‘বিরল’ রোগ সারাতে ৪৮ দিনের শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারি!
চারপাশের সবাইকে আনন্দিত করে মায়ের কোলে জন্ম নিয়েছিল ফুটফুটে এক শিশু। কিন্তু কয়েকদিন পার হতেই সেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। মূলত সেপ্টিসেমিয়া থেকে শিশুটির হৃৎপিণ্ড সংক্রমিত হয়। এ রোগকে বিরল বলে আখ্যায়িত করছেন এক চিকিৎসক।
আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিশুটির হৃৎপিণ্ডের বা দিকের আলিন্দে (চাতাল) দেড় সেন্টিমিটারের একটি ‘ফাঙ্গাল বল’ ছিল। শুরুতে শিশুটির অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসা হলেও ওই বল বেড়ে বা দিকের আলিন্দ দখল করে নেয়। ফলে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। তখনই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। এতে ওপেন হার্ট সার্জারির মুখে পড়ে ৪৮ দিনের শিশুটি।
সার্জারির পর ‘ফাঙাল বল’টি বের করা হয়। হৃৎপিণ্ড পরিষ্কার করে ইনট্রাভেনাস ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার চ্যানেলও পাল্টানো হয়।
এই ক্ষুদে শিশুর চার ঘণ্টার ওপেন হার্ট সার্জারিতে নেতৃত্ব দেন বাইপাসের অ্যাপোলো গ্লেনেগল্স হাসপাতালে কার্ডিয়োথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জন সুশান মুখোপাধ্যায়।
বলের এক্সরেতে দেখা গেছে, ওই ছত্রাকটি ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের। এক লাখ শিশুর মধ্যেই বেশি হলে ১১২ জন ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডিটিসে আক্রান্ত হয়।
চিকিৎসক সুশান মুখোপাধ্যায় জানান, জন্মের পরেই শিশুটির সেপ্টিসেমিয়া হয়েছিল। সেই কারণেই তৈরি হয় ওই ছত্রাক। হৃৎপিণ্ডের বা দিকের আলিন্দের থেকে বিশুদ্ধ রক্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি মুহূর্তে সেখানে থাকা ওই ফাঙ্গাল বল ভেঙে রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শিশুটির স্ট্রোক হতে পারত। এমনকি, মস্তিষ্ক, কিডনি-সহ সব অঙ্গ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। অপারেশনের পর তার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসাও হয়।
নিওনেটাল ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে শিশুটির চিকিৎসক ছিলেন কৌস্তভ চৌধুরী ও অমৃতা রায়। সারা জীবন ওকে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসা চালাতে হবে বলে জানান এ দুই চিকিৎসক।
কৌস্তভ বলেন, অস্ত্রোপচারের পরে ৪২ দিনের ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টি-ফাঙ্গাল কোর্স করানো হয়েছে। এবার ওষুধ খেলেই হবে। তবে শিশুটিকে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
কার্ডিয়োথোরাসিক শল্য চিকিৎসক কুণাল সরকার জানান, এত ছোট শিশুর হৃৎপিণ্ডে ছত্রাকের সংক্রমণের বিষয়টি বিরল। সদ্যোজাতের অঙ্গ ও নার্ভ অপরিণত থাকায় অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি ছিল। এছাড়া সংক্রমণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এ সংক্রমণ ফিরে আসারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই অ্যান্টি-ফাঙ্গাল চিকিৎসার পাশাপাশি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার দিকে চিকিৎসকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।