ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ইরান
কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড। আজ শুরু হচ্ছে তাদের বিশ্বকাপ মিশন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় আল রাইয়ানের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। ইরানের বিপক্ষে এই প্রথমবার মাঠে নামবে তারা।
প্রতিপক্ষ ইরান বিশ্বকাপে নিয়মিত হলেও ইংল্যান্ডের জন্য অচেনা প্রতিপক্ষ। কারণ এর আগে বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, কখনো প্রীতি ম্যাচেও দেখা হয়নি দুই দলের। আর সেটি না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের তিক্ততা ছড়িয়ে গেছে কাতারেও।
তবে মাঠের বাইরের সব ঝামেলা চুকিয়ে ইংল্যান্ডের এবার মাঠে ভালো করার পালা। যদিও বি গ্রুপে তাদের তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। তাও ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েলসের বিপক্ষে কোনোমতে পা হড়কালেই ইংল্যান্ডের বিপদ। আর সে রকম কিছু হয়ে গেলে কোচ সাউথগেটের চাকরি নিয়েই টানাটানি পড়ে যাবে।
এসব নিয়ে ভাবছে না ইংলিশরা। যেমন ডিফেন্ডার এরিক ডায়ার ইরান ম্যাচের আগে সেসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কোচের পাশেই রইলেন, ‘এগুলো ফালতু কথা, মানুষের মনোভাব খুব দ্রুত পাল্টায়। আমাদের মনে রাখা উচিত ইংল্যান্ড সাম্প্রতিক সময় কী করেছে, আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছি, ইউরোর ফাইনালে উঠেছি।’
হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে ভারসম্য দল গঠন করেছে ইংল্যান্ড। বিশেষ করে তুলনামূলক শক্তির দিকে এগিয়ে আক্রমণভাগ। কেনের সঙ্গে আক্রমণে আছেন ফিল ফোডেন ও জেডন সাঞ্চো। আক্রমণই সাউথগেটের অন্যতম ভরসা। সেই সঙ্গে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের শক্তিও দেখার মতো।
রক্ষণে আছেন হ্যারি মাগুইরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। একই সঙ্গে মাঝমাঠে আছেন সময়ের অন্যতম সেরা উদীয়মান তারকা জুড বেলিংহাম। বাকিরাও কেউ কারো থেকে কম না। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর ৫১ ম্যাচ খেলে ৩৩ টিতে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ৫ম।
সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই ইরানও। নারী অধিকার নিয়ে বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল দেশ। দেশের এই অবস্থায়ো বিশ্বকাপে নামতে হচ্ছে ইরানকে। অধিনায়ক আলীরেজা জাহানবখস অবশ্য সবকিছু ভুলে খেলাতেই মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মাঠের লড়াইয়েই এখন তাদের ফোকাস।
ষষ্ঠবারে বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা ইরান বড় দলগুলোকে কাঁপানোর ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্বকাপে তারুণ্যের দিকে না গিয়ে অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকেছে ইরান। অভিজ্ঞতাই ইরানের বড় শক্তি। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা বেশ কয়েকজন আছেন এবারের স্কোয়াডে।
ইরানের মূল শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। সবসময় অ্যাটাকিং রুলসে খেলা দলটি এবারও যে একই নিয়মে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। ইরানের আক্রামণের মূল শক্তি পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোয় খেলা মেহদি তারেমি। ইরানের ফিফা র্যাংকিয়ের বর্তমান অবস্থান ২০তম।
পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজের দল ইংল্যান্ডকে চমকে দিতে পারলে সেটি এশীয় ফুটবলের জন্যই বড় ঘটনা হবে। দলে প্রতিভারও কমতি নেই। সরদার আজমুনের মতো আরও কয়েকজন খেলেন ইউরোপের বিভিন্ন লিগে। সুতরাং প্রথম দেখায় প্রথম মহারণ জমজমাট হবে, সেটা বলাই যায়।