ক্যাসিনো এনু-রুপনের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় দুদক
রাজধানীর ওয়ারী থানার অর্থপাচার আইনের মামলায় ক্যাসিনো কাণ্ডে আলোচিত পুরান ঢাকার দুই ভাই এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু, রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে এ দাবি করা হয়।
এদিন ১১ আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে সর্বোচ্চ সাজা ১২ বছরের সাজা দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর শওকত আলম। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। আসামি জয় গোপাল সরকারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর এনু ও রুপনের পক্ষে তাদের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে এদিন তা শেষ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম জানান, আগামী ২ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- মেরাজুল হক ভূঁইয়া শিপলু, রশিদুল হক ভূঁইয়া, সহিদুল হক ভূঁইয়া, পাভেল রহমান, তুহিন মুন্সি, আবুল কালাম আজাদ, নবীর হোসেন শিকদার ও সাইফুল ইসলাম।
আসামিদের মধ্যে শিপলু, রশিদুল, সহিদুল ও পাভেল মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। তুহিন জামিনে আছেন। অপর ছয় আসামি কারাগারে আছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো খেলা পরিচালনাকারী এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের ওয়ারীর লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাড়ি ঘেরাও করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। কালামের স্ত্রী ও মেয়ের দেখানো মতে চতুর্থ তলার বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব-৩ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান জিয়াউল হাসান ২৫ নভেম্বর ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, এনু ও রুপন দীর্ঘদিন ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে আসছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলে, তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করতে কালামের বাসায় রেখেছিল। কালাম সেগুলো নিজের কাছে রাখে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অপরাধ।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২১ জুলাই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ছাদেক আলী। গত বছরের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।