নতুন জীবনের খোঁজে কম্বোডিয়া যাচ্ছে কাভান
ছোট্ট একটি প্রকোষ্ঠে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে একা ছিল কাভান। প্রথম দিকে একটি সঙ্গী থাকলেও আট বছর আগে সেটিও মারা গেছে। তারপর থেকে একেবারেই নিঃসঙ্গ জীবন। পুষ্টিহীনতা আর কায়িক শ্রমের ঘাটতির কারণে নড়াচড়া অনেকটাই কমে গেছে। পায়ের নখগুলো ভেঙে গেছে, এমনভাবে বিকৃত হয়েছে যে হাঁটতে–দাঁড়াতে কষ্ট হয়। আচরণেও পরিবর্তন এসেছে তার।
ওয়াশিংটন পোস্টর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ‘বিশ্বের নিঃসঙ্গতম হাতি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কাভান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের মারগাজর চিড়িয়াখানায় রয়েছে হাতিটি। ১৯৮৫ সালে কাভান শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকে পাকিস্তানের জন্য উপহার হিসেবে এসেছিল। সেই উপহার তিন দশকের বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছে অত্যন্ত অযত্ন আর অবহেলায়। ২০১২ সালে মারা যায় কাবনের সঙ্গী সাহেলি।

.png)
কাভানের করুণ পরিস্থিতি প্রাণী অধিকার কর্মীদের নজরে আসে চার বছর আগে। তাঁদের চার বছরের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে কাবনকে কম্বোডিয়ার কোনো একটি অভয়ারণ্যে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বিশ্বের নিঃসঙ্গতম হাতিটি এরপর সুন্দর, স্বাভাবিক জীবন পাবে।
হাতিটিসহ মারগাজর চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর জন্য আন্দোলন চালানো প্রাণী কল্যাণ সংগঠন ফোর পজের মুখপাত্র মার্টিন বয়ের বলেন, কাভানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে স্থানান্তরের অনুমোদন পাওয়া গেছে। কম্বোডিয়ার অভয়ারণ্যে হাতিটি সঙ্গী খুঁজে পাবে, ভালো পরিবেশও পাবে। তিনি জানান, গত শুক্রবার তারা কাভানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

হাতিটি পরিদর্শনের সময় ফোর পজের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে জার্মানির লিবনিজ ইনস্টিটিউট ফর জু অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চের প্রধান প্রাণী চিকিৎসক ফ্রাঙ্ক গরিৎজও ছিলেন। তিনি বলেন, ছোট প্রকোষ্ঠে থাকার কারণে নড়াচড়ার সুযোগ খুব একটা ছিল না হাতিটির। এ ছাড়া দীর্ঘসময় সঙ্গীহীন থাকার কারণে তার আচরণেও পরিবর্তন এসেছে।