আজাব-গজব: যুবক-যুবতীরা মনোযোগ দিয়ে লেখাটা পড়!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=132128 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আজাব-গজব: যুবক-যুবতীরা মনোযোগ দিয়ে লেখাটা পড়!

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আজাব-গজবের কারণ ও প্রতিকার: মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ

‘আর তোমাদের ওপর যে মুসীবাত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক অপরাধই তিনি মাফ করে দেন।’ (সূরা: আশ-শূরা: ৩০)

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (অসৎ পথ থেকে) ফিরে আসে।’ (সূরা: আর-রুম: ৪১)

হজরত আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, যখন আমার উম্মাত নেশাদার দ্রব্য পান করবে, গায়িকাদের নিয়ে নাচ-গানে মত্ত হবে এবং বাদ্রযন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত হবে তখন অবশ্যই তিনটি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে-(১) বিভিন্ন এলাকায় ভূমি ধসে যাবে (২) উপর থেকে অথবা কোনো জাতির পক্ষ থেকে জুলুম অত্যাচার চাপিয়ে দেয়া হবে (৩) অনেকের পাপের দরুন আকার-আকৃতি বিকৃত করা হবে। (সিলসিলাতুস সহীহ হা: ২৩৬/৫)

কয়েক মাস আগে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ও পূর্বের নিমতলীতে কেমিক্যালের আগুনে মুহূর্তে শত শত মানুষ পুড়ে মরার মর্মান্তিক ঘটনা, দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ও নিপা ভাইরাস নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা বার বার কেন হচ্ছে? 

এ সম্পর্কে কী আমরা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করি! আর এ থেকে কি শিক্ষা নিয়ে চলছি? বর্তমানে সমাজে ব্যাপকভাবে যে অশ্লীনতা, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় ও পাপাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে তার জন্য তো হতে পারে এসব আজাব-গজব। আর এ থেকে বাচতে হলে আমাদের আন্তরিকভাবে আল্লাহর নিকট তাওবাহ করতে হবে ও পাপাচার বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় হঠাৎ আজাব-গজবে আমাদের স্বপ্নের মনোমুগ্ধকর জীবন নিমিষেই মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন! আমীন।

বিয়ে, গায়ে হলুদ ও অনুষ্ঠানের অশ্লীনতা বাদ্যযন্ত্রের রোষানলে জনতা: মহার রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সে তাকে নির্লজ্জতা ও অপকর্মের আদেশ দিবে। (সূরা আন নূর-২১)

যারা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীনতার বিস্তৃতি ঘটুক তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি দুনিয়ায় ও আখিরাতে। (সূরা আন নূর-১৯)

হজরত ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অবশ্য অবশ্যই আমার উম্মাতের কিছু সম্প্রদায় রাত্রি অতিবাহিত করবে বিভিন্ন ধরণের খাদ্য-পানীয়তে ভোগ বিলাসী হয়ে এবং বিভিন্ন ধরণের বিনোদন আনন্দ প্রমোদে। এমতাবস্থায় তাদের সকাল হবে শুকর বানরের আকৃতিতে রুপান্তরিত হয়ে। (সিলসিলাতুল সহীহ হা: ১৬৯৪/২৬৯৯)

হজরত ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে সৎলোক থাকতেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে নবী (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন অশ্লীনতা বৃদ্ধি পাবে।’(জামি আত তিরমিযী হা: ২১৩১)

‘যে ব্যক্তি (মুসলিম ছাড়া) অন্য কোনো জাতির সঙ্গে কোনো বিষয়ে মিল রাখল সে তাদের মধ্যেই পরিগণিত হবে।’ (সুনান আবূ দাউদ, হা: ৪০৩১)

আজ আমাদের সমাজে বিয়ে, গায়ে হলুদ, ক্লাসপার্টিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা আনন্দ-উৎসব পালনের নামে বিজাতীয় রীতিতে ছেলে-মেয়ে এক স্থানে বেপর্দায় থাকা ও একে অপরের গায়ে হলুদ বা রং মাখা, গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে নাচ-গান ইত্যাদি হারাম কাজসমূহ প্রকাশ্যে অহরহ চলছে। আর ওয়ালীমাতে (বৌভাত) বউকে সাজিয়ে এনে স্টেজে বসানো হয়। অসংখ্যা বেগানা পুরুষ এসে তার সৌন্দর্য উপভোগ করে যায় যা স্পষ্ট চোখের জিনার শামিল। তাছাড়া সারারাত মাইকে উচ্চ আওয়াজে গান-বাজনা, ডিজে পার্টি করা হচ্ছে এতে যে মানুষের কত কষ্ট হচ্ছে তার জন্য কী কোন ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন নেই? এছাড়াও বিয়ার, মদ ও ইয়াবার মত নেশাদার দ্রব্যও সেবন করা হচ্ছে। এসব চলতে দিলে কী অভিভাবকরা দাইয়ুসের পর্যায়ে পড়বে না? দাইয়ুসের পরিণাম যে জাহান্নাম এটাতো অনেকেরই জানা।

তাই ঈমান বিধ্বংসী ও সামাজিক পরিবেশ নষ্টকারী এসব অশ্লীলতা ও বিজাতীয় রীতি অনুসরণ করা থেকে আমাদের অবশ্যই বাচঁতে হবে । 

