করোনাভাইরাস: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওষুধ মজুত রাখার গুজব
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই পরবর্তী আট মাসের ওষুধ মজুত রাখতে হবে- এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এটি স্বার্থান্বেষী মহল অসাধু ব্যবসায়ীদের লাভবান করার লক্ষ্যে এবং দেশে সংকটময় মুহূর্তে ওষুধ মজুতে ঘাটতি সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে করছে। এই ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্যেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ম্যাসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচার হওয়া এ গুজবে নামিদামি কোম্পানির ওষুধের নাম উল্লেখ করে সেগুলো মজুত করার কথা বলা হচ্ছে।
গুজবে উল্লেখিত ওষুধের লম্বা এ তালিকা ও পরিমাণ হিসেব করে দেখা গেছে, ওইসব বার্তায় একজন মানুষকে ২৬ পদের কমপক্ষে ৫৮ হাজার টাকার ওষুধ ও মেডিকেল জিনিসপত্র কিনতে বলা হয়েছে। ছোটদের জন্য সিরাপ, বড়দের জন্য সিরাপ, ট্যাবলেট, অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট, অ্যান্টিবায়োটিক পাউডার, নেব্যুলাইজার, স্যালাইন, সিরিঞ্জ, গজ, অ্যাসিডিটি ট্যাবলেট, অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম, সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, গজ ও চোখের ড্রপ কিনতে বলা হয়েছে। এসব ওষুধ বাদেও মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন, চোখের ড্রপসহ আগে থেকেই যারা নানা রোগের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের সেসব ওষুধ ৮ মাসের জন্য আগাম মজুত করে রাখতে বলা হয়েছে।
ওষুধগুলোর নাম যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই বাজারের নামিদামি ও প্রথম শ্রেণির কোম্পানির হলেও এগুলোর সঙ্গে করোনাভাইরাস চিকিৎসার সম্পর্ক নেই। এখনো করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এটি একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা গুজব। জনগণকে এ ধরনের প্রচারণা বা গুজব বিশ্বাস না করার জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এরইমধ্যে যেসব আইডি হতে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যে আইইডিসিআর-এর অনেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন। তারা এ ভাইরাস প্রতিরোধে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কারও যদি ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যে, জনগণের জন্য কোনো পরামর্শ দিতে হবে; তারা যেন এভাবে না দিয়ে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সেই বার্তা তারা ছড়িয়ে দেবে।
সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিদেশ থেকে কেউ দেশে ফিরলেই ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, এই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন।
গত জানুয়ারিতে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫২ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ হাজার ৮০ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৭০ হাজার ৭১৪ জন।
বাংলাদেশে এপর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে দু’জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।