আজ ২৬তম তারাবি: আয়াত, বিষয়বস্তু ও অর্থ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আজ ২৬তম তারাবি: আয়াত, বিষয়বস্তু ও অর্থ

মাওলানা ওমর শাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৪ ১৯ মে ২০২০   আপডেট: ১৭:১১ ১৯ মে ২০২০

‘পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।’ (সূরা মুলক ৬৭:১)

‘পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।’ (সূরা মুলক ৬৭:১)

আজ ২৬তম তারাবিতে সূরা মুলক, সূরা কলাম, সূরা হাক্কাহ, সূরা মাআরিজ, সূরা নুহ, সূরা জিন, সূরা মুযযাম্মিল, সূরা মুদ্দাসসির, সূরা কেয়ামাহ, সূরা দাহর এবং সূরা মুরসালাত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৯তম পারা।

সূরা মুলক : (আয়াত ৩০, রুকু ২)

এ সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসীম ক্ষমতা, কুদরত, একত্ববাদ, রাজত্ব ও মালিকানার বিবরণ রয়েছে। আল্লাহর অস্তিত্বের বহু প্রমাণ প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। কেয়ামত, জাহান্নাম এবং জাহান্নামের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। 

সূরা কলম : (আয়াত ৫২, রুকু ২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অনুপম গুণাবলি, উত্তম চরিত্র-মাধুর্য ও মান-মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর প্রতি দুশমনদের চারিত্রিক নীচতা, জঘন্যতা ও চিন্তার স্থূলতার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এ সূরায় একটি বাগানের মালিক এবং মালের হক আদায় না করায়, গরিব-দুঃখীকে তাদের প্রাপ্য না দেয়ায় বাগানের মালিকদের নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর আখেরাতে কাফেরদের মন্দ পরিণতি এবং মুত্তাকিদের উত্তম পরিণাম সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। মুশরিকদের দেয়া কষ্টে রাসূল (সা.)-কে সবরের উপদেশ দেয়া হয়েছে।

সূরা আল-হাক্কাহ : (আয়াত ৫২, রুকু ২)

কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং আদ, সামুদ ও লুত জাতির পরিণতির বিবরণ দেয়া হয়েছে এ সূরায়। এরপর কেয়ামতপূর্ব বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে নেককারদের ডান হাতে আমলনামা এবং হতভাগা বদকারদের বাম হাতে আমলনামা প্রদান করা হবে। তারপর জাহান্নামে কাফেরদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে রাসূল (সা.) এর নবুয়তের সত্যতা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা মাআরিজ : (আয়াত ৪৪, রুকু ২)

কেয়ামতের আলোচনা দিয়ে সূরাটি শুরু হয়েছে। এতে মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির বিবরণ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ বক্তব্যের মাধ্যমে সূরাটি শেষ হয়েছে।

সূরা নুহ : (আয়াত ২৮, রুকু ২)

হজরত নুহ (আ.) এর দীর্ঘকাল মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং এর বিপরীতে সম্প্রদায়ের আচরণ প্রসঙ্গে এ সূরায় আলোকপাত করা হয়েছে। হজরত নুহ (আ.) এর জবানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ফজিলত ও ফায়দা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন, বৃষ্টি দেবেন, সহায়-সম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, বাগবাগিচা এবং নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। আরো বলা হয়েছে কাফেরদের ধ্বংস এবং মুমিনদের জন্য মাগফিরাতের সুসংবাদ।

সূরা জিন : (আয়াত ২৮, রুকু ২)

পবিত্র কোরআনের অমীয় বাণী শুনে মুগ্ধ হয়েছিল এমন একদল জিনের আলোচনা করা হয়েছে সূরায়, যারা কোরআনের সত্যতা স্বীকার করে ধন্য হয়েছিল। এ দলটি শুধু নিজেরাই ঈমান গ্রহণ করেনি, বরং ফিরে গিয়ে নিজ সম্প্রদায়কেও ঈমানের দাওয়াত দেয়। জিনদের আলোচনা প্রসঙ্গে এ সূরায় নাবীয়ে আরাবি (সা.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গেও আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে নিজ সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেন, আমি তো শুধু আল্লাহকে ডাকি, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না; উপকার-ক্ষতি কোনো কিছুই আমার হাতে নেই। আমার কাজ তো হলো আল্লাহর পয়গামকে তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া আর আল্লাহ জানেন, আমি তাঁর পয়গামকে তাঁর বান্দাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। গায়েবের বিষয়ে কেবল আল্লাহই জানেন মর্মে আলোচনার মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

সূরা মুজ্জাম্মিল : (আয়াত ২০, রুকু ২)

রাসূল (সা.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর পার্থিব সবকিছু ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে ছুটে চলা, ইবাদত-বন্দেগি, রাতের তাহাজ্জুদ ও রোনাজারি, কোরআনের তেলাওয়াত, দ্বীনের জন্য মুজাহাদা ও আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম ইত্যাদি প্রসঙ্গে। রাসূল (সা.)-কে মুশরিকদের কষ্টে সবর করার হুকুম দেয়া হয়েছে। ফেরাউন ও তার বাহিনীর পরিণতি শুনিয়ে নবীবিরোধীদের সতর্ক করা হয়েছে। সূরার শেষে মুসলিমদের প্রতি আল্লাহর সহজীকরণ এবং কাজ লাঘবের বর্ণনা রয়েছে।

সূরা মুদ্দাসসির : (আয়াত ৫৬, রুকু ২)

আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহ্বানের বার্তা দিয়ে এ সূরা শুরু করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর দাওয়াতের পথে যারা বাধা দিত, তাদের পরিণাম সম্পর্কেও বলা হয়েছে। কেয়ামতের দিন জান্নাতি এবং জাহান্নামিদের অবস্থা কী হবে, সে সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা কেয়ামা : (আয়াত ৪০, রুকু ২)

এ সূরার মূল আলোচ্য বিষয় পুনরুত্থান এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবন। এতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, কঠিনতা এবং শাস্তির বিবরণ দেয়া হয়েছে এবং মৃত্যুর সময় মানুষের যে অবস্থা হবে, তার একটি চিত্র আঁকা হয়েছে। মানুষকে আল্লাহ অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন এ বিশ্বাস অন্তরে জগ্রত রাখতে হবে।

সূরা দাহর : (আয়াত ৩১, রুকু ২)

