ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০০, ৪ জানুয়ারি ২০২০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছে চিকিৎসকরা। তিন চিকিৎসককে জেল হাজতে প্রেরণ এবং কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আহবানে এই কর্মসূচি  শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮ পর্যন্ত চলবে। তবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

এদিকে এই পরিস্থিতিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্খিত চিকিৎসক না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নবীনগর উপজেলা থেকে আসা মো. শাহজাদা জানান, তার মাকে নিয়ে শহরের দি ল্যাব এইড ডায়াগনোস্টিক নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু কাঙ্খিত চিকিৎসক না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। চিকিৎসকদের এমন কর্মসূচিতে তিনি হতাশাও প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে শহরের সদর হাসপাতাল এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল ক্রিসেন্ট ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ম্যানেজার রুপক দাস জানান, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো চিকিৎসক আসেনি। 

এদিকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কথা জানিয়ে জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা: মো. আবু সাঈদ বলেন, মিথ্যা বানোয়াট মামলায় বিনা তদন্তে তিন চিকিৎসককে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। যার কারণে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো জানান, আজ রাতে বিএমএ’র বৈঠক আছে। বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নেয়া হবে।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: হুমায়ুন কবীর জানান, সদর হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বিএমএর কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের সরকারি চিকিৎসকদের কোনো যোগসূত্র নেই। তবে প্রাইভেট ক্লিনিক বন্ধ থাকায় সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায় ডাঃ ডিউক চৌধুরীর মালিকানাধীন খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রসবজনিত কারণে ভর্তি হন একই এলাকার ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেনের সহকারি শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়া। পরে তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার চার দিনের মাথায় মারা যান।

এ ঘটনায় চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার অভিযোগে খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ ডিউক চৌধুরী, ডাঃ অরুনেশ্বর পাল চৌধুরী ও রাসেল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দিয়ার বাবা শিহাব উদ্দিন গেন্দু। এতে গত ১ জানুয়ারি ওই তিন চিকিৎসককে জেল হাজতে পাঠায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!