কফিনসহ মৃতদেহের গোপনাঙ্গও স্বর্ণে মুড়িয়ে সমাধি দেয়া হয়!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৪ ১৪২৭,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কফিনসহ মৃতদেহের গোপনাঙ্গও স্বর্ণে মুড়িয়ে সমাধি দেয়া হয়!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩১ ৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৪:৪৯ ৩ জুন ২০২০

ছবি: ভার্না ম্যানের সমাধি

ছবি: ভার্না ম্যানের সমাধি

বুলগেরিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিকরা ১৯৭০ এর দশকে স্বর্ণের হস্তনির্মিত এক বস্তুর সন্ধান পায়। খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর পূর্বের তাম্রযুগের সমাধিস্থল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ওই স্বর্ণের বস্তুটির সন্ধান পায়। 

প্রত্নতত্ত্ববিদরা যদিও নির্দিষ্ট ওই সমাধিস্থল থেকে স্বর্ণের মূল্যবান বস্তুর সন্ধান পাবেন বলে আশা করেননি। ধারণা করা হয়, সমাধিটি ছিল একজন উচ্চ শ্রেণির পুরুষের। যার মৃতদেহের সঙ্গে স্বর্ণ এবং মূল্যবান ধনসম্পদও ছিল। সে সময় সমাধিস্থলটিতে অন্যান্য যে কোনো স্থান থেকে বেশি স্বর্ণ ছিল। 

মেসোপটেমিয়া, মিশরীয় ও সিন্ধু সভ্যতা ইতিহাসে অনেক পরিচিত। তবে কৃষ্ণ সাগরের তীরে গড়ে ওঠা বুলগেরিয়ার প্রায় সাত হাজার বছরের প্রাচীন এই সভ্যতা খুব বেশি বিখ্যাত নয়। প্রাচীন বুলগেরিয়ায় গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ ভার্না সংস্কৃতি সম্পর্কে ইতিহাসে খুব বেশি তথ্য ছিল না। সেখানেই স্বর্ণের কারুকার্যযুক্ত অলঙ্কার প্রথম তৈরি করার নিদর্শন পাওয়া যায়। 

স্বর্ণবোঝাই সমাধি ভার্না বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের প্রাগৈতিহাসিক কালের বৃহত্তম সমাধিস্থলের জন্য পরিচিত। প্রাচীনকালে সেখানেই প্রথম কারুশিল্পজাত পণ্য তৈরি হত বলে জানা যায়। ইউরোপে প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল ভার্নাতেই। বুলগেরিয়ার ভার্না থেকে প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে জানা যায়, এগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ৪৬০০ অব্দ থেকে ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্য সময়ের। 

এসময় সেখানে স্বর্ণের কারুকাজ করা শুরু হয়। প্রাচীন সভ্যতাগুলোর ইতিহাসে ভার্নাতেই প্রথম স্বর্ণের কারুকাজ শুরু হয়। প্রাচীন ভার্নার কারিগররা স্বর্ণ এবং তামার ধাতব বিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এটি বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান বস্তু ছিল। 

ভার্নার সঙ্গে সে সময় কৃষ্ণসাগর এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশসমূহের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা সমাজ সভ্যতা বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভার্নার বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এখানকার উন্নত সমুদ্র বন্দরেরও বড় ভূমিকা ছিল। 

সমাধিস্থল থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণপ্রাচীন ভার্নার সমাধিস্থল থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং নিদর্শন থেকে স্পষ্ট হয়, সেখানে শক্তিশালী এবং সম্পদশালী শাসক ছিলেন। উক্ত স্থানে সমৃদ্ধ সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছিল। যা হাজারো বছর ধরে পুরো ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করে। অবশ্য ধাতু বিদ্যার বিকাশের ফলে প্রাচীন ভার্নার সমাজে শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছিল। 

ধাতুবিদরা সমাজের উচ্চ শ্রেণিতে পরিণত হয়েছিল। বণিকরা মধ্য শ্রেণির এবং কৃষকরা নিম্ন শ্রেণির ছিল।কাদামাটি, পাথর এবং হাড়ের তৈরি সরঞ্জাম, পাত্র ও মূর্তি প্রাপ্তির মাধ্যমে ভার্নার প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে জানা যায়। তবে ভার্নার গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার প্রাচীনতম স্বর্ণের কারুকার্য নিদর্শনসমূহ। 

১৯৭২ সালে এই তাম্রযুগের সমাধিস্থল খনন করার সময় মূল্যবান ধাতু আবিষ্কৃত হয়। বুলগেরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট ভার্নার এই সমাধিস্থল। ভার্নার প্রাচীন সমাধিস্থল থকে ৩০০টিরও অধিক সমাধি আবিষ্কৃত হয়েছে। যেখান থেকে ২২ হাজারেরও অধিক মহামূল্যবান নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার স্বর্ণের বস্তু আছে। প্রাপ্ত স্বর্ণের বস্তুগুলোর মোট ওজন ছয় কেজি। 

গোপনাঙ্গসহ পুরো মৃতদেহের কফিনও স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো হয়এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট থেকে আবিষ্কৃত অন্যান্য বস্তুর মধ্যে আছে উন্নতমানের পাথরের সরঞ্জাম, গহনা, মৃৎশিল্প প্রভৃতি নিদর্শন। সমাধিস্থল থেকে প্রাপ্ত বস্তুগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ভার্নার প্রাচীন সভ্যতা একটি সুগঠিত সমাজ ছিল। সমাজের অভিজাতদের মৃত্যুর পর স্বর্ণের অলঙ্কার দিয়ে কফিন মুড়িয়ে সমাহিত করা হত। স্বর্ণের অলঙ্কার ছাড়াও কফিনের সঙ্গে অন্যান্য মূল্যবান বস্তুও দেয়া হত। 

এখানে কয়েকটি সাধারণ সামাধিও আবিষ্কৃত হয়েছে। অনেকগুলো অভিজাত সমাধির মধ্য থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন এই পুরুষের দেহাবশেষ পেয়েছিলেন। তিনি শাসক ছিলেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এই সমাধি থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া গিয়েছে তা সে সময়ের ব্যবহৃত পৃথিবীর অন্য সব স্বর্ণের থেকে বেশি ছিল। তাকে একটি রাজদণ্ড দিয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। তার উচ্চপদ কিংবা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক বোঝানো হয়েছে এর দ্বারা। 

প্রাচীন ভার্নার উচ্চপদস্থ এই ব্যক্তির পুরুষাঙ্গে একটি স্বর্ণের আচ্ছাদন দেয়া হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা সামধিটি প্রায় খ্রীষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর পূর্বের। প্রাচীন ভার্নার সমাধিস্থল থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান নিদর্শন থেকে সমাজ, ধর্মীয় বিশ্বাস সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। তাদের ধাতুবিদ্যা পরবর্তী সভ্যতাগুলোতে অনেক প্রভাব বিস্তার করে।

সূত্র: অ্যানসাইন্টঅরিজিন 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস