এবার হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেন পরীমনি
ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া গত ২২ আগস্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছেন।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে বুধবার এ জামিন আবেদনের বিষয়ে অনুমতি নেয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে পরীমনির আইনজীবী মুজিবুর রহমান জানান, পরীমনির এ জামিন আবেদনের এক কপি রাষ্ট্রপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ওই মামলায় পরীমনির জামিন আবেদন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। এ আদেশের বৈধতা নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের দারস্থ হন পরীমনি। আবেদনে বিলম্বে জামিন আবেদন শুনানির দিন রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন পরীমনি। আর্জি জানিয়েছেন জামিনেরও।
এর আগে, গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। সেই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া গত ২২ আগস্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে এ আবেদনটি করা হয়েছে। এতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও চেয়েছেন পরীমনি।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। তার ড্রয়িংরুমের কাভার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম, বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।
তার পরদিন র্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী বিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় দায়ের করে। ওই দিন পরীমনি ও তার সহযোগীর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এরপর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি মিনি বার তৈরি করেন। তিনি বাসায় নিয়মিত মদের পার্টি করতেন। আর চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরো অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করত এবং পার্টিতে অংশ নিতো।
পরীমনি ২০১৪ সালে সিনেমা জগতে আসেন। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও ৫ থেকে ৭ টি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। প্রযোজক রাজ তাকে পিরোজপুর থেকে ঢাকায় সিনেমা জগতে নিয়ে আসে।