ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

সঙ্গম ও মশলাদার খাবার থেকে দূরে থেকেই ১২৬ বছর বয়সেও ফিট

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ২৭ মার্চ ২০২২
সঙ্গম ও মশলাদার খাবার থেকে দূরে থেকেই ১২৬ বছর বয়সেও ফিট
স্বামী শিবানন্দ। ছবি: সংগৃহীত

বয়স ১২৫ বছর; কে বলবে! যোগাসনে বিশেষ অবদানের জন্য সোমবার পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছেন স্বামী শিবানন্দ। শিবানন্দ সম্ভবত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক পদ্ম পুরস্কার বিজয়ী। এই বয়সে তার  ফিটনেস এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

স্বামী শিবানন্দ ‘যোগ সেবক’ হিসেবে খ্যাত। শতায়ু এই বর্ষীয়ান পদ্ম সম্মান গ্রহণের অনুষ্ঠানে নিজের পায়ে হেঁটে প্রবেশ করেন। মাটিতে মাথা রেখে জানান প্রণাম। এমন এক ব্যক্তিত্বের প্রবল সতেজভাব ও ফিটনেস অনেককেই অবাক করেছে।

বারাণসীর ১২৬ বছরের এই বৃদ্ধ কী এমন বিশেষ ডায়েট-চার্ট বা রুটিন রয়েছে শিবানন্দ স্বামীর কাছে , যা তাকে এত বছর পর্যন্ত ফিট রেখেছে? একবার এই প্রশ্নের জবাবে কয়েক বছর আগে শিবানন্দ স্বামী বলেন, রোজ যোগভ্যাসই তাকে সুস্থ রেখেছে।

কোন রুটিনে রয়েছেন শিবানন্দ স্বামী?

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিবানন্দ স্বামী বলেন, তিনি সঙ্গম থেকে যেমন দূরে থেকেছেন আজীবন, তেমনই মশলাদার খাবার থেকেও ছিলেন দূরে। শুধুমাত্র এই আদর্শ ধরে রেখেই তিনি আজীবন নিজেকে ফিট রেখে গিয়েছেন।

পাসপোর্টের তথ্যমতে, শিবানন্দ স্বামী ১৮৯৬ সালের ৮ অগাস্ট জন্মগ্রহণ করেন। এই যুগপুরুষ তিনটি শতাব্দীকে নিজের চোখে দেখেছেন। আর তার মাঝে বিভিন্ন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ঝড়ঝাপ্টার মাঝে নিজেকে এভাবে ফিট রেখে কার্যত নজির গড়েছেন এই পদ্মসম্মান জয়ী।

শিবানন্দ স্বামী বলছেন, তিনি ১২৬ বছর বয়সে এসেও সমান তালে রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান যোগভ্যাসে। অত্যন্ত নিয়মানুবর্তিতা মেনে তিনি জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। তার পাতে শুধুই সেদ্ধ খাবারদাবার পড়ে। ৫ ফুট ২ ইঞ্চি দীর্ঘ এই সন্ন্যাসী সেদ্ধ খাবারই পছন্দ করেন। তার খাবারে থাকে বিভিন্ন সবজি, ভাত, ডাল ও লঙ্কা। থাকে না তেল বা মশলা। শুধু তাই নয়, দুধ বা ফল তিনি খান না। ছোটবেলায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি। বহুবার না খেয়ে রাতে ঘুমোনোর ঘটনাও মন করতে পারেন তিনি।

মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজের মা বাবাকে হারিয়েছিলেন শিবানন্দ স্বামী। এরপর পরিবার তাকে এক আধ্যাত্মিক গুরুর হাতে তুলে দেয়। তারপর থেকেই ভক্তি মার্গে যাতায়াত করেছেন তিনি। তিনি বলছেন, অল্পে সন্তুষ্ট থাকাই সুখের রাস্তা। বর্তমান যুগে বহু কিছু প্রাপ্তির মাঝে অস্বস্তি, অসন্তুষ্টি বেড়ে গিয়েছে। ফলে সাধারণ জীবনযাপনেই মিশে থাকে কাঙ্খিত সুখ।

মানব কল্যাণের জন্য তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি গত ৫০ বছর ধরে পুরীতে কুষ্ঠ-আক্রান্ত মানুষের সেবা করছেন। তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!