নামাজ: নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একমাত্র ইবাদত 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৯ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নামাজ: নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একমাত্র ইবাদত 

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৩ ৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:০৯ ৩ জুন ২০২০

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসেব হবে। যদি নামাজ ঠিক হয় তবে তার সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তবে তার সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তিরমিযি: ২৭৮)।

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসেব হবে। যদি নামাজ ঠিক হয় তবে তার সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তবে তার সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তিরমিযি: ২৭৮)।

ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। এটি ইসলামে দ্বিতীয় স্তম্ভ। যা কিনা প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকে মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ করা হয়েছে।  

অন্যসব ইবাদতের আগে প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। 

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বার বার তাগিদ পেয়েছেন। পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এবং কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে এই নামাজ পড়ার ফজিলত ও না পড়ার কঠোর বিধানের কথা উল্লেখ আছে। 

কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসেব হবে। যদি নামাজ ঠিক হয় তবে তার সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তবে তার সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। (তিরমিযি: ২৭৮)।

নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একমাত্র ইবাদত নামাজ। এ ঘোষণা স্বয়ং মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার।  পবিত্র কোরআনুল কারিমে রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন, 

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ 

‘নিশ্চয়ই নামাজ (মানুষকে) অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা: আনকাবুত, আয়াত ৪৫)।

নামাজ মানুষের অন্যতম ইবাদত হওয়ার কারণ হলো, এ নামাজের মাধ্যমেই মানুষ যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থেকে পবিত্র জীবন-যাপন করে। উদাহরণ স্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে-

ফোয়ারা বা নদীতে যেমন আপনা-আপনি পানির স্রোত বয়ে যায় ঠিক তেমনি ঈমানদার ব্যক্তির কাছেও স্রোতের মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পর্যায়ক্রমে উপস্থিত হতে থাকে।

কোনো ব্যক্তি যদি নদী কিংবা পানির ফোয়ারা থেকে গোসল করে তবে তার শরীর থেকে যেভাবে ময়লা বিদূরিত হয় ঠিক তেমনি কেউ যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথারীতি আদায় করে তবে তাদের জীবন থেকেও গোনাহনামক ময়লা বিদূরিত হয়ে যায়।

এ কারণেই বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন-

‘জেনে রেখো! নামাজই তোমাদের সর্বোত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত।’

নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো-

আল্লাহর তায়ালার হুকুম পালন বা ইবাদতে সবচেয়ে বেশি আনুগত্য প্রকাশ পায় এ নামাজের মাধ্যমে। নামাজে আল্লাহ এবং বান্দার বাইরে আর কারো কোনো অংশ থাকে না। বান্দা নামাজ পড়ার মাধ্যমে একনিষ্ঠভাবে শুধু আল্লাহ তায়ালারই শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে।

বান্দা যেন মহান আল্লাহ তায়ালার একান্ত সান্নিধ্য লাভ করতে পারে, সে জন্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষের ওপর প্রতিদিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আর বান্দাও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে একান্ত আপন করে নেন। তাই নামাজকে মুমিনের মেরাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

মনে রাখতে হবে, কোনো অজুহাতেই নামাজ তরক করা যাবে না। কারণ-

‘মুসলিম এবং কাফের ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ তরক করা।’ অর্থাৎ কাফের নামাজ ছেড়ে দেয় আর মুসলিম নামাজ প্রতিষ্ঠা করে।

মানুষের ঈমান লাভের পর নামাজই হলো ঈমানদারের বাহ্যিক প্রমাণ। যে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে সেই প্রকৃত মুমিন। যে নামাজ আদায় করে না সে মুমিন হতে পারে না।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলিম উম্মাকে সঠিক সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় তথা শ্রেষ্ঠ ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে