ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

বিশ্বকাপে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে শঙ্কা

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ২২:৫৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বিশ্বকাপে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে শঙ্কা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চলমান এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। যার মধ্যে গ্রুপ পর্যায়ে ও সুপার ফোরে একটি করে মোট দুটি ম্যাচ হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুধু গ্রুপ পর্যায়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচটিতে জয় এসেছে। এ তিন ম্যাচের মধ্যে টাইগারদের যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সেটি হলো- দলীয় ব্যাটিং লাইন আপ। এশিয়া কাপের ব্যাটিং বিপর্যের কারণে শঙ্কা জেগেছে আসন্ন বিশ্বকাপে ব্যাটিং লাইন নিয়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে ১২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলছে (এশিয়া কাপ বাদে) বাংলাদেশ দল। যেখানে চারটি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। জিতছে ৬টিতে। আর বাকি দুটি পরিত্যক্ত হয়েছে। এ চারটি ম্যাচ হারার কারণে ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হাতছাড়া করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুধু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে সফল বাংলাদেশ।

চলতি বছরে ১২টি ওয়ানডের মধ্যে বাংলাদেশের নয়টি ম্যাচে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিং জুটি বেঁধেছিলেন লিটন দাস। তবে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে একটি ম্যাচে তামিমের সঙ্গে ওপেনিং ছিলেন রনি তালুকদার। বাকি ম্যাচগুলোতেও যথারীতি ওপেনিং ছিলেন লিটন-তামিম জুটি। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পর তামিম-লিটনের জুটি আর দেখা যায়নি। কারণ, ওই সিরিজে ইনজুরির কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যান তামিম। ফলে কে হবেন লিটনের যোগ্যসঙ্গী? এই নিয়ে চলে নানা আলোচনা। 

Advertisement

সব ছাপিয়ে নাঈম শেখকে লিটনের সঙ্গে ওপেনিং করায় বোর্ড ম্যানেজমেন্ট। লিটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অল ফরম্যাটে বাকি ম্যাচেগুলোতে ওপেনিং করেন নাঈম। যদিও ওপেনিংয়ে নাঈম-লিটন জুটি অতটা সফল বলা যায় না। ফলে আবারো চিন্তার ভাঁজ পড়ে বোর্ড কর্মকতাদের কপালে।  
   
এদিকে, চলমান এশিয়া কাপের শুরুতেই বাধে বিপত্তি। তামিম এশিয়া কাপে খেলার কথা থাকলেও ইনজুরি কারণে খেলছেন না। এছাড়া নানা আলোচনার পর এশিয়া কাপের এক মাস আগে ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে এমন ঘোষণা দেন তিনি। ফলে অনেক আলোচনা ও জল্পনা শেষে এশিয়া কাপ ও ২০২৩ আইসিসি বিশ্বকাপে টাইগারদের নেতৃত্বের ভার পরে বাঁহাতি তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কাঁধে। তার নেতৃত্বে এশিয়া কাপে নামে বাংলাদেশ।

তামিম না খেলায় পূর্বের লিটন-নাঈমের জুটিতে এশিয়া কাপ খেলার পরিকল্পনা রেখেছিল বোর্ড। কিন্তু শেষদিকে আবারো বিপত্তি বাধে। জ্বরের কারণে এশিয়া কাপ মিস করার শঙ্কায় পড়েন লিটন। ফলে আবারো ওপেনিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। বোর্ডের তালিকায় কয়েকজন ক্রিকেটার নাম থাকলেও তামিমের বিকল্প হিসেবে তানজীদ হাসান তামিম এবং লিটনের বিকল্প হিসেবে এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে আসে বোর্ড। 

মূলত এশিয়া কাপে তামিমের ডাক পড়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপে দারুণ খেলার কারণে। ৪ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই করেছিলেন ফিফটি। সর্বোচ্চ রান ছিল ৬৮। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (১৭৯) হয়ে আলো কেড়ে নিয়েছিলেন। আলোচনায় ছিল তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চিত্রও। ১১৬.৯৯ স্ট্রাইক রেটে খেলেন দারুণ কিছু শট। ফলে তামিমের বিকল্প হিসেবে ‘জুনিয়র তামিম’ এর ওপর ভরসা করে বোর্ড। 

বোর্ডের এই ভরসা প্রথম ম্যাচেই ভুল প্রমাণ হয়। শ্রীলংকার বিপক্ষে গ্রুপে পর্যায়ে ম্যাচে নাইমের সঙ্গে ওপেনিং নেমে থিকশানার ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে শূন্যরানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তামিম। ফলে অভিষেকে শূন্যরানে আউট হওয়া ১৬তম ক্রিকেটার হয়ে যান তিনি।

লোকে মুখে একটা প্রবাদ রয়েছে ‘শুরুটা ভালো হলে বাকিটা ভালো হতে বাধ্য’। যেখানে ওপেনিং ব্যাটিং নিয়ে সমস্যায় ভুগছে বিসিবি, সেখানে অন্য ব্যাটারদের ভরসা করেছিল বোর্ড। কিন্তু টপ-অর্ডার, মিডল অর্ডার- কোনো অর্ডারই ভরসা দিতে পারেনি। এশিয়া কাপের পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে ওইদিন টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাজেভাবে অলআউট হয় বাংলাদেশ।  

এশিয়া কাপ বাদে ১২টি ওয়ানডে ম্যাচের দুটিতে ২০০’র কম রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৪ রান ও আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৬৯ রান করেছিল বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ খেলছিল তামিমের নেতৃত্বে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে অতটা গুরুত্ব দেয়নি বোর্ড। তবে এশিয়া কাপ খেলতে এসে ব্যাটিং বিপর্যের প্রভাব পড়েছে ভয়াবহভাবে।

এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ২০০ এর নিচে অলআউট হয়েছেন টাইগাররা। প্রথমটা ছিল শ্রীলংকার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে ১৬৪ রান। যা এই বছরের বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। অন্যটি পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে ১৯৩ রান। ফলে ঘুরিফিরে আসে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্য।

খেলার নানা বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দীক্ষা দিচ্ছেন কোচ ক্রিকেট বিশ্লেষক ও দেশবরেণ্য কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক ও দেশবরেণ্য কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘ওয়ানডেতে বল বুঝে খেলার সুযোগ আছে। যেমন দলের বিপর্যয়ে গত ম্যাচে (পাকিস্তান বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচে) সাকিব-মুশফিক যেভাবে খেলেছে। আমাদের ব্যাটিংয়ে একটু সমস্যা রয়েছে। ওখানেই বোধহয় আমাদের কাজ করা দরকার। কী হলে? আমরা কন্টিনিউ হতে পারবো। একটা ব্যাটিং প্লান দরকার, সে প্লানটা ব্যাটসম্যানদের অনুসরণ করতে হবে। আর এখানে যারা কোচ রয়েছেন, তাদেরও একটা দায় আছে। ওরা যেন ভালো খেলতে পারে এজন্য ওদের রাখা।’

‘ওয়ানডেতে বল বুঝে খেলার সুযোগ আছে। যেমন দলের বিপর্যয়ে গত ম্যাচে (পাকিস্তান বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচে) সাকিব-মুশফিক যেভাবে খেলেছে। আমাদের ব্যাটিংয়ে একটু সমস্যা রয়েছে। ওখানেই বোধহয় আমাদের কাজ করা দরকার। কী হলে? আমরা কন্টিনিউ হতে পারবো। একটা ব্যাটিং প্লান দরকার, সে প্লানটা ব্যাটসম্যানদের অনুসরণ করতে হবে। আর এখানে যারা কোচ রয়েছেন, তাদেরও একটা দায় আছে। ওরা যেন ভালো খেলতে পারে এজন্য ওদের রাখা।’

ওপেনিংয়ে বিষয়টি নিয়ে দেশবরেণ্য কোচ ফহিম আরো বলেন, ‘ওপেনিং তো একটা সমস্যা সব সময় ছিল। তামিমের সঙ্গে কে ওপেনিং করবে? যখন লিটন আসলো, এরপর আবার তামিম ইনজুরিতে গেলো, জুনিয়র তামিমকে নেয়া হলো, আবার লিটনও ফিরল। তবে বেশকিছু ম্যাচ থেকে ওপেনিং জায়গা কিছুটা সমস্যা রয়েছে। ওপেনিং বিষয়ে সেভাবে কাউকে দেখেতে পাচ্ছি না। নতুন যারা এসে। জুনিয়র তামিম একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। নাঈম শেখও কয়েকটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। এখনো সে জায়গা যায়নি তারা যায়নি। যে তাদের নিয়ে ভরসা করা যেতে পারে। ওই জায়গাতে আমাদের দুর্বলতা আছে। মূলত ওখান থেকে আমাদের শুরুটা হয়। তাই ওই স্থানে আমাদের একটা ভালো খেলোয়াড় দরকার। যারা পুরোপুরি না হোক মোটামুটি ভালো। এটি দরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!