এ সূরায় জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত এবং জাহান্নামের শাস্তির বিবরণ রয়েছে। মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিভিন্ন নেয়ামতের আলোচনার পর বলা হয়েছে, কিছু মানুষ কৃতজ্ঞ আর কিছু অকৃতজ্ঞ। প্রত্যেকেই নিজ কর্মফল লাভ করবে। শেষে সবর এবং আল্লাহর গুণকীর্তনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূরা মুরসালাত : (আয়াত ৫০, রুকু ২)

কেয়ামতের সময় পৃথিবীর যে ভয়াবহ অবস্থা হবে, সে বিবরণ রয়েছে এই সূরায়। বারবার বলা হয়েছে, যারা কেয়ামত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। মুত্তাকি এবং অপরাধীদের শেষ পরিণামের বিবরণ দিয়ে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

আজকের পঠিতব্য আয়াত ও অর্থ-

সূরা মুলক:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। [ সূরা মুলক ৬৭:১ ]

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ
যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়। [ সূরা মুলক ৬৭:২ ]

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ
তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? [ সূরা মুলক ৬৭:৩ ]

ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِأً وَهُوَ حَسِيرٌ
অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। [ সূরা মুলক ৬৭:৪ ]

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاء الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِّلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ
আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি। [ সূরা মুলক ৬৭:৫ ]

وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান। [ সূরা মুলক ৬৭:৬ ]

إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ
যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে। [ সূরা মুলক ৬৭:৭ ]


تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ
ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি? [ সূরা মুলক ৬৭:৮ ]

قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ
তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ তা'আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ। [ সূরা মুলক ৬৭:৯ ]

وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ
তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না। [ সূরা মুলক ৬৭:১০ ]

فَاعْتَرَفُوا بِذَنبِهِمْ فَسُحْقًا لِّأَصْحَابِ السَّعِيرِ
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামীরা দূর হোক। [ সূরা মুলক ৬৭:১১ ]

إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। [ সূরা মুলক ৬৭:১২ ]

وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। [ সূরা মুলক ৬৭:১৩ ]

أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি করে জানবেন না? তিনি সূক্ষ্নজ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত। [ সূরা মুলক ৬৭:১৪ ]

هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে। [ সূরা মুলক ৬৭:১৫ ]

أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ
তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। [ সূরা মুলক ৬৭:১৬ ]

أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ
না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। [ সূরা মুলক ৬৭:১৭ ]

وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ
তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কত কঠোর হয়েছিল আমার অস্বীকৃতি। [ সূরা মুলক ৬৭:১৮ ]

أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ
তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান আল্লাহ-ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব-বিষয় দেখেন। [ সূরা মুলক ৬৭:১৯ ]

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ
রহমান আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত তোমাদের কোন সৈন্য আছে কি, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফেররা বিভ্রান্তিতেই পতিত আছে। [ সূরা মুলক ৬৭:২০ ]

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَل لَّجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ
তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে রয়েছে। [ সূরা মুলক ৬৭:২১ ]

أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি সৎ পথে চলে, না সে ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরলপথে চলে? [ সূরা মুলক ৬৭:২২ ]

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [ সূরা মুলক ৬৭:২৩ ]

قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে। [ সূরা মুলক ৬৭:২৪ ]

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
কাফেররা বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? [ সূরা মুলক ৬৭:২৫ ]

قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার কাছেই আছে। আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী। [ সূরা মুলক ৬৭:২৬ ]

فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ
যখন তারা সেই প্রতিশ্রুতিকে আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখমন্ডল মলিন হয়ে পড়বে এবং বলা হবেঃ এটাই তো তোমরা চাইতে। [ সূরা মুলক ৬৭:২৭ ]

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ-যদি আল্লাহ তা'আলা আমাকে ও আমার সংগীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফেরদেরকে কে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? [ সূরা মুলক ৬৭:২৮ ]

قُلْ هُوَ الرَّحْمَنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ-ভ্রষ্টতা য় আছে। [ সূরা মুলক ৬৭:২৯ ]

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَاء مَّعِينٍ
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা? [ সূরা মুলক ৬৭:৩০ ]

সূরা কলাম:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ
নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে, [ সূরা কালাম ৬৮:১ ]

مَا أَنتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ
আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন। [ সূরা কালাম ৬৮:২ ]

وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ
আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার। [ সূরা কালাম ৬৮:৩ ]

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। [ সূরা কালাম ৬৮:৪ ]

فَسَتُبْصِرُ وَيُبْصِرُونَ
সত্ত্বরই আপনি দেখে নিবেন এবং তারাও দেখে নিবে। [ সূরা কালাম ৬৮:৫ ]

بِأَييِّكُمُ الْمَفْتُونُ
কে তোমাদের মধ্যে বিকারগ্রস্ত। [ সূরা কালাম ৬৮:৬ ]

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
আপনার পালনকর্তা সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত। [ সূরা কালাম ৬৮:৭ ]

فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِينَ
অতএব, আপনি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করবেন না। [ সূরা কালাম ৬৮:৮ ]

وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ
তারা চায় যদি আপনি নমনীয় হন, তবে তারাও নমনীয় হবে। [ সূরা কালাম ৬৮:৯ ]

وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِينٍ
যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। [ সূরা কালাম ৬৮:১০ ]

هَمَّازٍ مَّشَّاء بِنَمِيمٍ
যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে। [ সূরা কালাম ৬৮:১১ ]

مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ
যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সে সীমালংঘন করে, সে পাপিষ্ঠ, [ সূরা কালাম ৬৮:১২ ]

عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ
কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত; [ সূরা কালাম ৬৮:১৩ ]

أَن كَانَ ذَا مَالٍ وَبَنِينَ
এ কারণে যে, সে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী। [ সূরা কালাম ৬৮:১৪ ]

إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا قَالَ أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা। [ সূরা কালাম ৬৮:১৫ ]

سَنَسِمُهُ عَلَى الْخُرْطُومِ
আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব। [ সূরা কালাম ৬৮:১৬ ]

إِنَّا بَلَوْنَاهُمْ كَمَا بَلَوْنَا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ إِذْ أَقْسَمُوا لَيَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِينَ
আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে, [ সূরা কালাম ৬৮:১৭ ]

وَلَا يَسْتَثْنُونَ
ইনশাআল্লাহ না বলে। [ সূরা কালাম ৬৮:১৮ ]

فَطَافَ عَلَيْهَا طَائِفٌ مِّن رَّبِّكَ وَهُمْ نَائِمُونَ
অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল। [ সূরা কালাম ৬৮:১৯ ]

فَأَصْبَحَتْ كَالصَّرِيمِ
ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম। [ সূরা কালাম ৬৮:২০ ]

