ঢাকা,  শুক্রবার   ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

১৫ বছর পর মা-মেয়ের চোখের জল মুছল সীমান্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫১, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
১৫ বছর পর মা-মেয়ের চোখের জল মুছল সীমান্ত!
ছবি: সংগৃহীত

পনেরো বছর মা-মেয়ের দেখা হয়নি। কারোরই পাসপোর্ট নেই। তাই সুযোগ হয়ে উঠেনি। অবশেষে সে প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। যে সীমান্তের বেড়া তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল, ফের সীমান্তেই তাদের মিলন হয়েছে।

মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া চেকপোস্টের পিলার ধরে মা লক্ষ্মীরানি পালের চোখের জল আর বাঁধ মানছিলো না। সে সময় তার আরো দুই মেয়ে সঙ্গে ছিলেন। মার কান্না তারাও থামাতে পারছিলেন না। আর ওপারে বসে চোখ মুছছিলেন বোন কানন পাল। মা-বোনেদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অধীর অপেক্ষা তারও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা এলাকায় লক্ষ্মীরানির বাড়ি। আর মেয়ে কাননের বাড়ি আগরতলার নন্দননগর এলাকায়। সীমান্ত থেকে কাছেই।

লক্ষ্মীরানির ছয় মেয়ের মধ্যে পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাংলাদেশে। শুধু কাননের শ্বশুরবাড়ি ত্রিপুরায়। মার সঙ্গে দেখা নেই প্রায় পনেরো বছর। লক্ষ্মীরানির পাসপোর্ট নেই। তিনি যেতে পারেন না। কাননেরও পাসপোর্ট নেই। তিনিও আসতে পারেন না। ফোনেই দুজনের যা কিছু কথা হয়।

এরই মধ্যে লক্ষ্মীরানি কারো কাছ থেকে শুনতে পান চেকপোস্টে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানের পরে মানুষ একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে। কাননকে তিনিই ফোন করে এই খবর দেন। 

পরে মা-মেয়ে ঠিক করেন, মঙ্গলবার সবাই জড়ো হবেন সীমান্তে। লক্ষ্মীরানির সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আরো দুই মেয়েও চলে আসেন বোনের সঙ্গে দেখা করার জন্যে। অনুষ্ঠানের পরে কথা বলতে পারার আশায় দু’পারে দু’পক্ষ বসে অপেক্ষা করতে থাকেন।

দু’পারে তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য! দু’দেশের সীমান্তরক্ষীরা তাদের কসরত দেখাচ্ছেন। তারই ফাঁক দিয়ে আকুল চোখে চেয়ে রয়েছেন মা আর মেয়েরা। একে অপরকে  দেখতে দেখতে কিছুক্ষণ পরপর কাপড় দিয়ে চোখের জল মুছে নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠান শেষ হতেই সীমান্তের পিলার ধরে হু হু করে কেঁদে ফেললেন মা। তা দেখে অন্য দর্শকদেরও ততক্ষণে চোখে জল এসে যায়। কিন্তু বিএসএফ-এর আদেশ না পেলে তো মায়ের কাছে যেতে পারেন না মেয়ে! অবশেষে রক্ষীদের উপস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ে কাছে এলেন। বিকেলের আলোয় জমে থাকা আবেগের পাহাড় ভাঙল পনেরো বছর পর। সূত্র- আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!