ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি-ছিনতাই করতেন তারা
গাজীপুরের টঙ্গীতে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূলহোতাসহ আটজনকে আটক করেছে র্যাব। সোমবার মধ্যরাতে র্যাব-১ এর একটি দল টঙ্গীর চেরাগআলী ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করে।
এ সময় থেকে একটি দেশীয় শর্টগান, চার রাউন্ড কার্তুজ, একটি পিস্তল কভার, একটি প্রাইভেটকার, দুটি ওয়াকিটকি সেট, তিনটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, চারটি ধারাল ছুরি, একটি চাপাতি, ২০টি মোবাইল, একটি কাটার, একটি গ্রান্ডিং মেশিন, একটি হেক্সোব্লেড উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের টঙ্গী পশ্চিম থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সম্প্রতি ডাকাত চক্রটি গাজীপুর-টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রথমে টার্গেট করে স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান।
.png)
পরবর্তীতে এই চক্রের অন্য সদস্যরা রাতের বেলায় ওই স্থানে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঘুরাঘুরি করে এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করে এবং নাইটগার্ডকে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের এখানে কাজ আছে বলে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করেন। ডিবি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার কাছে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমের কাছে টাকা না থাকলে বিকাশের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করেন।
এই চক্রের সদস্যরা যাত্রী হিসেবে গাড়িতে থাকে যেন বাইরের কেউ সন্দেহ না করেন। চক্রের মূলহোতা শহীদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটির স্থায়ী সদস্য ১৫-১৬ জন। শহীদ ও কামাল মিলে ডাকাত দলটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ডিবি পরিচয়ে তারা ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি করতেন। চক্রটি ছয়-সাত বছর ধরে সক্রিয়। নিজেদের ডিবি হিসেবে উপস্থাপন করতে ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করতেন।
আটকরা হলেন- সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের মূলহোতা মো. শহীদ আকন্দ, জাকির হোসেন ওরফে কামাল, মো. শাহজাহান, মাহবুব মানিক, বাবু ইসলাম ওরফে পিচ্চি বাবু, আল আমিন হোসেন, নুর ইসলাম এবং মোছা. আর্জিনা বেগম।
মূলহোতা শহীদ আকন্দকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত আট থেকে নয় বছর আগে গাজীপুর মহানগরীতে রিকশা চালাতেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন দোকানে চুরি করা শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। তিনি ২০১৭ সালে চুরির কারণে দুই মাস কারাভোগ এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে চার মাস কারাভোগ করেন। ২০১৩ সালের দিকে জাকির হোসেন কামালকে নিয়ে এই সংঘবদ্ধ দলটি গঠন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চার-পাঁচটি ডাকাতি ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি চুরি, ডাকাতি করেছেন বলে স্বীকার করেন।
জাকির হোসেন কামাল জানান, শহীদের প্রধান সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেন। ডাকাতির সময় ডিবির ন্যায় বেশভূষা ধারণ করেন। ১০ বছর ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে সবুজবাগ থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিন মাস কারাভোগ এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে তিন মাস কারাভোগ করেন। তার নামে সবুজবাগ থানায় দুটিসহ বিভিন্ন থানায় চার-পাঁচটি ডাকাতি মামলা রয়েছে।