Alexa চাকার ক্ষয়রোধেই খুলনার ট্রেন রাজশাহীর দিকে 

ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

চাকার ক্ষয়রোধেই খুলনার ট্রেন রাজশাহীর দিকে 

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ২১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৫ ২১ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চাকার ক্ষয়রোধেই খুলনার ট্রেন চলল রাজশাহীর দিকে। এটি ভুল নয়। চালকের বা কন্টোল অফিসের অবহেলাতে ট্রেনটি রাজশাহীর দিকে যায়নি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ট্রেনের চাকার ক্ষয়রোধে উল্টো দিকে চলাচলের জন্য (র‌্যাক) বগির দিক পরিবর্তন করা হয়। যেন চাকার ক্ষয়রোধ করে রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এমনটাই দাবি করেছেন রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভুলে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন হয়ে রাজশাহীর দিকে যায়নি। এটা রেলওয়ের রুটিন মাফিক কাজের অংশ। এই নিয়ে ট্রেনের যাত্রী সাধারণের বিভ্রান্তিতে পড়ার কোনো কারণ নেই। প্রতি ২-৩ বছর পরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ট্রেনের র‌্যাকের দিক ঘোরানোর কাজ করা হয়। এই জন্য পূর্ব থেকেই স্টেশন মাস্টার, ট্রেন চালক, নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়। ট্রেনের যাত্রীদের বিষয়টি জানানোর জন্য স্টেশনে মাইকিং করা হয়।

রোববার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদীর বাইপাস স্টেশন অতিক্রম করে রাজশাহীর দিকে গেলে ট্রেনের যাত্রী সাধারণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরো জানান, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাতে বাইপাস স্টেশনে আসে। তখন ট্রেনের র‌্যাক ঘোরানো হবে বলে মাইকিং করা হয়। কিন্তু ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রীয় হয়তো বা ঘুমিয়েছিলেন। তাই ঘোষণাটি শুনতে বা বুঝতে না পেরে কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকতে পারেন।

রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মাদ আহসান উল্যাহ ভূঁইয়া জানান, ট্রেনের র‌্যাকের দিক ঘোরানোর কাজটি রুটিন মাফিক কাজ। ট্রেনের র‌্যাক ঘোরানোর কাজ সাধারণ ছুটির দিন অর্থাৎ ট্রেনগুলোর বন্ধের দিনে করা হয়।

তিনি আরো জানান, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটির র‌্যাক ঘোরানোর জন্য খুলনা থেকে ঈশ্বরদীতে আসতে হতো, আবার যাত্রী আনার জন্য খুলনায় যেতে হতো। কারণ ঈশ্বরদী ছাড়া র‌্যাক ঘোরানোর জায়গা খুলনা বা অন্য কোথাও নেই। তাই অপচয় রোধে বন্ধের দিনের অপেক্ষায় না থেকে সংশ্লিষ্ট ককর্তৃপক্ষের অনুমোদনকৃত দিন ঠিক রাখতে এবং সব নিয়ম নীতি মেনেই ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে রোববার রাতে র‌্যাক ঘোরানোর কাজটি করা হয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রোববার সন্ধায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে খুলনাগামী আন্তনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঈশ্বরদীগামী যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ঈশ্বরদী স্টেশনে না এসে বাইপাস স্টেশন দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটারের মতো রাজশাহীর দিকে চলে যায়। এই সময় যাত্রীরা আতংকিত হয়ে চিৎকার শুরু করে। এরপর ট্রেনটি থেকে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে আসে। এই সময় ঈশ্বরদী স্টেশনে নেমে যাওয়া যাত্রীরা বাইপাস স্টেশনে নেমে বিভিন্ন ধরণের পরিবহনে নিজ নিজ বাসায় ফেরেন।

ওইদিন ঈশ্বরদী স্টেশনে আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ও বাইপাস স্টেশনে আন্তনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির দিক পরিবর্তন করা হয়। ঢাকা অভিমুখে চলাচলকারী সব ট্রেনের র‌্যাক সমুহ ঈশ্বরদী/ ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে ঘোরানোর জন্য বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী মমতাজুল ইসলাম রাজশাহী চিফ অপারেশন সুপারিনটেনডেন্ট কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদন অনুমোদন হওয়ার পরই গত ২০ অক্টোবর থেকে ট্রেনের র‌্যাক সমূহ ঘোরানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর এই কার্যক্রম চলবে। এই সময় এই রেল রুটে চলাচলকারী আন্তনগর পদ্মা এক্সপ্রেস, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের (এমটি র‌্যাক), আন্তনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, বেনাপল এক্সপ্রেস ও সিরাগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের (এমটি র‌্যাক) দিক ঘোরানোর কাজ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