ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]
শেষ পর্ব

নবী ও বুজুর্গদের ব্যবহার সামগ্রী এবং স্মৃতিচি‎হ্ন কি বরকতময়? 

ওমর শাহ 
প্রকাশিত: ১৭:১৮, ৩০ জুন ২০২০
নবী ও বুজুর্গদের ব্যবহার সামগ্রী এবং স্মৃতিচি‎হ্ন কি বরকতময়? 
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ব্যবহৃত তরবারি মোবারক। (ফাইল ফটো)

এ পৃথিবীতে অনেক নবী বুজুর্গ আল্লাহওয়ালা আগমন করেছেন। তারা আজ আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কিন্তু রয়েছে গেছে তাদের অনেকের স্মৃতি ও ব্যবহৃত সামগ্রী।

হজরত ওমর রাদি. এর নিষেধ করার কারণ:

তাহলে হজরত ওমর ফারুক রাদি. কেন নিষেধ করেছিলেন? তাঁর নিষেধ করার কারণ ছিল, পূর্ববর্তী উম্মতদেরর মতো অবস্থা যেন না হয় যে, লোকেরা সেই জায়গাগুলোকেই উপকারী বা ক্ষতিকর ভাবতে শুরু করে। কিংবা সেখানে নামাজ পড়া ওয়াজিব মনে করে বসে। তারপর ফরজ বর্জন করে তার প্রতি বেশি ধাবিত হয়। আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে এভাবে গুরুত্ব দেয়া নিঃসন্দেহে নিষেধ। (উমদাতুল কারি, ৩/৫৬০)।

আরো পড়ুন >>> নবী ও বুজুর্গদের ব্যবহার সামগ্রী এবং স্মৃতিচি‎হ্ন কি বরকতময়? পর্ব-১

হজরত ওমর রাদি. বরকতময় হওয়াকে অস্বীকার করেননি:

হজরত ওমর রাদি. সম্পর্কে সহিহ বুখারির কিতাবুল মাগাযিতে আছে, হজরত যুবায়ের রাদি. এর কাছে একটি বল্লম ছিল। এদ্দ্বারা আবু যাত কারশিকে হত্যা করা হয়। এই বল্লমটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিল। যখন তাঁর ইন্তেকাল হয়, হজরত সিদ্দিকে আকবার রাদি. তা নিয়ে নিজের কাছে রাখেন। হজরত সিদ্দিকে আকবার রাদি. এর ইন্তেকাল হলে, হজরত যুবায়ের রাদি. বল্লমটি নিয়ে তার কাছে রাখেন। তখন হজরত ওমর ফারুক রাদি. হজরত যুবায়ের রাদি.-কে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যে বল্লমটি ছিল, তা কি এখন তোমার কাছে আছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আছে। হজরত ওমর রাদি. বলেন, বল্লমটি আমাকে দাও। আমি আমার কাছে রাখব। হজরত ওমর রাদি. বাকি জীবন বল্লমটি তার কাছেই রাখেন। তাঁর ইন্তেকালের পর হজরত উসমান রাদি. বল্লমটি চেয়ে নেন।

এটি তো একটি বল্লমই ছিল। কেন একে এত গুরুত্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হলো? হজরত ওমর ফারুক রাদি. এর মতো ব্যক্তি তাকে সংরক্ষণ করলেন কেন? এ থেকে বুঝা যায়, হজরত ওমর ফারুক রাদি. আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্নকে বরকতময় মনে করতেন। বল্লমটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিল বলেই সাহাবিরা এটি নিজের কাছে রাখাকে সৌভাগ্যের বিষয় মনে করতেন। (সহিহ বুখারি)।

যে বৃক্ষের নিচে ‘বাইয়াতুর রিযওয়ান’ হয়েছিল:

তা কেটে ফেলার নির্দেশ কেন দিয়েছিলেন?

