Alexa নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:৩৭ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় নুসরাতের পরিবারকে সব্বোর্চ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তারা। 

সোমবার বিকেলে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিন আইনজীবীরা এসব দাবি তুলেন। মামলার যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। 

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান মামলার প্রধান আসামি মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলার পক্ষে আদালতে আইনি যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। মঙ্গলবারও আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
এ সময় আদালতে তাদের সহায়তা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহম্মদ। তারা মামলাটি প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছেন বলেও আদালতে দাবি করেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইন সহায়তাকারী আইনজীবী আকরামুজ্জামান দীর্ঘ সময় আইনের বিভিন্ন বিধি বিধান উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। আসামিরা এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালাতে থাকেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। মিডিয়ার কল্যাণে সত্যটা সারাদেশের মানুষ জেনে গেছে। তিনি দাবি করেন, আদালতেরও রাষ্ট্রপক্ষ সত্য প্রমাণে সমর্থ হয়েছেন। 

তিনি বলেন, এ মামলার রায়ের দিকে সারাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন। সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দেশবাসীর প্রত্যাশা। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, আসামিরা যদি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেয়-তাহলে তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া যায়। তিনি বলেন- এটি আত্মহত্যা নয়, এটি একটি হত্যা। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, চারজন আসামি রিমান্ড ছাড়াই স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ মামলার অভিযোপত্রভুক্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আসামি আদালতে স্বেচ্ছায়, সত্য ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। 

তিনি বলেন, আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুর উদ্দিন স্বীকারোক্তিতে বলেছেন-মাদরাসার অধ্যক্ষ কারাগারে থেকে নুসরাত মামলার প্রত্যাহার করতে রাজী না হলে প্রয়োজনে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে হবে। মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলম কাউন্সিলর তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।

৬ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বাঁধা হয়। পরে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৮ এপ্রিল তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম তদন্ত শেষে ২৯ মে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় পাঁচজনকে থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