পানির জন্য স্বামীকে বহুবিবাহ দেয় যে গ্রামের নারীরা
একটি বা দুটি নয়। কমপক্ষে তিনটি বিয়ে করা বাধ্যতামূলক। আর তা না হলে গ্রামের মানুষের কাছে সম্মান থাকবে না যে! এমনই রীতি রয়েছে এক গ্রামে। সাধ্য থাকলে গ্রামের পুরুষরা যে যত পারে ততই বিয়ে করেন। যুগ যুগ ধরেই এই নিয়ম মেনে আসছে সেখানকার পুরুষরা।
এটি নাকি তাদের পূর্ব পুরুষদের রীতি। তা না মানলে ঘোর বিপদ! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বড় বউয়েরা দাঁড়িয়ে থেকে স্বামীকে বিয়ে দিয়ে সংসারের সদস্য বাড়ান হাসিমুখেই! একইঘরে থাকা বউয়েরা সম্পর্কে সতীন হলেও খুব একটা ঝগড়া-বিবাদের ধার ধারেননা তারা। সবাই বোনের মতো কাটিয়ে দেয় সারা জীবন।
এই গ্রামটি হলো মহারাষ্ট্রের দেঙ্গানমলে। মুম্বাই থেকে প্রায় ১৪০ কি.মি, দূরত্বে। এই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই কমবেশি তিনজন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করেন। এটি নিছকই ভোগ লালসা মেটানোর জন্য নয়। বহুবিবাহের পথ তারা বেছে নেয়ার একমাত্র কারণ হলো পরিবারে পানি আনার লোকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য।
.png)
দেঙ্গানমল এমন একটি গ্রাম, যেখানে প্রবল পানির কষ্ট। প্রত্যন্ত এই খরাপ্রবণ গ্রামে পানির একমাত্র উৎস কয়েকটি কুয়া। সেগুলো গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়। তখন দূরবর্তী কুয়া বা নদী থেকে পানি বয়ে আনা ছাড়া উপায় থাকে না।
গ্রামবাসীরা জানান, গ্রীষ্মকালে পানি বয়ে আনার জন্যে যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা হাঁটতে হয়। নারীরাই এই পানি আনার কাজ করে থাকেন। আর পুরুষরা বাইরে কাজ করে। প্রতিবার ১৫ লিটারের দুটি কলসি বয়ে আনেন নারীরা। এই পানির সমস্যা সামাল দিতে ধনী পরিবারের লোকেরা তিনটি বিয়ে করতেন।
তিনজনের মধ্যে একজনই সন্তান জন্ম দিতেন এবং অন্য দুইজনের পানি আনার কাজ করতেন। তবে দরিদ্র পরিবারের মানুষের পক্ষে একটির বেশি বিয়ে করা অসম্ভব। এমতাবস্থায় এই গ্রামের পুরুষরা বুঝে গিয়েছেন, বহুবিবাহই পানির সমস্যা মেটানোর সহজতম রাস্তা। বাড়িতে বউয়ের সংখ্যা যত বাড়বে, তত বাড়বে পানি আনার হাত ও কলসির সংখ্যা। কাজেই অনেকেই দু'টি কিংবা তিনটি স্ত্রী নিয়ে ঘর করছেন দেঙ্গানমল নামক এই গ্রামে।
ঘরের বউদের এই গুরুত্বের সুবাদে গ্রামে বিশেষ সম্মান পান বিবাহিতা নারীরা। বিয়ের জন্য কন্যা সন্তানসহ বিধবা নারীরা বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। কারণ ঘরে কন্যাসন্তান আসা মানে ঘরের কাজকর্ম সামলাতে পারবে সেই মেয়ে।
৬৬ বছর বয়সী সখারাম ভগত জানান, তার পরিবারের পানি আনা ও রান্না করার জন্য মানুষের দরকার। তাই তিনি প্রথম থেকে দুটি বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তখন দ্বিতীয় স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পানি আনতে পারতেনা তাই তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন।
বহুবিবাহ যে সমস্যার সমাধান নয়, তা মানছেন গ্রামবাসীরাও। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করেছেন তারা এই বিষয়ে। তবে সরকার তাদের প্রতি উদাসীন।