فَتَنَادَوا مُصْبِحِينَ
সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল, [ সূরা কালাম ৬৮:২১ ]

أَنِ اغْدُوا عَلَى حَرْثِكُمْ إِن كُنتُمْ صَارِمِينَ
তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল। [ সূরা কালাম ৬৮:২২ ]

فَانطَلَقُوا وَهُمْ يَتَخَافَتُونَ
অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে, [ সূরা কালাম ৬৮:২৩ ]

أَن لَّا يَدْخُلَنَّهَا الْيَوْمَ عَلَيْكُم مِّسْكِينٌ
অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে। [ সূরা কালাম ৬৮:২৪ ]

وَغَدَوْا عَلَى حَرْدٍ قَادِرِينَ
তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল। [ সূরা কালাম ৬৮:২৫ ]

فَلَمَّا رَأَوْهَا قَالُوا إِنَّا لَضَالُّونَ
অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি। [ সূরা কালাম ৬৮:২৬ ]

بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ
বরং আমরা তো কপালপোড়া, [ সূরা কালাম ৬৮:২৭ ]

قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ
তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন? [ সূরা কালাম ৬৮:২৮ ]

قَالُوا سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
তারা বলল, আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম। [ সূরা কালাম ৬৮:২৯ ]

فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَلَاوَمُونَ
অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল। [ সূরা কালাম ৬৮:৩০ ]

قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا طَاغِينَ
তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী। [ সূরা কালাম ৬৮:৩১ ]

عَسَى رَبُّنَا أَن يُبْدِلَنَا خَيْرًا مِّنْهَا إِنَّا إِلَى رَبِّنَا رَاغِبُونَ
সম্ভবতঃ আমাদের পালনকর্তা পরিবর্তে এর চাইতে উত্তম বাগান আমাদেরকে দিবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী। [ সূরা কালাম ৬৮:৩২ ]

كَذَلِكَ الْعَذَابُ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
শাস্তি এভাবেই আসে এবং পরকালের শাস্তি আরও গুরুতর; যদি তারা জানত! [ সূরা কালাম ৬৮:৩৩ ]

إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ
মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত। [ সূরা কালাম ৬৮:৩৪ ]

أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ
আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব? [ সূরা কালাম ৬৮:৩৫ ]

مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তোমাদের কি হল ? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ? [ সূরা কালাম ৬৮:৩৬ ]

أَمْ لَكُمْ كِتَابٌ فِيهِ تَدْرُسُونَ
তোমাদের কি কোন কিতাব আছে, যা তোমরা পাঠ কর। [ সূরা কালাম ৬৮:৩৭ ]

إِنَّ لَكُمْ فِيهِ لَمَا تَخَيَّرُونَ
তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও? [ সূরা কালাম ৬৮:৩৮ ]

أَمْ لَكُمْ أَيْمَانٌ عَلَيْنَا بَالِغَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُونَ
না তোমরা আমার কাছ থেকেকেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন শপথ নিয়েছ যে, তোমরা তাই পাবে যা তোমরা সিদ্ধান্ত করবে? [ সূরা কালাম ৬৮:৩৯ ]

سَلْهُم أَيُّهُم بِذَلِكَ زَعِيمٌ
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের কে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল? [ সূরা কালাম ৬৮:৪০ ]

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاء فَلْيَأْتُوا بِشُرَكَائِهِمْ إِن كَانُوا صَادِقِينَ
না তাদের কোন শরীক উপাস্য আছে? থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়। [ সূরা কালাম ৬৮:৪১ ]

يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ
গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না। [ সূরা কালাম ৬৮:৪২ ]

خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ
তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে; তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হত। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৩ ]

فَذَرْنِي وَمَن يُكَذِّبُ بِهَذَا الْحَدِيثِ سَنَسْتَدْرِجُهُم مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ
অতএব, যারা এই কালামকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৪ ]

وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ
আমি তাদেরকে সময় দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৫ ]

أَمْ تَسْأَلُهُمْ أَجْرًا فَهُم مِّن مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُونَ
আপনি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান? ফলে তাদের উপর জরিমানার বোঝা পড়ছে? [ সূরা কালাম ৬৮:৪৬ ]

أَمْ عِندَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ
না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৭ ]

فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُن كَصَاحِبِ الْحُوتِ إِذْ نَادَى وَهُوَ مَكْظُومٌ
আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৮ ]

لَوْلَا أَن تَدَارَكَهُ نِعْمَةٌ مِّن رَّبِّهِ لَنُبِذَ بِالْعَرَاء وَهُوَ مَذْمُومٌ
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত। [ সূরা কালাম ৬৮:৪৯ ]

فَاجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَجَعَلَهُ مِنَ الصَّالِحِينَ
অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। [ সূরা কালাম ৬৮:৫০ ]

وَإِن يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ
কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল। [ সূরা কালাম ৬৮:৫১ ]

وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ
অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়। [ সূরা কালাম ৬৮:৫২ ]

সূরা হাক্কাহ:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

الْحَاقَّةُ
সুনিশ্চিত বিষয়। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১ ]

مَا الْحَاقَّةُ
সুনিশ্চিত বিষয় কি? [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২ ]

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحَاقَّةُ
আপনি কি কিছু জানেন, সেই সুনিশ্চিত বিষয় কি? [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩ ]

كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌ بِالْقَارِعَةِ
আদ ও সামুদ গোত্র মহাপ্রলয়কে মিথ্যা বলেছিল। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪ ]

فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ
অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৫ ]

وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ
এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৬ ]

سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ
যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখতেন যে, তারা অসার খর্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৭ ]

فَهَلْ تَرَى لَهُم مِّن بَاقِيَةٍ
আপনি তাদের কোন অস্তিত্ব দেখতে পান কি? [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৮ ]

وَجَاء فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُ وَالْمُؤْتَفِكَاتُ بِالْخَاطِئَةِ
ফেরাউন, তাঁর পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা গুরুতর পাপ করেছিল। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৯ ]

فَعَصَوْا رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً
তারা তাদের পালনকর্তার রসূলকে অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করলেন। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১০ ]

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاء حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১১ ]

لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ
যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় এবং কান এটাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১২ ]

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ
যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৩ ]

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ন করে দেয়া হবে, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৪ ]

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৫ ]

وَانشَقَّتِ السَّمَاء فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৬ ]

وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ
এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৭ ]

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنكُمْ خَافِيَةٌ
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৮ ]

فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَؤُوا كِتَابِيهْ
অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৯ ]

إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيهْ
আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২০ ]

فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ
অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২১ ]

فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
সুউচ্চ জান্নাতে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২২ ]

قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ
তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৩ ]

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ
বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৪ ]

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيهْ
যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৫ ]

وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيهْ
আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব! [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৬ ]

يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ
হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৭ ]

مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيهْ
আমার ধন-সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৮ ]

هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيهْ
আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:২৯ ]

خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩০ ]

ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ
অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩১ ]

ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ
অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩২ ]

إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ
নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৩ ]

وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ
এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৪ ]

فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ
অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৫ ]

وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ
এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৬ ]

لَا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِؤُونَ
গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৭ ]

فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ
তোমরা যা দেখ, আমি তার শপথ করছি। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৮ ]

وَمَا لَا تُبْصِرُونَ
এবং যা তোমরা দেখ না, তার- [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩৯ ]

إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ
নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪০ ]

وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ
এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪১ ]

وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ
এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪২ ]

تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৩ ]

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ
সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৪ ]

لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম, [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৫ ]

ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৬ ]

فَمَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৭ ]

وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ
এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৮ ]

وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِينَ
আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৪৯ ]

وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ
নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৫০ ]

وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ
নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৫১ ]

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন। [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৫২ ]

সূরা মাআরিজ:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ
একব্যক্তি চাইল, সেই আযাব সংঘটিত হোক যা অবধারিত- [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১ ]

لِّلْكَافِرينَ لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ
কাফেরদের জন্যে, যার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২ ]

مِّنَ اللَّهِ ذِي الْمَعَارِجِ
তা আসবে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে, যিনি সমুন্নত মর্তবার অধিকারী। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩ ]

تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা'আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪ ]

فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا
অতএব, আপনি উত্তম সবর করুন। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৫ ]

إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا
তারা এই আযাবকে সুদূরপরাহত মনে করে, [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৬ ]

وَنَرَاهُ قَرِيبًا
আর আমি একে আসন্ন দেখছি। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৭ ]

يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاء كَالْمُهْلِ
সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৮ ]

وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ
এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত, [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৯ ]

وَلَا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا
বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১০ ]

يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ
যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ত তিকে, [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১১ ]

وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ
তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে, [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১২ ]

وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْويهِ
তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৩ ]

وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنجِيهِ
এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৪ ]

كَلَّا إِنَّهَا لَظَى
কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৫ ]

نَزَّاعَةً لِّلشَّوَى
যা চামড়া তুলে দিবে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৬ ]

تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى
সে সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৭ ]

وَجَمَعَ فَأَوْعَى
সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছিল, অতঃপর আগলিয়ে রেখেছিল। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৮ ]

إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا
মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:১৯ ]

إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا
যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২০ ]

وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا
আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২১ ]

إِلَّا الْمُصَلِّينَ
তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামায আদায় কারী। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২২ ]

الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ
যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৩ ]

وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ
এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৪ ]

لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ
যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৫ ]

وَالَّذِينَ يُصَدِّقُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ
এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৬ ]

وَالَّذِينَ هُم مِّنْ عَذَابِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ
এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৭ ]

إِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَيْرُ مَأْمُونٍ
নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৮ ]

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:২৯ ]

إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ
কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩০ ]

فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩১ ]

وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ
এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩২ ]

وَالَّذِينَ هُم بِشَهَادَاتِهِمْ قَائِمُونَ
এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাব ান [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৩ ]

وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
এবং যারা তাদের নামাযে যত্নবান, [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৪ ]

أُوْلَئِكَ فِي جَنَّاتٍ مُّكْرَمُونَ
তারাই জান্নাতে সম্মানিত হবে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৫ ]

فَمَالِ الَّذِينَ كَفَرُوا قِبَلَكَ مُهْطِعِينَ
অতএব, কাফেরদের কি হল যে, তারা আপনার দিকে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসছে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৬ ]

عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِينَ
ডান ও বামদিক থেকে দলে দলে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৭ ]

أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُدْخَلَ جَنَّةَ نَعِيمٍ
তাদের প্রত্যেকেই কি আশা করে যে, তাকে নেয়ামতের জান্নাতে দাখিল করা হবে? [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৮ ]

كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُم مِّمَّا يَعْلَمُونَ
কখনই নয়, আমি তাদেরকে এমন বস্তু দ্বারা সৃষ্টি করেছি, যা তারা জানে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৩৯ ]

فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ
আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের পালনকর্তার, নিশ্চয়ই আমি সক্ষম! [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪০ ]

عَلَى أَن نُّبَدِّلَ خَيْرًا مِّنْهُمْ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
তাদের পরিবর্তে উৎকৃষ্টতর মানুষ সৃষ্টি করতে এবং এটা আমার সাধ্যের অতীত নয়। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪১ ]

فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ
অতএব, আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা বাকবিতন্ডা ও ক্রীড়া-কৌত ুক করুক সেই দিবসের সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যে দিবসের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪২ ]

يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ
সে দিন তারা কবর থেকে দ্রুতবেগে বের হবে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪৩ ]

خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَانُوا يُوعَدُونَ
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত; তারা হবে হীনতাগ্রস্ত। এটাই সেইদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত। [ সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৪৪ ]

সূরা নুহ:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنذِرْ قَوْمَكَ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি একথা বলেঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর, তাদের প্রতি মর্মন্তদ শাস্তি আসার আগে। [ সূরা নূহ ৭১:১ ]

قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট সতর্ককারী। [ সূরা নূহ ৭১:২ ]

أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ
এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার এবাদত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। [ সূরা নূহ ৭১:৩ ]

يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاء لَا يُؤَخَّرُ لَوْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে! [ সূরা নূহ ৭১:৪ ]

قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি দাওয়াত দিয়েছি; [ সূরা নূহ ৭১:৫ ]

فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا
কিন্তু আমার দাওয়াত তাদের পলায়নকেই বৃদ্ধি করেছে। [ সূরা নূহ ৭১:৬ ]

وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا
আমি যতবারই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, ততবারই তারা কানে অঙ্গুলি দিয়েছে, মুখমন্ডল বস্ত্রাবৃত করেছে, জেদ করেছে এবং খুব ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে। [ সূরা নূহ ৭১:৭ ]

ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا
অতঃপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিয়েছি, [ সূরা নূহ ৭১:৮ ]

ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا
অতঃপর আমি ঘোষণা সহকারে প্রচার করেছি এবং গোপনে চুপিসারে বলেছি। [ সূরা নূহ ৭১:৯ ]

