ভারতে চলতি বছরে বজ্রপাতে ৯০৭ জনের মৃত্যু
চলতি বছরে ভারতে তাপপ্রবাহ ও বজ্রপাতের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো বেড়েছে। এ সময় বজ্রপাতের কারণে ৯০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্যে এমনটি দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ভারতে তাপপ্রবাহ আট গুণ বেশি ছিল। সব মিলিয়ে বছরে ২৭টিতে দাঁড়িয়েছে এবং বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়েছে ১১১ গুণেরও বেশি আর এতে ৯০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রঝড়ের সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়ে ২৪০টি হয়েছে।
এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত ২১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
আরো পড়ুন>> কারসাজি দেখাতে গিয়ে ৫টি তলোয়ার গিলে মৃত্যুর মুখে শিল্পী!
মন্ত্রণালয়টির দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের এসব মৃত্যুর ৭৮ শতাংশ ঘটেছে বজ্রপাত, বন্যা ও ভারি বৃষ্টিজনিত কারণে।
চলতি শতকে ভারতে বর্ষাকালে তাপমাত্রা বেড়েছে আর ভবিষ্যতে ঘন ঘন দাবদাহ দেখা দিতে পারে বলে অগাস্টে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন দূষণকারী দেশ, তবে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এখানে মাথাপিছু নির্গমণের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে চলতি বছর সবচেয়ে উষ্ণ মার্চ মাস পার করেছে আর এপ্রিল ও মে-তে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা দেখেছে; এসবের জন্য প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে।
আরো পড়ুন>> পর্তুগালে আকস্মিক বন্যা, ১ জনের মৃত্যু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সালের পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী দাবদাহে এক লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও দাবদাহের মতো ঘটনায় অতিরিক্ত প্রায় আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হবে।
চলতি বছর ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী পাকিস্তান ভয়াবহ বন্যার মোকাবেলা করেছে। বন্যায় দেশটির এক তৃতীয়াংশ ডুবে গিয়েছিল, এতে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় আর লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগের শিকার হয়।