এ সম্পর্কে হজরত ওমর রাদি. এর দ্বিতীয় যে ঘটনাটি প্রসিদ্ধ তা হলো, হুদায়বিয়ার যেই বৃক্ষের নিচে বাইয়াতুর রিযওয়ান সঙ্ঘটিত হয়েছিল, তিনি তা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে প্রথম কথা হলো, ইমাম বুখারি রহ. এর রেওয়ায়েত থেকে বুঝা যায়, লোকেরা যে গাছটিকে সাজারায়ে রিদওয়ান মনে করতেন মূলত সেটির নিচেই বাইয়াত সঙ্ঘটিত হয়েছিল কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। বুখারি শরিফের কিতাবুল মাগাযির রেওয়ায়েতে আছে, আমার তো মনে নেই। তোমরা জানলে বলো। এর অর্থ হলো, নির্দিষ্টভাবে কোন বৃক্ষের নিচে বাইয়াত সঙ্ঘটিত হয়েছে তা হজরত ওমর রাদি. এর মনে নেই। তোমাদের জানা থাকলে বলো। (সহিহ বুখারি)।

লোকেরা যেহেতু নির্দিষ্টভাবে সেই গাছের নিচে বাইয়াত হয়েছে বলে মনে করত তাই তিনি তা কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২/১৫০)।

দ্বিতীয় আরেকটি কারণ এও হতে পারে যে, সম্ভাবনা ছিল, লোকজন এ স্থানটিকে উরসের জায়গা বানিয়ে নেবে। তাই তিনি তা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। এর অর্থ এ নয়, কোনো ধরনের স্মৃতিচি‎হ্নই অবশিষ্ট রাখা যাবে না।

পূর্বোক্ত রেওয়ায়েতসমূহের আলোকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহকে বরকতময় মনে করা জায়েজ ও প্রমাণিত। (উমদাতুল কারি, ২/৫৩৬)।

নবীদের ব্যবহার্যসামগ্রী ও স্মৃতিচি‎হ্নকে বরকতময় মনে করার উদ্দেশ্য:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে বরকতময় মনে করার উদ্দেশ্য এতটুকুই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সম্পৃক্ত জিনিসগুলোর প্রতি লোকেরা মহব্বত প্রকাশ করবে এবং সেগুলো থেকে বরকত হাসিল করবে। কিন্তু সেগুলোকে মাবুদ মনে করা কিংবা সেগুলোর ইবাদত শুরু করে দেয়া কিংবা সেগুলোর স্পর্শকে ওয়াজিব মনে করা, এগুলো বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন। শরীয়তে এর কোনো স্থান নেই। হজরত ফারুকে আজম রাদি. আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো ভবিষ্যতে লোকেরা এগুলো করবে। তাই তিনি নিষেধ করেছিলেন। তার নিষেধ করার অর্থ এই ছিল না যে, বরকতময় মনে করার কোনো ভিত্তিই নেই। তিনি তো হাজারে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আমি জানি তুমি একটি পাথরমাত্র। তোমার মাঝে উপকার করার কিংবা ক্ষতি করার কোনো শক্তি নেই। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তোমাকে চুমু দিতে তাই আমি তোমাকে চুমু দিচ্ছি। (সুনানে তিরমিজি, সহিহ বুখারি)।

যারা বরকতময় মনে করেন না তাদের দৃষ্টিভঙ্গির নেপথ্য কারণ:

তাই স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে ধ্বংস করা বাড়াবাড়ি। দ্বীনি বিষয়াবলীতে কঠোরতা আরোপ এবং সুস্পষ্ট দলিল-প্রমাণ পরিপন্থী। তবে কথা হলো বরকতময় জিনিসকে বরকতময় মনে করার মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত। এর চেয়ে অগ্রসর হয়ে সেগুলোকে উপকার দানকারী কিংবা ক্ষতিকর মনে করা, সেগুলোকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা, যা ইবাদতের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, এগুলো সম্পূর্ণ নিষেধ। এসব কাজ অনেক ক্ষেত্রেই শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। তাই যেখানে এর আশঙ্কা থাকে, সেখানে সাধ্যমত লোকজনকে বিরত রাখা উচিত। কিন্তু সাধারণভাবে বরকতময় মনে করাকে শিরক সাব্যস্ত করা এবং স্মৃতিচি‎হ্নগুলোকে জেনে-বুঝে ধ্বংস করে দেয়া মারাত্মক অন্যায়।

ভাই, তোমরা রওজায়ে আকদাসেরও নিয়ন্ত্রণ পেয়েছ। রওজায়ে আকদাসেও তো লোকজন শিরক করত। সেখানে গিয়ে বেদাত করত। কিন্তু সেখানে তোমরা লোক নিযুক্ত করেছ, যাতে কবর শরিফের সামনে কেউ হাত বেঁধেও দাঁড়াতে না পারে। কেউ হাত বেঁধে দাঁড়ালেই, তার হাত নিচু করে দেয়া হয়। সেখানে তোমরা নানাবিধ পাবন্দি লাগিয়েছ। কিন্তু বাড়াবাড়ি ও শিরকির আশঙ্কায় রওজায়ে আকদাসের জিয়ারত তো বন্ধ করনি। এই কাজ তোমরা অন্যান্য স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানের ক্ষেত্রেও করতে পারতে। সেখানেও লোক নিযুক্ত করতে পারতে, যারা বেদাতে বাঁধা প্রদান করত। কিন্তু আফসোস! তোমরা প্রিয়নবীর (সা.) স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ধ্বংস করাকে একটি মিশন বানিয়ে নিয়েছ।

চৌদ্দশ বছর ধরে উম্মত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি স্মৃতিচি‎হ্নকে সংরক্ষণ করে এসেছে। পৃথিবীর অন্য কোনো সম্প্রদায় এর উদাহরণ পেশ করতে পারবে না। লোকেরা ‘খাওখায়ে আবু বকর’-কে সংরক্ষণ করেছে। শিরক করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করেনি। ভালবাসা বলেও তো একটি জিনিস আছে। মানুষ যখন এসব স্মৃতিচি‎হ্নকে দেখত, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীকেও তারা স্মরণ করত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তাঁর জীবনের ঘটনাবলীকে স্মরণ করত। এর ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা আরো বৃদ্ধি পেত।

চৌদ্দশ বছর যাবত যেসব জিনিসকে মুসলমানরা সংরক্ষণ করে এসেছে, সেগুলোকে একটি ভুয়া জিগির তুলে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। একসঙ্গে সবগুলো ধ্বংস করা হয়নি। জনগণ আন্দোলন করতে পারে, এই ভয়ে একটি একটি করে সময়-সুযোগ বুঝে ধ্বংস করা হয়েছে।

রাসূল সা. এর ব্যবহৃত দুর্লভ কিছু নিদর্শন:

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে প্রসিদ্ধ হলো ইস্তাম্বুলে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলো অধিক নির্ভরযোগ্য। তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোবারক জুব্বা, তাঁর দু’টি তরবারি, বদরযুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোবারক চুল, তাঁর দাত, মিশরের বাদশা মুকাওকিসের নামে তাঁর লিখিত চিঠি এবং তাঁর মোবারক মোহর সংরক্ষিত আছে।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলী থেকে জানা যায়, এসব নিদর্শন আব্বাসীয় খলিফাদের তত্তাবধানে ছিল। সর্বশেষ আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন আলমুতাওয়াক্কিল। তিনি জীবনের শেষ দিনগুলো মিশরে সুলতানি শাসকদের আশ্রয়ে অতিবাহিত করেন। শাসনক্ষমতায় তার কোনো অংশীদারিত্ব ছিল না। হিজরি দশম শতাব্দীতে হেজাজ ও মিসর উসমানি সুলতান প্রথম সালিমের কর্তৃত্ব মেনে নেয়। এবং তাকে ‘খাদেমুল হারামায়ন আশ শারিফায়ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তখন আব্বসীয় খলিফা মুতাওয়াক্কিল খেলাফতের দায়িত্বও সুলতান সালিমকে অর্পণ করেন। মক্কা ও মদিনা শরিফের চাবি ও বরকতময় নিদর্শনগুলো খেলাফতের অলংকাররূপে তার হাওয়ালা করেন। এরপর থেকে উসমানি সুলতানরা ‘খলিফা’ এবং ‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধি লাভ করেন এবং পুরা মুসলিমবিশ্ব তা মেনে নেয়।