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। [ সূরা নূহ ৭১:১০ ]

يُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, [ সূরা নূহ ৭১:১১ ]

وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। [ সূরা নূহ ৭১:১২ ]

مَّا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا
তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না। [ সূরা নূহ ৭১:১৩ ]

وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا
অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন। [ সূরা নূহ ৭১:১৪ ]

أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا
তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। [ সূরা নূহ ৭১:১৫ ]

وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا
এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। [ সূরা নূহ ৭১:১৬ ]

وَاللَّهُ أَنبَتَكُم مِّنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا
আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন। [ সূরা নূহ ৭১:১৭ ]

ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا
অতঃপর তাতে ফিরিয়ে নিবেন এবং আবার পুনরুত্থিত করবেন। [ সূরা নূহ ৭১:১৮ ]

وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا
আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা। [ সূরা নূহ ৭১:১৯ ]

لِتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا
যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে। [ সূরা নূহ ৭১:২০ ]

قَالَ نُوحٌ رَّبِّ إِنَّهُمْ عَصَوْنِي وَاتَّبَعُوا مَن لَّمْ يَزِدْهُ مَالُهُ وَوَلَدُهُ إِلَّا خَسَارًا
নূহ বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় আমাকে অমান্য করেছে আর অনুসরণ করছে এমন লোককে, যার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তি কেবল তার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছে। [ সূরা নূহ ৭১:২১ ]

وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا
আর তারা ভয়ানক চক্রান্ত করছে। [ সূরা নূহ ৭১:২২ ]

وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا
তারা বলছেঃ তোমরা তোমাদের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নসরকে। [ সূরা নূহ ৭১:২৩ ]

وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيراً وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا
অথচ তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। অতএব আপনি জালেমদের পথভ্রষ্টতাই বাড়িয়ে দিন। [ সূরা নূহ ৭১:২৪ ]

مِمَّا خَطِيئَاتِهِمْ أُغْرِقُوا فَأُدْخِلُوا نَارًا فَلَمْ يَجِدُوا لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ أَنصَارًا
তাদের গোনাহসমূহের দরুন তাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছে, অতঃপর দাখিল করা হয়েছে জাহান্নামে। অতঃপর তারা আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কাউকে সাহায্যকারী পায়নি। [ সূরা নূহ ৭১:২৫ ]

وَقَالَ نُوحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا
নূহ আরও বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না। [ সূরা নূহ ৭১:২৬ ]

إِنَّكَ إِن تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا
যদি আপনি তাদেরকে রেহাই দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল পাপাচারী, কাফের। [ সূরা নূহ ৭১:২৭ ]

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا
হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে , যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে-তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। [ সূরা নূহ ৭১:২৮ ]

সূরা জিন:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا
বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি; [ সূরা জ্বীন ৭২:১ ]

يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না। [ সূরা জ্বীন ৭২:২ ]

وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا
এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার উর্ধ্বে। তিনি কোন পত্নী গ্রহণ করেননি এবং তাঁর কোন সন্তান নেই। [ সূরা জ্বীন ৭২:৩ ]

وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا
আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত। [ সূরা জ্বীন ৭২:৪ ]

وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن تَقُولَ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا
অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। [ সূরা জ্বীন ৭২:৫ ]

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। [ সূরা জ্বীন ৭২:৬ ]

وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا
তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না। [ সূরা জ্বীন ৭২:৭ ]

وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاء فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا
আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। [ সূরা জ্বীন ৭২:৮ ]

وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا
আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে। [ সূরা জ্বীন ৭২:৯ ]

وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন। [ সূরা জ্বীন ৭২:১০ ]

وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا
আমাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত। [ সূরা জ্বীন ৭২:১১ ]

وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن نُّعجِزَ اللَّهَ فِي الْأَرْضِ وَلَن نُّعْجِزَهُ هَرَبًا
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা'আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না। [ সূরা জ্বীন ৭২:১২ ]

وَأَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدَى آمَنَّا بِهِ فَمَن يُؤْمِن بِرَبِّهِ فَلَا يَخَافُ بَخْسًا وَلَا رَهَقًا
আমরা যখন সুপথের নির্দেশ শুনলাম, তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। অতএব, যে তার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে, সে লোকসান ও জোর-জবরের আশংকা করে না। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৩ ]

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُوْلَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا
আমাদের কিছুসংখ্যক আজ্ঞাবহ এবং কিছুসংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আজ্ঞাবহ হয়, তারা সৎপথ বেছে নিয়েছে। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৪ ]

وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا
আর যারা অন্যায়কারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৫ ]

وَأَلَّوِ اسْتَقَامُوا عَلَى الطَّرِيقَةِ لَأَسْقَيْنَاهُم مَّاء غَدَقًا
আর এই প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, তারা যদি সত্যপথে কায়েম থাকত, তবে আমি তাদেরকে প্রচুর পানি বর্ষণে সিক্ত করতাম। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৬ ]

لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَمَن يُعْرِضْ عَن ذِكْرِ رَبِّهِ يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا
যাতে এ ব্যাপারে তাদেরকে পরীক্ষা করি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে উদীয়মান আযাবে পরিচালিত করবেন। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৭ ]

وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
এবং এই ওহীও করা হয়েছে যে, মসজিদসমূহ আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে ডেকো না। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৮ ]

وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا
আর যখন আল্লাহ তা'আলার বান্দা তাঁকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জিন তার কাছে ভিড় জমাল। [ সূরা জ্বীন ৭২:১৯ ]

قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا
বলুনঃ আমি তো আমার পালনকর্তাকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না। [ সূরা জ্বীন ৭২:২০ ]

قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا
বলুনঃ আমি তোমাদের ক্ষতি সাধন করার ও সুপথে আনয়ন করার মালিক নই। [ সূরা জ্বীন ৭২:২১ ]

قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا
বলুনঃ আল্লাহ তা'আলার কবল থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তিনি ব্যতীত আমি কোন আশ্রয়স্থল পাব না। [ সূরা জ্বীন ৭২:২২ ]

إِلَّا بَلَاغًا مِّنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا
কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৩ ]

حَتَّى إِذَا رَأَوْا مَا يُوعَدُونَ فَسَيَعْلَمُونَ مَنْ أَضْعَفُ نَاصِرًا وَأَقَلُّ عَدَدًا
এমনকি যখন তারা প্রতিশ্রুত শাস্তি দেখতে পাবে, তখন তারা জানতে পারবে, কার সাহায্যকারী দূর্বল এবং কার সংখ্যা কম। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৪ ]

