পিএসজির স্বপ্নের রাতে ফিরে এলো আরেকটি ৭-১
ব্রাজিল সমর্থকরা নিশ্চয় সেই রাতের কথা ভুলে যাননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যে জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টটাই পেয়েছিলেন তারা! হেক্সা জয়ের মিশনে এসে জার্মানির কাছে তারা সেই রাতে হেরেছিল ৭-১ ব্যবধানে। যে ট্র্যাজেডি এখনো অনেককেই তাড়া করে বেড়ায়।
স্কোরলাইন ৭-১ শুনলেই এখন প্রায় সবার মনে ভেসে ওঠে সেই ম্যাচের কথা। তবে এখন থেকে সেখানে যুক্ত হতে আরেকটি নাম, যেখানে দুই দলের নাম অবশ্য আলাদা। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ও লিলিির মধ্যকার ম্যাচের ফলও যে এমনই, ৭-১!
ফুটবলে হয়তো একেই বলে ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’! লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা একসঙ্গে জ্বলে উঠলে কি হতে পারে, সেটার দারুণ এক উদাহরণ হয়ে থাকলো রোববার রাতের ম্যাচটি। যেখানে অবিশ্বাস্য ফুটবল শৈলীতে লিগ ওয়ানে স্বপ্নের রাত কাটিয়েছে পিএসজি।
লা পারিসিয়ানদের নতুন কোচ ক্রিস্তোফ গালতিয়েরের সাবেক দল লিলিকে গতকাল ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন এমবাপ্পে, জোড়া গোল পেয়েছেন নেইমার, একবার করে লক্ষ্যভেদ করেছেন মেসি এবং আশরাফ হাকিমি।
মাত্র ৮ সেকেন্ডে লিগ ওয়ান ইতিহাসের দ্রুততম গোল দিয়ে পিএসজির এই ধ্বংসযজ্ঞের শুরু। ৮৭ মিনিটে দলের সপ্তম এবং এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক গোল দিয়ে যা শেষ হয়।
পিএসজিতে ভাঙনের সুর বাজছে প্রতিনিয়ত, মেসি-নেইমারের সঙ্গে এমবাপ্পের অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর শিরোনাম হচ্ছে নিয়ম করে। তবে খেলার মাঠে সেসবের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। কিক-অফ থেকে দুই পাস পর বল পেয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের উদ্দেশে অনন্য সাধারণ এক পাস বাড়ান মেসি।
সেই পাস ধরে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান ফরাসি ফরোয়ার্ড। বল যখন জাল স্পর্শ করে, ঘড়ির কাঁটা তখন জানিয়ে দেয় রেফারি বাঁশিতে ফুঁ দেওয়ার পর মোটে ৮ সেকেন্ড পেরিয়েছে। মেসি-এমবাপ্পের চমকে দেওয়া এই মুভে লিগ ওয়ান ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড লেখা হয় নতুন করে।
প্রথমার্ধে এরপর একে একে আরো তিন গোল করেন পিএসজি। ২৭ মিনিটে মেসি, ৩৯ মিনিটে হাকিমি এবং তার মিনিট চারেক পর নেইমার ম্যাচে তার প্রথম গোল করেন। ৪-০ গোলের বিশাল লিডে প্রথমার্ধ শেষেই যেন জয় নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির। পরের ৪৫ মিনিট পরিণত হয় আনুষ্ঠানিকতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে আবারো লিলির জাল কাঁপান নেইমার। তবে এর মিনিট দুয়েক পর স্বাগতিকদের উইঙ্গার জোনাথান বাম্বা পিএসজির জালে বল প্রবেশ করালে ম্যাচে একটা ‘লাইফলাইন’ পায় লিলি। তবে সেই লাইফলাইন কাজে লাগাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
৬৬ এবং ৮৭ মিনিটে আরও দুইবার লিলির জালে বল পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। ম্যাচে এমবাপ্পের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গোলের সঙ্গে হাকিমির গোল বানিয়ে দিয়ে জোড়া গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিকও করেছেন নেইমার
ম্যাচে বল দখলের দিক দিয়ে পিএসজির চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না লিলি। শট নেওয়ার দিক দিয়েও তারা পিএসজিকে সমানে সমান টক্কর দিয়েছে। লিলির গোলমুখে পিএসজির খেলোয়াড়রা ম্যাচজুড়ে ১৬টি শট করেছেন, যার নয়টি ছিল লক্ষ্যে, এর মধ্য থেকেই সাতবার বল জালে জড়িয়েছেন তারা।
অন্যদিকে সমান ১৬টি শত নিয়েছে লিলিও, যার দশটি ছিল লক্ষ্যে। পিএসজির চেয়ে একটি শট বেশি লক্ষ্যে রেখেও মাত্র একবার বল জালে পাঠাতে সক্ষম হয় তারা। লিলির ফিনিশিং দুর্বলতা এবং পিএসজির আক্রমণভাগের ত্রয়ীর অবিশ্বাস্য ফিনিশিং সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।
টানা তিন জয়ে মৌসুম শুরু করে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে পিএসজি।