এদিকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবাই ঘরে থাকলেও মমতাজের নেই কোনো নির্দিষ্ট আশ্রয় ঠিকানা। যেখানে রাত, সেখানেই কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। আর এ খবর পেয়ে ৩৪ বছর বয়সী ওই নারীকে উদ্ধার করেন পাবনা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ। বৃহস্পতিবার তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি।
হাসপাতালে ভর্তির সময় স্থানীয়রা মমতাজকে চিনতে পারেন। এ সময় তারা জানায়, মমতাজ হেমায়েতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত হাকিমুদ্দিনের মেয়ে। সেখানেই মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন তিনি। তার এক ভাইও রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ায় অন্যের বাসায় কাজ করে দুই সন্তানের পেট চালাতেন মা। বয়েসর ভারে নুয়ে পড়ায় মমতাজের মাও এখন আর চলাফেরা করতে পারছেন না। এদিকে ভাই বিয়ে করে অন্যত্রে থাকছেন।
.png)
২০১২ সালে একই এলাকার লিটন শেখ নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর কাছে মমতাজকে বিয়ে দেন বৃদ্ধা মা। তখন পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। পাঁচ-ছয় বছর সংসারও করেন। কিন্তু স্বামীর অত্যাচারে আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করেন তিনি। দুই বছর আগে বেশি অসুস্থ হলে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী। পরে টাকা-পয়সা ও স্বজনের অভাবে চিকিৎসাও নিতে পারেননি মমতাজ।
পাবনা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ বলেন, খাবারের খোঁজে বিভিন্ন মানুষের ঘরে ঢুকে পড়তেন মমতাজ। এছাড়া যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়তেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষ তাকে নিয়ে আতঙ্কে ছিল। বিষয়টি জেনে বিভিন্ন স্থানে খুঁজে তাকে উদ্ধার করে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, স্বামীর সঙ্গে মমতাজের মৌখিক ছাড়াছাড়ির কথা শুনেছি। তার বাবা মারা গেছেন আর মাও অসুস্থ। তাই সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করা হবে।