ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

চিকিৎসাসেবায় বিদেশমুখী রোগী কমাতে হবে: জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৩৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসাসেবায় বিদেশমুখী রোগী কমাতে হবে: জাহিদ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।.ছবি: সংগৃহীত

নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও পেশার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, সবাই যদি নিজ নিজ পেশাকে সম্মান করেন, তাহলে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার পরিবেশ তৈরি হবে। অন্যের অধিকারকে সম্মান করার মাধ্যমেই নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভ্যাল হলে ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজি’র বার্ষিক সায়েন্টিফিক সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে চিকিৎসকদের বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তা দেশের চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে চক্ষু চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আগামী ৫০ বছর দেশের মানুষকে সেবা দেওয়ার উপযোগী দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

চিকিৎসকদের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কোনো মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। চক্ষু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

জনকল্যাণে মরণোত্তর চক্ষু ও অঙ্গদানের মতো মহৎ উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও উৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, দেশে প্রায় ৫ শতাংশ শিশু জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এসব সমস্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও জানান তারা।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরও বাড়বে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আসা ৩৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন (নিউটন)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জানে আলম মৃধা। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ কামাল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সাধারণ সম্পাদক, দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা এবং চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!