قُلْ إِنْ أَدْرِي أَقَرِيبٌ مَّا تُوعَدُونَ أَمْ يَجْعَلُ لَهُ رَبِّي أَمَدًا
বলুনঃ আমি জানি না তোমাদের প্রতিশ্রুত বিষয় আসন্ন না আমার পালনকর্তা এর জন্যে কোন মেয়াদ স্থির করে রেখেছেন। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৫ ]

عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا
তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৬ ]

إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِن رَّسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا
তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। তখন তিনি তার অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন [ সূরা জ্বীন ৭২:২৭ ]

لِيَعْلَمَ أَن قَدْ أَبْلَغُوا رِسَالَاتِ رَبِّهِمْ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيْهِمْ وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا
যাতে আল্লাহ তা'আলা জেনে নেন যে, রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পয়গাম পৌছিয়েছেন কি না। রসূলগণের কাছে যা আছে, তা তাঁর জ্ঞান-গোচর। তিনি সবকিছুর সংখ্যার হিসাব রাখেন। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৮ ]

সূরা মুযযাম্মিল:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ
হে বস্ত্রাবৃত! [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১ ]

قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا
রাত্রিতে দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২ ]

نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا
অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৩ ]

أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অথবা তদপেক্ষা বেশী এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৪ ]

إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৫ ]

إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْءًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
নিশ্চয় এবাদতের জন্যে রাত্রিতে উঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৬ ]

إِنَّ لَكَ فِي اَلنَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلًا
নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৭ ]

وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا
আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৮ ]

رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا
তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকেই গ্রহণ করুন কর্মবিধায়করূপে। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৯ ]

وَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا
কাফেররা যা বলে, তজ্জন্যে আপনি সবর করুন এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চলুন। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১০ ]

وَذَرْنِي وَالْمُكَذِّبِينَ أُولِي النَّعْمَةِ وَمَهِّلْهُمْ قَلِيلًا
বিত্ত-বৈভবে র অধিকারী মিথ্যারোপকারীদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন এবং তাদেরকে কিছু অবকাশ দিন। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১১ ]

إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا وَجَحِيمًا
নিশ্চয় আমার কাছে আছে শিকল ও অগ্নিকুন্ড। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১২ ]

وَطَعَامًا ذَا غُصَّةٍ وَعَذَابًا أَلِيمًا
গলগ্রহ হয়ে যায় এমন খাদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৩ ]

يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيبًا مَّهِيلًا
যেদিন পৃথিবী পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ হয়ে যাবে বহমান বালুকাস্তুপ। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৪ ]

إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولًا
আমি তোমাদের কাছে একজন রসূলকে তোমাদের জন্যে সাক্ষী করে প্রেরণ করেছি, যেমন প্রেরণ করেছিলাম ফেরাউনের কাছে একজন রসূল। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৫ ]

فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذًا وَبِيلًا
অতঃপর ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছি। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৬ ]

فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا
অতএব, তোমরা কিরূপে আত্নরক্ষা করবে যদি তোমরা সেদিনকে অস্বীকার কর, যেদিন বালককে করে দিব বৃদ্ধ? [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৭ ]

السَّمَاء مُنفَطِرٌ بِهِ كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولًا
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে। তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৮ ]

إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَن شَاء اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا
এটা উপদেশ। অতএব, যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার দিকে পথ অবলম্বন করুক। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:১৯ ]

إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন রাত্রির প্রায় দু'তৃতীয়াং শ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০ ]

সূরা মুদ্দাসসির:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ
হে চাদরাবৃত! [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১ ]

قُمْ فَأَنذِرْ
উঠুন, সতর্ক করুন, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২ ]

وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩ ]

وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ
আপন পোশাক পবিত্র করুন [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪ ]

وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ
এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫ ]

وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ
অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৬ ]

وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ
এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৭ ]

فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে; [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৮ ]

فَذَلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ
সেদিন হবে কঠিন দিন, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৯ ]

عَلَى الْكَافِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍ
কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১০ ]

ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا
যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১১ ]

وَجَعَلْتُ لَهُ مَالًا مَّمْدُودًا
আমি তাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১২ ]

وَبَنِينَ شُهُودًا
এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৩ ]
وَمَهَّدتُّ لَهُ تَمْهِيدًا
এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৪ ]

ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ
এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৫ ]

كَلَّا إِنَّهُ كَانَ لِآيَاتِنَا عَنِيدًا
কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৬ ]

سَأُرْهِقُهُ صَعُودًا
আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৭ ]

إِنَّهُ فَكَّرَ وَقَدَّرَ
সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৮ ]

فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে! [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:১৯ ]

ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে! [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২০ ]

ثُمَّ نَظَرَ
সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২১ ]

ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ
অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২২ ]

ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ
অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৩ ]

فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ
এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৪ ]

إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ
এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৫ ]

سَأُصْلِيهِ سَقَرَ
আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৬ ]

وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ
আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কি? [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৭ ]

لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ
এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৮ ]
لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ
মানুষকে দগ্ধ করবে। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:২৯ ]

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩০ ]

وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاء وَيَهْدِي مَن يَشَاء وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْبَشَرِ
আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩১ ]

كَلَّا وَالْقَمَرِ
কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩২ ]

وَاللَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ
শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৩ ]

وَالصُّبْحِ إِذَا أَسْفَرَ
শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৪ ]

إِنَّهَا لَإِحْدَى الْكُبَرِ
নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৫ ]

نَذِيرًا لِّلْبَشَرِ
মানুষের জন্যে সতর্ককারী। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৬ ]

لِمَن شَاء مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ
তোমাদের মধ্যে যে সামনে অগ্রসর হয় অথবা পশ্চাতে থাকে। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৭ ]

كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৮ ]

إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ
কিন্তু ডানদিকস্থরা, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৩৯ ]

فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءلُونَ
তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪০ ]

عَنِ الْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদের সম্পর্কে [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪১ ]

مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ
বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪২ ]

قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ
তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৩ ]

وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ
অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৪ ]

وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ
আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৫ ]

وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ
এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৬ ]

حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ
আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৭ ]

فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ
অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৮ ]

فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ
তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪৯ ]

كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ
যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫০ ]

فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍ
হট্টগোলের কারণে পলায়নপর। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫১ ]

بَلْ يُرِيدُ كُلُّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَى صُحُفًا مُّنَشَّرَةً
বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫২ ]

كَلَّا بَل لَا يَخَافُونَ الْآخِرَةَ
কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫৩ ]

كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ
কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫৪ ]

فَمَن شَاء ذَكَرَهُ
অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫৫ ]

وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ
তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী। [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৫৬ ]

সূরা কেয়ামাহ:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ
আমি শপথ করি কেয়ামত দিবসের, [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১ ]

وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ
আরও শপথ করি সেই মনের, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়- [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২ ]

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَجْمَعَ عِظَامَهُ
মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩ ]

بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
পরন্ত আমি তার অংগুলিগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৪ ]

بَلْ يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ
বরং মানুষ তার ভবিষ্যত জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায় [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৫ ]

يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ
সে প্রশ্ন করে-কেয়ামত দিবস কবে? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৬ ]

فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ
যখন দৃষ্টি চমকে যাবে, [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৭ ]

وَخَسَفَ الْقَمَرُ
চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৮ ]

وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ
এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে- [সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৯ ]

يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ
সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১০ ]

كَلَّا لَا وَزَرَ
না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১১ ]

إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ
আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১২ ]

يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ
সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৩ ]

بَلِ الْإِنسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ
বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৪ ]

وَلَوْ أَلْقَى مَعَاذِيرَهُ
যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৫ ]

لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ
তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওহী আবৃত্তি করবেন না। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৬ ]

إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ
এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৭ ]

فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ
অতঃপর আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৮ ]

ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ
এরপর বিশদ বর্ণনা আমারই দায়িত্ব। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:১৯ ]

كَلَّا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ
কখনও না, বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে ভালবাস [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২০ ]

وَتَذَرُونَ الْآخِرَةَ
এবং পরকালকে উপেক্ষা কর। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২১ ]

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ
সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২২ ]

إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
তারা তার পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৩ ]

وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ
আর অনেক মুখমন্ডল সেদিন উদাস হয়ে পড়বে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৪ ]

تَظُنُّ أَن يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ
তারা ধারণা করবে যে, তাদের সাথে কোমর-ভাঙ্গা আচরণ করা হবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৫ ]

كَلَّا إِذَا بَلَغَتْ التَّرَاقِيَ
কখনও না, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৬ ]

وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ
এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৭ ]

وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ
এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষণ এসে গেছে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৮ ]

وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ
এবং গোছা গোছার সাথে জড়িত হয়ে যাবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:২৯ ]

إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ
সেদিন, আপনার পালনকর্তার নিকট সবকিছু নীত হবে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩০ ]

فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى
সে বিশ্বাস করেনি এবং নামায পড়েনি; [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩১ ]

وَلَكِن كَذَّبَ وَتَوَلَّى
পরন্ত মিথ্যারোপ করেছে ও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩২ ]

ثُمَّ ذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ يَتَمَطَّى
অতঃপর সে দম্ভভরে পরিবার-পরিজ নের নিকট ফিরে গিয়েছে। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৩ ]

أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى
তোমার দুর্ভোগের উপর দুর্ভোগ। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৪ ]

ثُمَّ أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى
অতঃপর, তোমার দুর্ভোগের উপর দূর্ভোগ। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৫ ]

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى
মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৬ ]

أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَى
সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৭ ]

ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى
অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৮ ]

فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى
অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী। [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৩৯ ]

أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَن يُحْيِيَ الْمَوْتَى
তবুও কি সেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন? [ সূরা কিয়ামা’ত ৭৫:৪০ ]

সূরা দাহর:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُن شَيْئًا مَّذْكُورًا
মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। [ সূরা দা’হর ৭৬:১ ]

إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। [ সূরা দা’হর ৭৬:২ ]

إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا
আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়। [ সূরা দা’হর ৭৬:৩ ]

إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلَاسِلَا وَأَغْلَالًا وَسَعِيرًا
আমি অবিশ্বাসীদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছি শিকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি। [ সূরা দা’হর ৭৬:৪ ]

إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِن كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا
নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্র। [ সূরা দা’হর ৭৬:৫ ]

عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا
এটা একটা ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে-তারা একে প্রবাহিত করবে। [ সূরা দা’হর ৭৬:৬ ]

يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا
তারা মান্নত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যেদিনের অনিষ্ট হবে সুদূরপ্রসারী। [ সূরা দা’হর ৭৬:৭ ]

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا
তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে। [ সূরা দা’হর ৭৬:৮ ]

إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاء وَلَا شُكُورًا
তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। [ সূরা দা’হর ৭৬:৯ ]

إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا
আমরা আমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের ভয় রাখি। [ সূরা দা’হর ৭৬:১০ ]

فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا
অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। [ সূরা দা’হর ৭৬:১১ ]

وَجَزَاهُم بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا
এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। [ সূরা দা’হর ৭৬:১২ ]

مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا
তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৩ ]

وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا
তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৪ ]

وَيُطَافُ عَلَيْهِم بِآنِيَةٍ مِّن فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا
তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৫ ]

قَوَارِيرَ مِن فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا
রূপালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৬ ]

وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنجَبِيلًا
তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে `যানজাবীল' মিশ্রিত পানপাত্র। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৭ ]

عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا
এটা জান্নাতস্থিত `সালসাবীল' নামক একটি ঝরণা। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৮ ]

وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنثُورًا
তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা। [ সূরা দা’হর ৭৬:১৯ ]

وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا
আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। [ সূরা দা’হর ৭৬:২০ ]

عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا
তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকণ এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন `শরাবান-তহুরা'। [ সূরা দা’হর ৭৬:২১ ]

إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاء وَكَانَ سَعْيُكُم مَّشْكُورًا
এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে। [ সূরা দা’হর ৭৬:২২ ]

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنزِيلًا
আমি আপনার প্রতি পর্যায়ক্রমে কোরআন নাযিল করেছি। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৩ ]

فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِمًا أَوْ كَفُورًا
অতএব, আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের জন্যে ধৈর্য্য সহকারে অপেক্ষা করুন এবং ওদের মধ্যকার কোন পাপিষ্ঠ কাফেরের আনুগত্য করবেন না। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৪ ]

وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপন পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৫ ]

وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا
রাত্রির কিছু অংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা করুন এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৬ ]

