ভুয়া ওয়েবসাইটের ফাঁদে পা, প্রায় লাখ টাকা খোয়ালেন চিকিৎসক
করোনায় সবার আর্থিক অবস্থা বেহাল। মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। এই কঠিন সময়ে ফুড ডেলিভারি সংস্থা ভেবে ভুয়া ওয়েবসাইটের ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় লাখ টাকা খোয়ালেন এক নারী চিকিৎসক।
এ ঘটনায় ভারতের নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি নেতাজিনগরের বাসিন্দা ওই নারী চিকিৎসক একটি নামি খাবার সরবরাহকারী সংস্থার ভুয়া ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করেন। তার মাধ্যমে কিছু খাবার অর্ডারও দেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অর্ডার বাতিলও করে দেন তিনি। কিন্তু সংস্থাটি ঠিকই তার টাকা কেটে নেয়। টাকা ফেরত পেতে সংস্থার কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে যান তিনি। সার্চ ইঞ্জিন খুলে সংস্থাটির ওয়েবসাইট বের করেন। ওই ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে ফাঁদ পেতেছে প্রতারকরা যা ঘুণাক্ষরে টের পাননি নারী চিকিৎসক।
কাস্টমার কেয়ারের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতেই এক ব্যক্তি নিজেকে ওই খাবার সরবরাহকারী সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। টাকা ফেরত পেতে হলে নারীর মোবাইলে পাঠানো কিউআর কোডটি স্ক্যান করে দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে নারীর সঙ্গে তিনটি ফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাকে অনলাইন ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। তিনি কিউআর কোড স্ক্যান করা মাত্র তার মোবাইলের যাবতীয় তথ্য পাচার হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ওই নারীর দুটি বেসরকারি ও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৯৪ হাজার ৭৮৮ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যাংক ব্যাবস্থাপক জানান, ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দেয় প্রতারকরা। এমনকি, বেসরকারি ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের জাল ওয়েবসাইট বানায় তারা।
এদিকে ওই নারী চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে ঝাড়খণ্ডের ‘জামতাড়া গ্যাং’র হাত থাকতে পারে।