ছেলে সরকারের উপদেষ্টা হওয়ায় তাকে নিয়ে গর্বিত আসিফের বাবা বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, আসিফ ছোটবেলা থেকেই একরোখা আর জেদি। কোথাও অন্যায় দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিবাদ করে।
আসিফ মাহমুদ সবুজ ভূঁইয়ার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানাধীন আকুবপুর গ্রামে। তার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার মা রোকসানা আক্তার একজন গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় আসিফ বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে।
.png)
শুক্রবার ছেলের প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলেন বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আসিফ মাহমুদ। প্রথমদিকে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর আমরা জানতে পারি সে আন্দোলনের সমন্বয়ক। তখন আসিফকে বাড়ি ফিরে আসতে অনুরোধ করি। তবে আমাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসিফ বলে, আমার অনেক ভাই-বোন পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। আমি আন্দোলন থেকে ফিরে আসবো না। হয় গুলি খেয়ে মরবো, না হয় আন্দোলন সফল করে ঘরে ফিরবো। এরপর থেকেই পরিবারে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা শুরু হয়।
বিল্লাল হোসেন আরো বলেন, আসিফ ৫ দিন নিখোঁজ ছিল। ঐ সময় পরিবারের সবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। বন্ধ থাকে সবার খাওয়া-দাওয়া। আমরা লাশ ঘরে গিয়েও তাকে খুঁজেছি। আন্দোলন সফল হওয়ায় অনেক ভালো লাগছে।
তিনি আরো বলেন, আসিফ ছোটবেলা থেকেই একরোখা ছিল। অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করতো। ছেলেটার একরোখা স্বভাব তাকে আজ সরকারের উপদেষ্টা বানিয়েছে। একজন বাবা হিসেবে আমি অনেক গর্বিত। ছেলের এমন সাফল্যে আমি আমার শিক্ষকতা জীবনকে সার্থক মনে করছি।