ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভিজিডির তালিকাভুক্ত হলেও চাল পান না ১৫ নারী

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  
প্রকাশিত: ২১:২৪, ২ জুন ২০২০
ভিজিডির তালিকাভুক্ত হলেও চাল পান না ১৫ নারী
ফাইল ফটো

১৭ মাস আগে ভিজিডি সুবিধাভোগীর তালিকাভুক্ত হয়েও ১৫ জন নারীর ভাগ্যে জুটেনি তাদের প্রাপ্য বরাদ্দের চাল। অভিযোগ ওঠেছে তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতাব্বররা।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউপিতে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এছাড়া ঈদের আগে ওই ইউপিতে দুই মাসের (এপ্রিল-মে) ভিজিডির বরাদ্ধকৃত চাল উত্তোলন হলেও অজ্ঞাত কারণে চাল পাননি ৩২৮ জন ভিজিডি কার্ডধারী। এ ঘটনায় উপকারভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, ভিজিডির তালিকাভুক্তি কথা বলে বোকাইনগর ইউপির বিভিন্ন গ্রামের ১৫ জন নারীর কাছ থেকে ২০১৮ সনে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতব্বররা। পরে দীর্ঘ দিনেও তাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো খবর না থাকায় ওই নারীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে খোঁজ নিলে তাদেরকে জানানো হয় এখনো কার্ড হয়নি। তালিকাভুক্ত হলেই তাদের জানানো হবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা সম্প্রতি জানতে পারেন যে তারা ভিজিডির তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। অথচ তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল জনপ্রতিনিধি ও মাতাব্বররা নিয়মিত উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করছেন। এ অনিয়ম-দুর্নীতির খবর জানাজানি হলে তারা ইউএনও সেঁজুতি ধরের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারীরা হলেন, মিরিকপুর গ্রামের হয়রত আলীর স্ত্রী শেফালি আক্তার (কার্ড নং-১৭৪), মিলন মিয়ার স্ত্রী রেনু আক্তার (কার্ড নং-১৮৮), হযরত আলীর স্ত্রী মুর্শিদা (কার্ড নং-১৮৮), সেকুল মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া (কার্ড নং-১৮৫), মামুদনগর গ্রামের দোলেনা (কার্ড নং-১৯৬), দিউপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী রুমা আক্তার (কার্ডনং-২৫৬), নাহড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মিনা আক্তার (কার্ড নং-১১০), আব্দুর গনির স্ত্রী রেখা আক্তার (কার্ড নং-১১২), রতন মিয়ার স্ত্রী আছিয়া আক্তার (কার্ড নং-১১১), দত্তবাড়ি গ্রামের পৃথিস চন্দ্র দেবনাথের স্ত্রী সবিতা রাণী দেবনাথ (কার্ড নং-২৮৪), দাড়িয়াপুর গ্রামের কিতাব আলী স্ত্রী মনোয়ারা (বেগম কার্ড নং-১৯৭), বিল্লাল খানের স্ত্রী বিলকিস বেগম (কার্ড নং-৩০৩), ইব্রাহিম খানের স্ত্রী সবিতা আক্তার (কার্ড নং-৩০৪), আব্দুল আলীর স্ত্রী আঙ্গুরা খাতুন (কার্ড নং ৩২৮), গড়পাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী রেহেনা (কার্ড নং-১৬) ও কৃষ্ণপুরে গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী হাসি (কার্ড নং-২৮০)। 

এ বিষয়ে বোকাইনগর ইউপির চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগকারীরা যে চাল পায়না তা আমার জানা নেই। যদি আগে জানাইতো তাহলে একটা ব্যবস্থা করা যেতো। এখন খোঁজ নিবো। 

এদিকে এপ্রিল-মে মাসের বরাদ্ধের চাল বিতরণ প্রসঙ্গে বলেন, এইডা তো আমার মনে নেই। দেইখ্যা জানাইতে অইবো। 
 
এপ্রিল-মে বরাদ্দ প্রসঙ্গে গৌরীপুর খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার জানান, যথা সময়েই চেয়ারম্যান দুই মাসের বরাদ্ধ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।

ইউএনও সেঁজুতি ধর সাংবাদিকদের জানান, বরাদ্দ বঞ্চিত নারীদের একটি অভিযোগ তার কাছে পৌঁছেছে। তদন্তের জন্য নারী বিষয়ক কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। 

নারী বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, জুন ফাইনালের কারণে সময় পাচ্ছি না। তবে ভুক্তভোগী নারীদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!