শাশুড়ির ‘কুপরামর্শে’ বিয়ে করেও স্বামী হারা এক তরুণী
ভালোবেসে বিয়ে করেও শাশুড়ির ‘কুপরামর্শে’ সংসার করতে পারছেন না এক তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি পাঁচদিন ধরে মাদারীপুরে স্বামীর বাড়ির ঘরের দরজায় বসে অনশন করছেন ওই তরুণী।
গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় ওই তরুণীর বাড়ি। দুই বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর কদমবাড়ি গ্রামের বাবু রায়ের ছেলে সৈকত রায়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সৈকত ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
অনশনরত ওই তরুণী জানান, চার বছর আগে সৈকত রায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুবছর আগে পরিবারের অজান্তে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে থাকতেন তিনি। গত ছয় মাস আগে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় বাসা ভাড়া করে স্বামী সৈকতের সঙ্গে সংসার শুরু করেন।
তিনি আরো জানান, তাদের সুখের সংসারই ছিলো। সৈকতের মা শেলী রায় ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় থাকছেন শোনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। ছেলেকে নানা ‘কুপরামর্শ’ দিতে থাকেন। পরে মায়ের পরামর্শ অনুযায়ী সৈকত কিছুদিন আগে ওই তরুণীকে নির্যাতন করে ঢাকার বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। পাশিপাশি সৈকত বাসা ছেড়ে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, কোনো উপায় না পেয়ে গত শনিবার সৈকতের বাড়িতে ওঠেন তিনি এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ সময় সৈকতের মা শেলী রায় তাকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন এবং অরক্ষিত অবস্থায় রেখে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করেন।
সরেজমিনে সৈকতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, গত শনিবার থেকে সৈকতদের ঘরের বাইরে সিঁড়ির ওপর একা বসে ওই তরুণী অনশন করছেন। সৈকতও আত্মগোপনে থেকে ভাড়াটিয়া গুণ্ডা পাঠিয়েও তাকে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া জোরপূর্বক তাকে বাড়ি থেকে বের করার চেষ্টাও করেছে।
আরো দেখা যায়, সৈকতের ঘরে তালা লাগানো এবং মুক্তা সিঁড়ির ওপর বসে আছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় মেম্বারদের নিয়ে সেখানে হাজির হন। মুক্তার মুখে বিস্তারিত শুনে তাকে বিচারের আশ্বাস দেন।
কদমবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, বাবু রায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরে তালা লাগানো। মেয়েটিকে বাবু রায়ের পরিবারের মুরব্বিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজৈর থানার ওসি মো. শাহজাহান বলেন, আমি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি। মেয়েটি চাইলে আইন অনুযায়ী সহায়তা দেয়া হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর