সিনিয়র তামিমের অভাব মেটাতে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পান জুনিয়র তানজিদ হাসান তামিম। অবশ্য সিনিয়র তামিমকে নিজের আদর্শ মানেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী তামিম। তাই বলে কি দুই তামিমের ক্যারিয়ারের শুরুটায় এত মিল?
২০০৭ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তামিম ইকবালের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম চার ম্যাচ ভালো খেলতে পারেননি তিনি।
.png)
অবশ্য অভিষেক বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ এক ফিফটি করেছিলেন সিনিয়র তামিম। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৩ বলে খেলেছিলেন ৫১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। সেই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয়ও পেয়েছিল টিম টাইগার্স।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া জুনিয়র তামিমের ক্যারিয়ারও যেন সিনিয়র তামিমের পরতে পরতে। বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে এশিয়া কাপে প্রথমবার বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ৭ ওয়ানডে ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে একদমই ব্যর্থ হয়েছেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধরন, সেটি খেলতে গিয়ে, বারবারই পরাস্ত হন।
নিজের ৯ম ওয়ানডে ম্যাচে (৮ম ইনিংসে) এসে প্রথম ফিফটি পেয়েছেন তানজিদ তামিম। নিজের আদর্শ তামিম ইকবালের মতোই প্রথম ওয়ানডে ফিফটিটা করলেন অভিষেক বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষেই। তাও আবার সিনিয়র তামিমের মতো কম-বেশি নয়, বারবার ৫১ রানই করলেন এ বাঁ-হাতি।
বৃহস্পতিবার পুনেতে জসপ্রিত বুমরা-মোহাম্মদ সিরাজদের বোলিং আক্রমণের সামনে নতুন বলের সেই নড়বড়ে তামিমকে এবার সাবলীল দৃশ্যে দেখা যায়। যদিও প্রথম ৫ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছিল মাত্র ১০ রান।
ম্যাচের ৭ম ওভারে বুমরাকে ফাইন লেগ দিয়ে দুর্দান্ত এক ছক্কা মেরে সাহসটাও দেখান তামিম। এরপর তো ছোটখাটো ঝড় তুললেন। ঠিক অভিষেক বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে যেন তামিম ইকবালের প্রতিচ্ছবি।
জুনিয়র তামিম ৪১ বলে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। ১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের লেগ বিফরের ফাঁদে পড়ে ফিরেছেন ৫১ রানে। ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার বাউন্ডারি।
উইন্ডিজ বিশ্বকাপে জহির খানকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে তামিম ইকবালের ছক্কা মারার সেই স্মৃতিও যেন ফেরালেন তানজিদ। আজ ডাউন দ্য উইকেটে এসে শার্দুল ঠাকুরকে একটা বাউন্ডারি মারলেন।
এর আগে বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৬৯ রান। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেন এই জুটি গড়েছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে ৬০ রানের আরেকটি জুটি গড়েছিলেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল।