ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]

মাকামে ইব্রাহিম কী? এখানে নামাজ পড়বেন যে কারণে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ২৫ মে ২০২৪
মাকামে ইব্রাহিম কী? এখানে নামাজ পড়বেন যে কারণে
ছবি: অন্তর্জাল

মাকামে ইব্রাহিম (আরবি: مَـقَـام إِبْـرَاهِـيْـم, বাংলা: ইব্রাহিম (আ.) এর দাঁড়ানোর স্থান) বরকতময় এক পাথরের নাম। যা কাবা শরিফের পূর্বদিকের তাওয়াফের স্থানে ক্রিস্টালের বাক্সে লোহার বেষ্টনী দিয়ে রাখা আছে। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সমান প্রায় এক হাত।

কাবাঘর নির্মাণকালে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) এর জন্য পাথরটি ব্যবহৃত হত। তাফসিরে আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী ওঠানামা করত পাথরটি। এর মাঝখানে ইব্রাহিম (আ.) সেই পায়ের ছাপ এখনও স্পষ্ট দেখা যায়। পাথরটির ওপর প্রতিটি ছাপের দৈর্ঘ্য ২৭ সেমি এবং প্রস্থ ১৪ সেমি। পাথরের নিচের অংশে রূপাসহ প্রতিটি পাথরের দৈর্ঘ্য ২২ সেমি এবং প্রস্থ ১১ সেমি। পাথরটিতে ইব্রাহিম (আ.) এর পদচিহ্নের গভীরতা পাথরটির উচ্চতার অর্ধেক, ৯ সেমি। 

মাকামে ইব্রাহিম মহান আল্লাহর অনন্য নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, فِیۡهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبۡرٰهِیۡمَ ‘তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্রাহিম’। তাফসিরে তাবারিতে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে— ‘বায়তুল্লায় আল্লাহর কুদরতের পরিষ্কার নিদর্শন রয়েছে এবং খলিলুল্লাহ ইব্রাহিম (আ.) এর নিদর্শনাবলী রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো তার খলিল ইব্রাহিম (আ.) এর পদচিহ্ন ওই পাথরে যার ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন’। (তাফসিরে তাবারি: ৪/১১)

ইব্রাহিম (আ.) পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণের সময় এই পাথরে দাঁড়িয়ে কাজ করেছিলেন, তাই এটিকে ‘মাকামে ইব্রাহিম’ বলা হয়। তাওয়াফ-পরবর্তী ওয়াজিব ২ রাকাত নামাজ এই মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে পড়া সুন্নত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- وَ اتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِبْرٰهٖمَ مُصَلًّي ‘তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো’। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১২৫)

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ওমর (রা.) বললেন, আপনি যদি মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানাতেন! তারপরে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত নাজিল করেন। (দ্র. বুখারি: ৪০২, ৪৪৮৩; মুসলিম: ২৩৯৯; তিরমিজি: ২৯৫৯, ২৯৬০)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের সময় তাওয়াফের পরে এই মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে কাবার দিকে মুখ করে এভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন যে, তাঁর এবং কাবা শরিফের মাঝে মাকামে ইবরাহিম ছিল। (দ্র. বুখারি: ৩৯৫, ১৬২৩, ১৬২৭; মুসলিম: ১২১৮, ১২৩৪; তিরমিজি: ৮৫৬, ৮৬২, ২৯৬৭)

কাবাঘর তাওয়াফের পরে ২ রাকাত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এ ২ রাকাত মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে আদায় করা উত্তম। যদি কোনো কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে মসজিদে হারামের যেকোনো জায়গায় আদায় করলেই হবে। তা-ও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে হারামের এলাকার ভেতরে আদায় করে নেবে। হারামের সীমানার বাইরে আদায় করা মাকরুহে তানজিহি। (দ্র. সূরা: বাকারা ১২৫ এর তাফসির, আহকামুল কোরআন, জাস্সাস; তাফসিরে ইবনে কাসির; মানাসিকে মোল্লা আলি ক্বারি, পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৭; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ: ১১৬-১১৭; ইলাউস সুনান: ১০/৭৫-৮১)

মাকামে ইব্রাহিমে দোয়াও করেন হাজি সাহেবরা। কেননা কাবার ভিত উঠানোর সময় ইব্রাহিম ও ইসমাঈল (আ.) দোয়া করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিতগুলো উঠাচ্ছিল (এবং দোয়া করছিল,) ‘হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী’। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১২৭)

হারাম শরিফের দুই পবিত্র পাথর সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের গুনাহ যদি হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহিমের পাথরকে স্পর্শ না করতো, তাহলে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি তা স্পর্শ করলে (আল্লাহর পক্ষ হতে) তাকে সুস্থতা দান করা হতো’। (সুনানে কুবরা, বায়হাকি: ৫/৭৫; শরহুল মুহাযযাব: ৮/৫১)

তবে, মাকামে ইব্রাহিমকে স্পর্শ কিংবা চুমো দিতে হবে—এমন কোনো বিধান ইসলামে নেই। আল্লাহ তাআলা হজযাত্রীদেরকে মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!