Alexa ঢাকার রাস্তায় জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করে প্রশংসিত পুলিশ কর্মকর্তা

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

ঢাকার রাস্তায় জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করে প্রশংসিত পুলিশ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৮ ২৪ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করে প্রশংসিত হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। গত ২২ আগস্ট ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট ফরহাদ মোহাম্মদ। তার দেয়া এই স্ট্যাটাসটি স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেকে সাধুবাদ জানিয়ে তার মন্তব্য দিয়েছেন। তার দেয়া স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- 

আজ যখন এডিসি জ্যোতির্ময় স্যারের নেতৃত্বে আনন্দ নিকেতনের সামনে অবৈধভাবে পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছিলাম তখন এক ভদ্রলোক মদিনা মার্কেট থেকে খবর পেয়ে এসেছেন আমাদের ধন্যবাদ জানাতে। তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এই স্কুল দুইটার জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আমাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ এই উদ্যোগ নেয়ার জন্য।' শুধু এই ভদ্রলোক নয়, এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভার আমাদের ধন্যবাদ দিয়ে গেছেন। আমি এর আগে অনেক ডিউটি করেছি কিন্তু একটা কাজে এতো পরিমাণ ধন্যবাদ পাইনি। এমনকি আমার কলেজগামী ছোট ভাই বাসায় এসে বললো, আজকে আনন্দ নিকেতন এর সামনে জ্যামে পরতে হয়নি। এই রাস্তায় চলাচল করা প্রতিটি মানুষ ধরেই নেয় সকাল দুপুর এখানে জ্যামে পড়তেই হবে।

ডিসি ট্রাফিক মহোদয়ের নির্দেশ ক্রমে আনন্দ নিকেতন আর রাইজে আসা গাড়িগুলোকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এখন এখানে কেউ পার্কিং করলেই মামলা করা হচ্ছে। তাছাড়া ড্রাইভার পাওয়া না গেলে ভিডিও মামলা করা হচ্ছে। এবং এই দুই স্কুলের গাড়িগুলো যাতে লন্ডনী রাস্তার মুখে ইউটার্ন না নিতে পারে সে জন্য দড়ি বেঁধে ইন্টারসেকশন বন্ধ করা হয়েছে, যেটা আমি গত একবছর ধরে বলে আসছিলাম। এই দড়ি থেরাপির মাধ্যমে সুফল ভোগ করছে হাজার হাজার মানুষ। মাত্র একশ মিটার রাস্তা অতিক্রম করে যদি গাড়িগুলো পাঠানটুলা পয়েন্টে গিয়ে ইউটার্ন করে তাহলে এই স্কুলের সামনে জ্যামের সৃষ্টি হবে না। এই সাধারণ জ্ঞানটুকু চালকেরা রাখে না।

শুধু চালক কেন গাড়িতে বসা শিক্ষিত(!) ভদ্রলোক ভদ্রমহিলাও বুঝতে চান না। দশ মিনিট জ্যামে পড়ে থাকবে তবুও একশ মিটার দূরে গিয়ে ইউটার্ন করবে না। তাছাড়া গাড়ি মেইন রোডে পার্কিং না করে সাগর দীঘির পাড়ের রাস্তাটা ব্যবহার করতে পারেন৷ সামান্য একটু জায়গা হাঁটতে হবে বলে আমাদের শিক্ষিত সমাজ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভুলে যান৷ আমরা শুধু সবার আগে নিজের সুবিধাটাই ভাবি। আমার সুবিধা ভোগের ফলে যে অন্য আরেকজনের সমস্যা হচ্ছে সেটা খেয়াল করি না৷ হয়তো এটাই আমাদের সংস্কৃতি।

অনেকেই প্রশ্ন করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয় না কেন? স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সেই প্রশ্নটা করলেই পারেন। আপনার সন্তানকে যখন স্কুলে ভর্তি করাবেন তখন যেনে নিবেন সেই স্কুলের পার্কিং সুবিধা আছে কি না৷ এক গার্ড বললো, ছাত্র ভর্তির সময় নাকি কর্তৃপক্ষ বলে দেয় যে তাদের পার্কিং সুবিধা নেই। চাইলে ভর্তি করান নাইলে না।

যাই হোক আমরা সমস্যা সৃষ্টি করতে আসিনি। সমস্যার সমাধান করাই আমাদের কাজ। এতে করে সমস্যা সৃষ্টিকারীর সঙ্গে আমাদের প্রায়শই তর্কাতর্কি হয়। কথায় কথায় বদলি হয়। চাকরি চলে যায়। তবু আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুবিধা সবার চিন্তা করে চাকরি করে যাই।

ডেইল বাংলাদেশ/জেএইচ