বিরল প্রজাতির ঈগলের সন্ধান
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি আহত ঈগল পাখি উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামে একটি লাউয়ের মাচার ওপর ওই ঈগলটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে আব্দুর রহিম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ঈগলটিকে উদ্ধার করেন। ঈগলটির ডানা ক্ষতবিক্ষত।
স্থানীয়দের ধারণা, পাখি শিকারিদের কেউ হয়তোবা গুলি করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সকালে আহত অবস্থায় লাউয়ের মাচার ওপর ঈগলটি দেখি। উড়ে যাওয়া বা হাঁটা-চলা করতে পারছে না পাখিটি।
আব্দুর রহিম জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে পাখিটি উদ্ধার করে, তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য অনুরোধ করেন। তবে সেখান থেকে কোনো সাহায্য পাননি তিনি। তিনি পাখিটিকে মাছ ও মাংস খেতে দিয়েছিলেন। তবে অসুস্থ থাকায় পাখিটি কোনো খাবার খাচ্ছে না। পাখিটির ওজন প্রায় ১ কেজির মতো হবে।
আরো পড়ুন: সাপের মতো এই প্রজাপতি আগে দেখেছেন কি?
একটি পূর্ণবয়স্ক ঈগলের ওজন প্রায় ৩০ কেজি এবং লম্বা প্রায় ৩০-৩৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। ঈগল একপ্রকার বৃহৎ আকার, শক্তিধর, দক্ষ শিকারি পাখি। ঈগল সাধারণত বনে বা ঘন জঙ্গলে বসবাস করে থাকে। বানর, ছোট জাতের পাখি, টিকটিকি, হাস-মুরগী খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ঈগল ১১,০০০ ফুট উপরে উঠতে পারে।
শীতকালে এরা তুলনামুলক কম শীত এলাকা বা দেশে চলে যায়। এরা জনমানব এলাকার বাইরে এবং কমপক্ষে ১০০ ফুট উপরে বাসা তৈরি করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একত্রে বসবাস করে প্রজনন ঘটায়। তাদের জীবন রক্ষার জন্য বড় হাতিয়ার তাদের পায়ের নখ। নখগুলো এতই তীক্ষ্ণ যে নিমিষের মধ্যে শিকারকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তবে এরা এখন বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশে এদের দেখা পাওয়া যায়না বললেই চলে। যদিও বাংলাদেশে একসময় সাদা বুকের সমুদ্র ঈগল , কুড়া বা পলাশ মেছো ঈগল, কুল্লে বা সাপখেকো ঝুঁটি ঈগল, ছোটনখের ঈগল দেখা যেত কিন্তু অধুনা তারা বিলুপ্তির পথে।
আরো পড়ুন: শীতেই দেখা মেলে বিরল চামচঠুঁটোর
সম্প্রতি পাওয়া এই বিরল প্রজাতির ঈগল দেখাচ্ছে সম্ভাবনা। এদের এখনোই সংরক্ষণ না করলে হারিয়ে যাবে অচিরেই। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জাতের ঈগল হল হাস্ট ঈগল। ১৮৭৪ সালে জুলিয়াস ফন হাস্ট নিউজিল্যান্ডে এই জাতের ঈগলের প্রথম দেখা পান বলে তার নামানুসারে এই জাতের ঈগলের এই নামকরণ করা হয়। অবশ্য স্থানীয় মাওরি জতের মানুষের কাছে এরা আগে থেকেই সুপরিচিত ছিল। এদের ডানামেলা অবস্থায় প্রস্থ তিন মিটার পর্যন্ত হত, ওজন হত আঠারো থেকে কুড়ি কিলোগ্রাম। বর্তমানে এরা বিলুপ্ত।