদের যে প্রতিভা রয়েছে তা তারা এখানে প্রকাশ করতে পারছে। এটি তাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। সেইসঙ্গে এর মাধ্যমে সবাই অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বন্য জীবন দেখতে পারছে। এসেক্স ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট ২০২০ এর ফোটোগ্রাফি প্রতিযোগিতাটি সেপ্টেম্বরে প্রদর্শিত হবে।
সূত্র: মেইলঅনলাইন