إِنَّ هَؤُلَاء يُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَاءهُمْ يَوْمًا ثَقِيلًا
নিশ্চয় এরা পার্থিব জীবনকে ভালবাসে এবং এক কঠিন দিবসকে পশ্চাতে ফেলে রাখে। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৭ ]

نَحْنُ خَلَقْنَاهُمْ وَشَدَدْنَا أَسْرَهُمْ وَإِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَا أَمْثَالَهُمْ تَبْدِيلًا
আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন। আমি যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরূপ লোক আনব। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৮ ]

إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَن شَاء اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا
এটা উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা হয় সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক। [ সূরা দা’হর ৭৬:২৯ ]

وَمَا تَشَاؤُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। [ সূরা দা’হর ৭৬:৩০ ]

يُدْخِلُ مَن يَشَاء فِي رَحْمَتِهِ وَالظَّالِمِينَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে দাখিল করেন। আর যালেমদের জন্যে তো প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি। [ সূরা দা’হর ৭৬:৩১ ]

সূরা মুরসালাত:

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا
কল্যাণের জন্যে প্রেরিত বায়ুর শপথ, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১ ]

فَالْعَاصِفَاتِ عَصْفًا
সজোরে প্রবাহিত ঝটিকার শপথ, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২ ]

وَالنَّاشِرَاتِ نَشْرًا
মেঘবিস্তৃতকারী বায়ুর শপথ [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩ ]

فَالْفَارِقَاتِ فَرْقًا
মেঘপুঞ্জ বিতরণকারী বায়ুর শপথ এবং [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪ ]

فَالْمُلْقِيَاتِ ذِكْرًا
ওহী নিয়ে অবতরণকারী ফেরেশতাগণের শপথ [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৫ ]

عُذْرًا أَوْ نُذْرًا
ওযর-আপত্তির অবকাশ না রাখার জন্যে অথবা সতর্ক করার জন্যে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৬ ]

إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَوَاقِعٌ
নিশ্চয়ই তোমাদেরকে প্রদত্ত ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৭ ]

فَإِذَا النُّجُومُ طُمِسَتْ
অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৮ ]

وَإِذَا السَّمَاء فُرِجَتْ
যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৯ ]

وَإِذَا الْجِبَالُ نُسِفَتْ
যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে এবং [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১০ ]

وَإِذَا الرُّسُلُ أُقِّتَتْ
যখন রসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় নিরূপিত হবে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১১ ]

لِأَيِّ يَوْمٍ أُجِّلَتْ
এসব বিষয় কোন দিবসের জন্যে স্থগিত রাখা হয়েছে? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১২ ]

لِيَوْمِ الْفَصْلِ
বিচার দিবসের জন্য। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৩ ]

وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الْفَصْلِ
আপনি জানেন বিচার দিবস কি? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৪ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৫ ]

أَلَمْ نُهْلِكِ الْأَوَّلِينَ
আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৬ ]

ثُمَّ نُتْبِعُهُمُ الْآخِرِينَ
অতঃপর তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করব পরবর্তীদেরকে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৭ ]

كَذَلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদের সাথে আমি এরূপই করে থাকি। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৮ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:১৯ ]

أَلَمْ نَخْلُقكُّم مِّن مَّاء مَّهِينٍ
আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২০ ]

فَجَعَلْنَاهُ فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ
অতঃপর আমি তা রেখেছি এক সংরক্ষিত আধারে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২১ ]

إِلَى قَدَرٍ مَّعْلُومٍ
এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২২ ]

فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ
অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত সক্ষম স্রষ্টা? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৩ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৪ ]

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ كِفَاتًا
আমি কি পৃথিবীকে সৃষ্টি করিনি ধারণকারিণীরূপে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৫ ]

أَحْيَاء وَأَمْوَاتًا
জীবিত ও মৃতদেরকে? [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৬ ]

وَجَعَلْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ شَامِخَاتٍ وَأَسْقَيْنَاكُم مَّاء فُرَاتًا
আমি তাতে স্থাপন করেছি মজবুত সুউচ্চ পর্বতমালা এবং পান করিয়েছি তোমাদেরকে তৃষ্ণা নিবারণকারী সুপেয় পানি। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৭ ]

وَيْلٌ يوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৮ ]

انطَلِقُوا إِلَى مَا كُنتُم بِهِ تُكَذِّبُونَ
চল তোমরা তারই দিকে, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:২৯ ]

انطَلِقُوا إِلَى ظِلٍّ ذِي ثَلَاثِ شُعَبٍ
চল তোমরা তিন কুন্ডলীবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩০ ]

لَا ظَلِيلٍ وَلَا يُغْنِي مِنَ اللَّهَبِ
যে ছায়া সুনিবিড় নয় এবং অগ্নির উত্তাপ থেকে রক্ষা করে না। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩১ ]

إِنَّهَا تَرْمِي بِشَرَرٍ كَالْقَصْرِ
এটা অট্টালিকা সদৃশ বৃহৎ স্ফুলিংগ নিক্ষেপ করবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩২ ]

كَأَنَّهُ جِمَالَتٌ صُفْرٌ
যেন সে পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেণী। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৩ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৪ ]

هَذَا يَوْمُ لَا يَنطِقُونَ
এটা এমন দিন, যেদিন কেউ কথা বলবে না। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৫ ]

وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ
এবং কাউকে তওবা করার অনুমতি দেয়া হবে না। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৬ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৭ ]

هَذَا يَوْمُ الْفَصْلِ جَمَعْنَاكُمْ وَالْأَوَّلِينَ
এটা বিচার দিবস, আমি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে একত্রিত করেছি। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৮ ]

فَإِن كَانَ لَكُمْ كَيْدٌ فَكِيدُونِ
অতএব, তোমাদের কোন অপকৌশল থাকলে তা প্রয়োগ কর আমার কাছে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৯ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪০ ]

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ
নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে ছায়ায় এবং প্রস্রবণসমূহে- [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪১ ]

وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ
এবং তাদের বাঞ্ছিত ফল-মূলের মধ্যে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪২ ]

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে তৃপ্তির সাথে পানাহার কর। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৩ ]

إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنينَ
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৪ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৫ ]

كُلُوا وَتَمَتَّعُوا قَلِيلًا إِنَّكُم مُّجْرِمُونَ
কাফেরগণ, তোমরা কিছুদিন খেয়ে নাও এবং ভোগ করে নাও। তোমরা তো অপরাধী। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৬ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৭ ]

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ
যখন তাদেরকে বলা হয়, নত হও, তখন তারা নত হয় না। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৮ ]

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৪৯ ]

فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ
এখন কোন কথায় তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন [ সূরা মুরসালাত ৭৭:৫০ ]

চলবে…

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে