ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বন্যার পানি কমতেই সরিষা চাষে ব্যস্ত চলনবিলের কৃষক

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী
প্রকাশিত: ১২:০৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বন্যার পানি কমতেই সরিষা চাষে ব্যস্ত চলনবিলের কৃষক
চলনবিলে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় চেনা রূপে ফিরছে চলনবিলের মাঠ। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরিষা চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশসহ চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা। জমির আগাছা পরিষ্কার, হালচাষ ও বীজ বপনের উপযোগী করে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কয়েক দিনের মধ্যেই আগাম জাতের সরিষা বপন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর এবং পাবনার চাটমোহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মাঠে চলছে সরিষা চাষের প্রস্তুতি। বন্যার পানি সরে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের।

উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর এবং তাড়াশ উপজেলায় ১০ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই উপজেলায় মোট ৩৫ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা।

গত বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের মতে, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম। পাশাপাশি বাজারে সরিষার তেলের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে চলনবিলের কৃষকদের কাছে সরিষা চাষ ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কৃষক আহসান আলী বলেন, ‘বর্ষার পানি নামতেই জমি শুকাতে শুরু করেছে। এখনই সরিষা বপনের উপযুক্ত সময়। আমরা আগাম জাতের সরিষা বুনলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফুল আসবে, জানুয়ারিতে ফলন পাব।’

উল্লাপাড়া উপজেলার বড় পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বানের পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকার কৃষকরা আগাম জাতের সরিষা আবাদের জন্য জমি তৈরি করছেন। কেউ কাদামাটিতে বীজ বপন করবেন, আবার কেউ জমি চাষ করে বীজ বপন করবেন।’

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, চলনবিল অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকদের উন্নত জাতের সরিষা চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাত ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ অনুসরণ করলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও অবদান রাখা যাবে।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা ইতিমধ্যে জমি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সরিষা চাষের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

সরিষা চাষের প্রস্তুতিকে ঘিরে চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন কর্মচাঞ্চল্য। কোথাও জমি পরিষ্কার করা হচ্ছে, কোথাও চলছে হালচাষ, আবার কোথাও প্রস্তুতি চলছে বীজ বপনের। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর মাঠে কৃষকদের এই ব্যস্ততা নতুন ফসলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে চলতি মৌসুমে সরিষার উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!