সুলতান সালিম হিজরি দশম শতাব্দীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত নিদর্শনগুলো খলিফা মুতাওয়াক্কিলের কাছ থেকে ইস্তাম্বুল নিয়ে আসেন। এগুলো বিশেষভাবে সংরক্ষণ করার জন্য ‘তুপ কাপে সারায়ে’তে একটি স্বতন্ত্র কক্ষ নির্মাণ করেন। সুলতান সালিম নিদর্শনগুলোকে এতটা যত্ন করতেন যে, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন, ইস্তাম্বুলে বসবাসকালে ওই কক্ষটি তিনি নিজে ঝাড়– দিতেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। তা ছাড়া সেই কক্ষে নিয়মিত কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করার জন্য তিনি কয়েকজন হাফেজ নিয়োগ দেন। হাফেজ সাহেবান পালাক্রমে সেখানে কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করত। এক দলের তেলাওয়াত শেষ হওয়ার পূর্বেই আরেকদল এসে তেলাওয়াত শুরু করে দিত। পরবর্তী খলিফাদের সময়ও এই নিয়ম অব্যাহত থাকে। সম্ভবত পৃথিবীতে এ-ই একমাত্র জায়গা যেখানে চারশ বছর পর্যন্ত ক্রমাগত কোরআন তেলাওয়াত অব্যাহত থাকে। এক মুহূর্তের জন্যও তেলাওয়াত বন্ধ হয়নি। খেলাফত ব্যবস্থা ধ্বংসের পর কামাল আতাতুর্ক এর ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দেয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত সেই নিদর্শনগুলোকে মহামূল্যবান কাঠের বাক্সে রাখা হয়। পুরা বছরের মধ্যে একবার রমজান মাসের সাতাশ তারিখ রাতে বাইরে বের করে লোকদেরকে দেখানো হয়। এ ছাড়া বছরের বাকি দিনগুলোতে নিদর্শনগুলো সিন্দুকেই তালাবদ্ধ থাকে। উপর থেকে শুধু সিন্দুকটিই দেখা যায়। সিন্দুকটি দেখতে পারাও অনেক বড় নেয়ামত। কারণ এর সঙ্গেই লেগে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পর্শধন্য নিদর্শনগুলো। সেই কক্ষে আরো কিছু নিদর্শন আছে, যেগুলো কাচের শো-কেসে সংরক্ষিত। স্বচ্ছ কাচের কারণে বার থেকেই সেগুলো দেখা যায়। তাতে হজরত দাউদ আ. এর একটি তলোয়ার। চার খলিফার চারটি তলোয়ার। হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদি., হজরত জাফর ইবনে আবু তালেব রাদি., হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রাদি. এবং হজরত আবুল হোসাইন রাদি. এর একটি করে তলোয়ার রাখা আছে। শো-কেসের আরেক অংশে কাবা শরিফের দরজার একটি টুকরা, কাবা শরিফের তালা ও চাবি, মিযাবে রহমতের দুটো টুকরা এবং একটি থলি রাখা আছে, যাতে একসময় হাজারে আসওয়াদ রাখা হয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজায়ে আকদাসের মাটিও আছে। তবে গবেষক ওলামাদের মতে তরবারিগুলো যাদের বলা হচ্ছে তা সঠিক কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হজরত আনাস রাদি. মৃত্যুকালে অসিয়ত করেন যে, আমার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি চুল আছে। আমার মৃত্যুর পর দাফন করার সময় তোমরা চুলটি আমার মুখের ওপর রেখে দিয়ো। তার মৃত্যুর পর তা-ই করা হয়। এটি সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে, আমবিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের নিদর্শনসামগ্রীকে বরকতময় মনে করা এবং তা দ্বারা বরকত হাসিল করা জায়েজ ও প্রমাণিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএজে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!