রোববার জেলসেনকার্চেনে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে নেমেছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইংলিশরা। দলের হয়ে একটি করে গোল করেছেন বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইন। অন্যদিকে স্লোভাকদের হয়ে গোল করেছেন ইভান স্ক্র্যাঞ্জ।
এদিন বল দখল ও নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ম্যাচটিতে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৬টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে ২টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ২৪ শতাংশ বল পায়ে রেখে ১৩টি শট নেয় স্লোভাকিয়া, যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে।
.png)
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম গোলের সুযোগ পায় স্লোভাকিয়া। কিন্তু ডেভিড স্ট্রেলেকের ভলি শট সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। দশম মিনিটের মাথায় বেলিংহ্যামের ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন ট্রিপিয়ার। কিন্তু তিনি বল মারেন অনেক উপর দিয়ে।
২৩তম মিনিটে গোলের সুযোগ পান ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। ডি-বক্সের ভেতর তার শট দারুণভাবে ব্লক করে দেয় স্লোভাক ডিফেন্ডাররা।
এই সুযোগে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডেভিড স্ট্রেলেকের বাড়ানো বল থেকে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের সোজাসুজি শটে গোল করে স্লোভাকিয়াকে অবিশ্বাস্যভাবে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইভান স্ক্র্যাঞ্জ।
এই গোলের মাধ্যমে এবারের ইউরোতে ৩ গোল করে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উপরে উঠে আসলেন স্ক্রাঞ্জ। ৩৯তম মিনিটে গোলের চেষ্টা করেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস। তবে তার হেড রুখে দেয় ডিফেন্ডাররা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কিছু আক্রমণ করলেও গোলমুখে শট নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্লোভাকিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫০তম মিনিটেই ট্রিপিয়ারের দারুণ ক্রসে গোল করেন ফিল ফোডেন। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায় ফোডেন অফসাইডে ছিলেন। গোল বাতিল করেন রেফারি। ম্যাচে আর ফিরে আসা হয়নি ইংল্যান্ডের।
৬৬তম মিনিটে ট্রিপিয়ারকে বদল করে কোল পালমারকে নামান কোচ। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে ইংলিশদের জন্য। ডি-বক্সের বাইরে দেখে ডেকলাইন রাইসের শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হলে গোলবঞ্চিত হয় তারা।
১-০ গোলের পরাজয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিদায়ের প্রহর গুনছে ইংল্যান্ড। ঠিক তখনই ৯৬তম মিনিটে বাইসাইকেল কিকে গোল করে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান লা লিগার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার বেলিংহ্যাম। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেই লিড পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। ১০৬তম মিনিটের মাথায় দারুণ সুযোগ পেয়েছিল স্লোভাকিয়া ম্যাচে সমতায় ফেরার। কিন্তু পেকারিকের শট চলে যায় সামান্য বাইরে দিয়ে।
শেষ দিকে ইংলিশ শিবিরে গোলের জন্য আক্রমণ বাড়াতে থাকে স্লোভাকিয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই ইংল্যান্ড চলে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।
আগামী ৬ জুলাই শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। ম্যাচটি হবে ডাসেলডর্ফের মার্কুর স্পিল-অ্যারেনায়।