বাসা খালি তবুও ব্যাচলরদের ভাড়া দেয় না বাড়িওয়ালারা
দেয়ালে দেয়ালে টু-লেট, বাসা ভাড়া হবে এমন অসংখ্য লিফলেট সাঁটানো। করোনার কারণে ঢাকার বাসা মালিকদের মাথায় হাত। বাসাভাড়া দিয়ে স্বপ্নের রাজধানীতে না থাকতে পেরে অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন সপরিবারে। ফিরেছেন নিজ গ্রামে। এতে রাজধানীর অধিকাংশ বাড়িতে বাসা খালি আর বাড়ির সামনে টু-লেট ঝুলছে। তবে বাসা খালি থাকলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে চাচ্ছে না বাড়িওয়ালারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে, ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়া হয় না। অনেক টু-লেটে লেখা ‘এক রুম ভাড়া হবে (স্বামী-স্ত্রী), টু-লেট (ব্যাচেলর ব্যতীত)। এছাড়া বাড়ির মালিকরা স্পষ্ট করে বলছেন, বাসা খালি থাকলেও পরিবার ছাড়া ব্যাচেলরদের ভাড়া দেব না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে তিন তলা বাড়ির মালিক ইউসুফ মিয়া ব্যাচেলরদের বাসাভাড়া না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ব্যাচেলরদের ভাড়া দিমু না। এদের ভাড়া দিলে শুধু ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকা পরিবারগুলোও সমস্যা মনে করে তারা থাকতে চায় না।

তিনি বলেন, বাসা নোংরা করে রাখার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে আড্ডা দেয়। বাসা ভাড়া ঠিকমতো দেয় না। হুট করে কোথায় যায় বলে যায় না। বাসা ভাড়া বকেয়া থাকলে আর দিতে চায় না। এই করোনার মধ্যেও আমি ঝামেলায় পড়েছিলাম। তিন মাসের ভাড়া এখনো বকেয়া আছে।
তিনি আরো বলেন, এসব বিবেচনা করে ব্যাচলরদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না বাড়ির মালিকরা। তাছাড়া ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিলে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হয়।
চাকরিজীবী মহসিন মাহামুদ বলেন, করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছি। দেশে করোনা হানা দেয়ার আগে গেন্ডারিয়া এলাকায় ব্যাচেলর বাসায় ভাড়া থাকতাম চার বন্ধু মিলে। অফিস বন্ধ হওয়ার কারণে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। তিন মাসের ভাড়া বাকি ছিলো। রমজানের ঈদের পরে এসে বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছি বাড়িওয়ালাকে। কিন্তু এখন ঢাকায় এসে বাসা খুঁজে পাচ্ছি না। অনেকের বাসা খালি; কিন্তু ব্যাচেলরদের ভাড়া দিতে চাচ্ছে না। নানা অজুহাত দেখায় বাসা মালিকরা। লালবাগের চাকরিজীবী মহসিন, সেলিম ও রাসেলের বাসাভাড়া না পাওয়ার অভিযোগ একই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাসার সামনের সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে ‘ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়া হয় না’। অনেক বাসায় লেখা ছাত্র-ছাত্রীদের ভাড়া দেয়া হয় না। অনেক টু-লেটে লেখা ‘এক রুম ভাড়া হবে, স্বামী-স্ত্রী অগ্রাধিকার’। যদিও ঢাকায় বাসা ভাড়ার এমন নিয়মনীতি বা ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক আইনে নেই। বেশ কয়েকজন বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসার মালিকরা এখন লাভের দিক না দেখে ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়াটাকে নানা কারণে বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন।

শহরে যেসব ব্যাচেলর বাসাভাড়া নিয়ে থাকেন, তাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। এছাড়া আছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চাকরিপ্রার্থী। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এখনো ঢাকামুখী হননি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বন্ধ থাকায়। তবে চাকরিজীবীরা বাসা ভাড়া পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বাসা খালি থাকা সত্ত্বেও ব্যাচেলরদের বাসাভাড়া দিতে না চাওয়ার অনেক কারণ আছে। একটি বাড়িতে ফ্যামিলি থাকে, বাড়িওয়ালাদের মেয়ে থাকে, এই রকম বিভিন্ন কারণে। তবে আমরা বারবারই দাবি করে আসছি ব্যাচেলরদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা রাখা হোক। আসলে বাড়িওয়ালারা সরকারের কোনো নিয়মনীতি মানতে চান না। তারা ভাবে এসব নিয়ম তাদের বিরুদ্ধে যাবে।