মোবাইল, ছবি আপলোড ও প্রযুক্তির অপব্যবহার: রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘আর কোনো ছবি পেলেই তাকে মুছে দেবে।’ নবী (সা.) ঘরে ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন এবং কেউ ছবি অঙ্কন করুক এটাও  তিনি নিষেধ করেছেন । অথচ অনেকেই   ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি  ও কথা-বার্তা, ফেসবুক, ইমো, হোয়াটস আ্যপ, ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করে উত্তেজনা  ছড়াচ্ছে। দিনদিন বেড়ে চলেছে ইভটিজিং। যুবক-যুবতীরা নির্ভয়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করছে আর যেখানে-সেখানে মোবাইলে সেলফি তুলতে যেন পাগল হয়ে যাচ্ছে। অবাধে দেখছে টিভিতে অশ্লীন ও কুরুচিসম্পন্ন সিনেমা, নাটক, প্রোগাম ও এডভ্যারাইজগুলো। অধিকাংশ মুসলিমদের মোবাইলে নোংরা উদ্ভট ও যৌন আবেদনময়ী রিংটোন ও শির্ক-বিদাত শব্দ মিশ্রিত গান শুনা যায়। যুবক-যুবতীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করছে বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি, বেপর্দায় থাকা ছবি ও পরিবারের ছবি। আর পর নারী-পুরুষেরা এসব ছবি দেখে লাইক দিচ্ছে ও কমেন্টস করছে এবং শরীরের গঠন-আকৃতি ওসৌন্দর্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। এগুলো কী চোখের যিনা নয়?

তাই এসব কর্মকান্ড সাময়িক আনন্দ তৃপ্তি মনে হলেও এতে কী যে ক্ষতি হচ্ছে আহ! যুবক-যুবতীরা যদি বুঝত? 

বিশ্ববিখ্যাত ‘উলামাদের ফতোয়া হচ্ছে, অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা বা ভিডিও করা ঠিক নয়।’

যুব সমাজ ও ফ্যাশন নিয়ে মাতামাতি: অধিকাংশ মানুষই অনুকরণপ্রিয়। নিত্য-নতুন সব কিছুকে গ্রহণ করতে সদা আগ্রহী ওপ্রস্তুত। ভালো হোক, চাই মন্দ, সে বিচার করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না। তাই তো অধিকাংশ মানুষেরাই শ্লোগান হলো, যেমন কলি তেমন চলি। যুবক-যুবতীদের চরিত্র নষ্ট করতে শয়তানি চক্রের লক্ষ-কোটি প্রচেষ্টা অব্যাহত। উঠিত যুবক-যুবতীরা, নায়ক-নায়িকাদের স্টাইলে পোশাক পড়তে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করে। অভিবাবকরা খুশি মনে কিনে দিচ্ছে কিশোর-কিশোরিদের ফ্যাশনের নামে অশ্লীল পোশাক যা পড়িয়ে আনন্দও পাচ্ছে। অভিভাবকরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকার পরিণাম একদিন তাদের দিতে হবে। তেতুল গাছের চারা লাগিয়ে যেমন আম আশা করা বৃথা তেমনই এসব শিখিয়ে সভ্য ও আদর্শ সন্তান গড়ে তোলাও অসম্ভব।

ধ্বংসযজ্ঞ নেশা ও মাদকতায় যুব সমাজ: ইসলামে মদ, সিগারেট ও এলকোহল মেশানো সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংক্স বা দ্রব্য হারাম তা জানা ও বুঝার পরেও ব্যাপকভাবে যুব সমাজ মাদকতায় জড়িয়ে যাচ্ছে। হাতের নাগালে ও সহজে প্রাপ্ত এসব নেশা ও মাদকদ্রব্য আজ সমাজে ধ্বংসের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। এসব নেশা জাতীয় বস্তু যে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এবং সামাজিক কত ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে আর এসবের কারণে যে জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে সেদিকে কী লক্ষ করি? আর আগামী ভবিষ্যৎ যুবশক্তিকে রক্ষা করার জন্য দায়িত্ব নিয়ে কয়জন চেষ্টা করছি?

গান-বাজনার কুফল: আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞ লোকদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য (গান-বাজনার সামগ্রী) ক্রয় করে ‘ (সূরা আল-লুক্বমান-৬)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে অনেক সাম্প্রদায় ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে অথচ এটা হারাম ‘ (সহীহ বুখারী হা: [তাত্ত.] ৫৫৯০)

বর্তমান সমাজে অনৈসলামী গান-বাজনার প্রভাব অনেক। এসব গানে মানুষ মদের মত নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। বাদ্যযন্ত্র ও সুরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিচার করার মন মানসিকতাও হারিয়ে ফেল। যার দরুন শির্ক, বিদাত, অশ্লীনতা, বেহায়াপনা ও কুফরী শব্দে ভরপুর কথাগুলো শুনা ও বলা যে কত গুনাহ সে সম্পর্কে খেয়ালও করে না বরং শিল্পীদের সুরে গাইতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করে এবং এতে খুবই আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু একবারও চিন্তা করে না এসব গানে আমাদের ঈমান-আক্বীদার কত ক্ষতি হচ্ছে। আর যৌন শুড়শুড়ি, প্রেম-ভালোবাসায় ভরপুর এসব গান-বাজনার প্রভাবে সমাজে ব্যাপকভাবে পাপ ছড়িয়ে পড়ছে যুবক-যুবতীদের মাঝে। তাই এসব গান-বাজনা থেকে সাবধান। কেননা, এতে অন্তর মরে যায়। যার দরুন ঈমান ইসলামের কাজ; গান প্রেমিকদের কাছে ভালো লাগে না। চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে