অর্থপাচারের দুই মামলায় এনু-রুপনের বিচার শুরু
অর্থপাচারের দুটি মামলায় ‘ক্যাসিনো ব্রাদার’ পুরান ঢাকার এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন বিচারের এ আদেশ দেন।
বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বেন্স সহকারী মো. মতিয়ার রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন কারাগারে আটক আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ও অন্যটি ২৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১১ আসামির মধ্যে সাতজন কারাগারে আছেন। তারা হলেন- এনামুল হক, রুপন ভূঁইয়া, তুহিন মুন্সি, জয় গোপাল, আবুল কালাম আজাদ, নবী হোসেন ও সাইফুল ইসলাম। এছাড়া পলাতক চার জন হলেন- এনামুল ও রুপনের ভাই মেরাজুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভূঁইয়া, শহিদুল হক ভূঁইয়া ও তাদের সহযোগী পাভেল রহমান।
২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ছয়টি মামলা হয়।
পরে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনু-রুপনের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা, পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি সোনা উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করে গত বছরের ২১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এদিকে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি অর্থপাচারের আরেকটি মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ গঠন করেন। বর্তমানে মামলাটির বিচারকার্য চলছে। এ পর্যন্ত মামলাটি মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালতে চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি কেরাণীগঞ্জের একটি ভবন থেকে এক সহযোগীসহ এনু-রুপন দুই ভাই গ্রেফতার হন।