ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ ধর্ম ]

হাতিমে কাবা: কাবার বাইরে কাবার অংশ 

প্রিয়ম হাসান
প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ৩১ জুলাই ২০১৯
হাতিমে কাবা: কাবার বাইরে কাবার অংশ 
হাতিমে কাবা (ফাইল ফটো)

মক্কার পবিত্র কাবা শরিফ সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত তথা কাঁধ সমান উঁচু অর্ধ চাঁদের ন্যায় গোলাকার স্থানকে হাতিমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল বলা হয়। 

তাওয়াফ কারিরা ৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ১.৫ মিটার পুরো দেয়াল বেষ্টিত স্থানসহ (হাতিমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল) তাওয়াফ করে থাকে।

আরো পড়ুন>>> পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফের ধারাবাহিক নিয়ম

এটিও কাবার মূল অংশ। এখানে নামাজ পড়া এবং দোয়া করা, কাবা ঘরের দোয়া করার সমান। আর এ কারণেই তাওয়াফের সময় হাতিমে কাবাকেও তাওয়াফ করতে হয়। এ স্থানের দোয়া আল্লাহ সব সময় কবুল করে নেন।

পবিত্র কাবা শরিফহাতিমে কাবা: কাবার বাইরে কাবার অংশ। ফাইল ফটো 

নিচে হিজরে ইসমাইল বা হাতিম সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু তথ্য দেয়া হলো-

(১) হাতিম মূলত মূল কাবাঘরেরই অংশ। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন কাবা নির্মাণ করেন, তখন হাতিম সহকারে কাবার সম্পূর্ণ ভেতের উপরে কাবাকে নির্মাণ করেন। সুতরাং, তাওয়াফের সময় হাতিমের এই অংশ সহকারে তাওয়াফ করতে হয়।

(২) পরবর্তীতে কুরাইশদের দ্বারা কাবার পুনঃনির্মাণকালে কাবা আয়তক্ষেত্র থেকে বর্গক্ষেত্রে রূপ নেয়। কাবার  নির্মাণের সময় কুরাইশদের শুধু হালাল উপার্জন খরচ করার ওয়াদা করে। কাবার নির্মাণকাজের সূচনার পর কাবার এইরূপ বর্গাকার কাঠামোতেই তাদের হালাল অর্থ শেষ হয়ে যায়। ফলে তারা কাবাকে এই বর্গাকার আকৃতিতেই রেখে দেয়। পরবর্তীতেও যতবারই তারা কাবার পুনঃনির্মাণ করে, এই বর্গাকার কাঠামো বজায় রেখেই তারা কাবার পুনঃনির্মাণ করে।   

অনেকেই বলেন, হিজরে ইসমাইলের এই স্থানে হজরত ইসমাইল (আ.) এবং তার মা হজরত হাজেরা (আ.) এর কবর রয়েছে। তবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

(৩) রাসূল (সা.) এর ৩৫ বছর বয়সে কুরাইশরা কাবা একবার পুনঃনির্মাণ করে। তখন প্রথমবারের মত কাবার হাতিম অংশটিকে আলাদাভাবে কাঠের কাঠামো দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়। রাসূল (সা.) তার চাচা আব্বাস (রা.) এর সঙ্গে তখন কাবার এই নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন।  

(৪) হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘আমি একবার নামাজ আদায়ের জন্য কাবার ভেতরে প্রবেশের জন্য গিয়েছিলাম। রাসূল (সা.) আমাকে ধরে আল-হিজরের (হাতিম) ভেতর ঢুকিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ‘কাবায় প্রবেশের যদি নিয়ত কর, তবে আল-হিজরের ভেতর নামাজ আদায় কর। কেননা এটিও কাবার অংশ। তোমার গোত্র একে পুনঃনির্মাণের সময় ছোট করে তৈরি করে এবং এই অংশটিকে কাবার বাইরে রেখে দেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ)।

(৫) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি রাসূল (সা.)-কে প্রশ্ন করছেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি এই ঘরে (কাবা) প্রবেশ করতে পারবো না?’ রাসূল (সা.) বলেন, ‘হিজরায় (হাতিমে) প্রবেশ কর কেননা এটি এই ঘরের অংশ।’ (সুনানে নাসায়ী)।

(৬) হজরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেছেন, রাসূল (সা.) বলেন, ‘যখন কুরাইশরা আমাকে বিশ্বাস করেনি (ইসরা-মিরাজ), আমি তখন আল-হিজরের ভেতর দাঁড়ালাম এবং আল্লাহ আমার সামনে জেরুসালেমকে তুলে ধরলেন। আমি তখন দেখে দেখে তাদের কাছে আমার দেখা বস্তুর বর্ণনা দিলাম।’ (সহীহ বুখারী)।

(৭) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমার গোত্র খুব সম্প্রতি ইসলাম গ্রহণ না করতো, তবে আমি কাবার সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতাম এবং কাবার দরজাকে ভূমি বরাবর নিচে নামিয়ে আনতাম এবং হিজরকে (হাতিম) মিলিয়ে দিতাম (কাবার সঙ্গে এক করে দিতাম)।’ (সহীহ মুসলিম)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!