ছদ্মবেশ ধারণে ওস্তাদ এই মাছ
কমলালেবুর আকৃতির পৃথিবীর তিনভাগের দুইভাগের বেশিই পানি। আর বাকিটা মাটি। সাগর মহাসাগরে রয়েছে হাজার হাজার প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী। অনেকগুলো সম্পর্কে তো এখনো জানা সম্ভব হয় নি। তবে বিভিন্ন সময় গবেষকরা সামুদ্রিক মাছ এবং প্রাণীর সন্ধান পাচ্ছেন।
এসব প্রাণী এবং মাছের চরিত্র, বৈশিষ্ট্য চমকপ্রদ করছে বিশ্বকে। তেমনই এক মাছের কথা জানাবো আজ। দেখতে ফ্ল্যাট বা চ্যাপ্টা হওয়ায় এর নামও হয়েছে ফ্ল্যাটফিশ। এটি অগভীর সমুদ্রের একটি প্রাণী। সমুদ্র তলদেশে বাস করে এরা। যার প্রায় পাঁচশত প্রজাতি রয়েছে। দেখতে অনেকটা চাঁদা মাছের মতো চ্যাপ্টা। এই ফ্ল্যাটফিশের দুইটি বৈশিষ্ট রয়েছে।
ছদ্মবেশ ধারণে বেশ ওস্তাদ এই সামুদ্রিক মাছটি। ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ ধারণ করতে পরিনত প্ল্যাটফিশ বেশীরভাগ সময় সমুদ্রের তলদেশের মাটিতে শুয়ে থাকে। এ সময়ে শত্রু থেকে আত্মরক্ষা ও শিকার ধরার প্রয়োজনে এটি যেখানে শুয়ে থাকে অল্প সময়ের ভিতরেই সেই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে শরীরের রং পরিবর্তন করে ফেলে।
আরো পড়ুন: নব্বই দশকের এই ক্যারাল এখন বিলীন হওয়ার পথে
চোখের অবস্থান পরিবর্তন করে পারে এই সামুদ্রিক মাছটি। সদ্য জন্ম নেয়া ফ্ল্যাটফিশের দুইটি চোঁখ শরীরের দুই পাশে থাকলেও পরিনত ফ্ল্যাটফিশের দুইটি চোঁখই শরীরের একদিকে পাশাপাশি অবস্থান নেয়। প্রথমাবস্থায় যখন এটি সমুদ্রতলে শুয়ে থাকে তখন এর একটি চোঁখ উপরের দিকে এবং আরেকটি চোঁখ নীচে মাটির দিকে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর নীচের চোঁখটি অবস্থান পরিবর্তণ করে উপরের অন্য চোঁখটির পাশে চলে আসে।
ফ্ল্যাটফিশের যে পাশটি নীচের দিকে থাকে সেই পাশটির রং থাকে হালকা ধূসর। আর উপরের দিকের পাশটি পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন হয়। আরেকটি মজার কথা হলো ফ্ল্যাট ফিশের একটি প্রজাতি সব সময় একই দিকটি নীচের দিকে রেখে সমুদ্র তলে শুয়ে থাকে। কোনো প্রজাতি আছে বাম দিকে আর কোনো প্রজাতি ডান দিক হয়ে শুয়ে থাকতে পারে। সেই হিসেবে বাম বা ডান চোঁখটি অবস্থান পরিবর্তন করে।
আরো পড়ুন: বিশ্বের ভয়ংকর এসব কারাগার এখন দর্শনীয় স্থান
আটলান্টিক ও প্যাসিফিক মহাসাগরে ফ্ল্যাটফিশ সহজলভ্য। বড় প্রজাতির ফ্ল্যাটফিশগুলো জনপ্রিয় খাবার হিসেবে বিবেচিত উপকুলীয় দেশগুলোতে।ফ্ল্যাটফিশের পূর্বসূরী হিসেবে ৫০ মিলিয়ন আগে সমুদ্রে বিচরণ করা এ্যাম্ফিস্টিয়ামকে ধরা হয়। প্রাপ্ত এই ফসিল থেকে দেখা যায় এর দুটি চোঁখ শরীরের একই দিকে না থাকলেও এর একটি চোঁখ মাথার উপরে চলে এসেছে। ধারনা করা হয় বিবর্তনের মধ্যবর্তী অবস্থানটা হচ্ছে এই এ্যাম্ফিস্টিয়াম।