Alexa ওসির বিরুদ্ধে নালিশ করায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

ওসির বিরুদ্ধে নালিশ করায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:০১ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ডিআইজির কাছে ওসির বিরুদ্ধে নালিশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক এক পুলিশ সদস্যর বিধবা স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে গাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বরিশালের উজিরপুর মডেল থানা সংলগ্ন চায়ের দোকানে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধার নাম রাশিদা বেগম।

অভিযোগ উঠেছে, বৃদ্ধার গালে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দেন উজিরপুর মডেল থানার ওসি’র ড্রাইভার পুলিশ সদস্য জাহিদ হোসেন।

এ ঘটনার পরপরই ওই বৃদ্ধা থানা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর ওসির হাতে মারধরের শিকার বৃদ্ধা রাশিদা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, জাহিদ পুলিশ এই চায়ের দোকানে (থানা সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে বাচ্চুর দোকান) বসে আমার গালে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। দেয়ালের সঙ্গে আমার মাথা ঠুকিয়েছে। পিঠে ও ঘাড়ে ছয় থেকে সাতটি ঘুষি দিয়েছে। পাশের লোকজন ও দোকানদার না থাকলে আমাকে মেরেই ফেলতো।

রাশিদা বেগম আরো বলেন, জাহিদ পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে থানার ওসি শিশির কুমার পালের রুমে গিয়ে বিষয়টি জানাই। এ সময় সেখানে উপস্থিত থানার আরো একজন পুলিশ সদস্য ওসিকে বলে স্যার ঘটনাটি সত্য। এ কথা শোনার পরই ওসি শিশির কুমার চেয়ার থেকে উঠে আমাকে মারধর করে কক্ষ থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেন।

বৃদ্ধা রাশিদা জানান, তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার পানিচত্বর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী মঈন উদ্দিন মাতুব্বর একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর আগে তার স্বামী দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মারা যায়। কিছুদিন পরে তার দুই ছেলেও মারা যায়। স্বামী ও দুই ছেলের মৃত্যুর পর বৃদ্ধা রাশিদার বরিশাল পুলিশ বু্যুরো ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) অফিসে চাকরি হয়। সে সুবাদে রাশিদা উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তার মেয়েকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

বৃদ্ধা রাশিদা আরো জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয় বখাটে শুক্কুর আলী, বোরহান উদ্দিন, আনিচুর রহমানসহ কয়েকজন বখাটে তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গত ২৪দিন আগে তার মেয়েকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পুলিশ সংবাদ দিয়ে তাকে থানায় ডেকে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় বৃদ্ধা রাশিদা থানার ওসি শিশির কুমার পালকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। কিন্তু ওসি তাকে বলে আপনার মেয়ে পেয়েছেন আপনি চলে যান বিচার হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতে থানা থেকে মেয়েকে নিয়ে বৃদ্ধা রাশিদা বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে আগের অভিযুক্তরাই আবার তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুনরায় থানায় আসলে ওসির কথানুযায়ী অভিযোগ লিখে জমা দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পেয়ে পরেরদিন নতুন করে আবার একটি অভিযোগ দিলে ওসি রাশিদার সামনে বসেই অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলে দেন।

বৃদ্ধা রাশিদা বেগম বলেন, আমি তিনবার অভিযোগ লিখে ওসির কাছে দিয়েছি। প্রত্যেকবারই ওসি আমার সামনে বসেই অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেন এসব নিয়ে সময় নষ্ট করা সম্ভবনা। অপরদিকে মেয়েকে ছিনিয়ে নেয়া ওইসব বখাটেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ার অভিযুক্তদের স্বজনরা তার (রাশিদা) ভাড়া বাসায় তালা ঝুঁলিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে সম্প্রতি বৃদ্ধা রাশিদা বেগম বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে পুরো ঘটনাটি জানিয়ে ওসি শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক রেঞ্জ ডিআইজি উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমারকে ফোন করে বৃদ্ধা রাশিদাকে আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তার ভাড়া বাসা থেকে মালামাল উদ্ধারের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

রাশিদা আরো বলেন, ডিআইজি স্যারের কাছে যাওয়ার পরে ওসি বুধবার সন্ধ্যায় আমাকে থানায় ডেকে আনেন। সন্ধ্যায় আমি থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে তার রুমে গেলে তিনি বলেন, আপনি একটু পরে আসেন, আপাতত থানার বাহিরে চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। ওসির কথানুযায়ী রাশিদা তার রুম থেকে বেড়োতেই ওসির ড্রাইভার পুলিশ সদস্য জাহিদ হোসেন তাকে বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি (রাশিদা) জানায় মাদারীপুর। পরবর্তীতে থানার সামনের চায়ের দোকানে গিয়ে বসার পর ওই পুলিশ সদস্য জাহিদ ফের রাশিদাকে বলে আপনার বাড়ি কোথায়, এখানে কি? এ সময় বৃদ্ধা রাশিদা বলেন-‘কয়েকবার তো বললাম মাদারীপুর, শোনেনি।’ এরপরই পুলিশ সদস্য জাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে (রাশিদা) মারধর করে গালে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

রাশিদা বেগমের দাবি, ডিআইজির কাছে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় থানার ওসি শিশির কুমার পাল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ সদস্য জাহিদকে দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। জাহিদ পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়ে সঙ্গে সঙ্গে থানার মধ্যে ওসি শিশির কুমার পালের রুমে গিয়ে রাশিদা বেগম বিষয়টি জানান। ওইসময় দ্বিতীয় দফায় রাশিদা বেগমকে মারধর করেন ওসি শিশির কুমার পাল।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল সাংবাদিকদের জানান, থানার বাইরে কি হয়েছে, রাশিদা বেগমকে মারধর করেছে তা তার জানা নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